https://www.prothomalony.com/

13146

north-america

উত্তর আমেরিকা

চাকরি হারাচ্ছেন সাড়ে ৬শ ফিসক্যাল ইন্টারমিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের হাজারো কর্মী

সিডিপেপ কর্মসূচি পিপিএলে স্থানান্তর

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৫ ০৭:৫৫

নাজনীন নাহার—বয়স ৩০ পেরিয়েছে। ৫ বছর আগে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ থেকে পাড়ি জমিয়েছিলের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস এলাকার একটি ফিসক্যাল ইন্টারমিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানে পে-রোল অপারেটর হিসেবে কাজ করে চলতো তার সংসার। রূপায়ন দেব ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন পড়াশোনা করতে। পড়াশোনার পাশাপাশি ব্রঙ্কসের একটি  প্রতিষ্ঠানে কেয়ার কোঅর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করতেন তিনি। নিজের খরচের পাশাপাশি দেশের বাড়িতে বাবা মায়ের জন্যও অর্থ যেতো এই চাকুরির বেতন থেকে। 

নাজনীন-রূপায়নের মতো এমন হাজার হাজার কর্মীর উপার্জনের মাধ্যম ছিলো নিউইয়র্কের হোমকেয়ার ফিসক্যাল ইন্টারমিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে সম্প্রতি সিডিপেপ কর্মসূচি পিপিএলে রূপান্তরের সিদ্ধান্তের পর বন্ধ হওয়ার পথে প্রায় সাড়ে ৬শ আর্থিক মধ্যস্থকারী প্রতিষ্ঠান। আর চাকরি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এসব প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার কর্মচারী। 

এছাড়া এই পরিবর্তনের ফলে ব্যক্তিগত সহায়কদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা সুবিধাও কমে যেতে পারে। যার ফলে আরও কর্মী এই পেশা ছাড়তে বাধ্য হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি কর্মীরা চাকরি হারিয়ে একেবারেই ভেঙে পড়ছেন। 

জামাল হোসেন নামে এক কেয়ার কোঅর্ডিনেটর বলেন, আমরা প্রতিদিন ভোক্তাদের সঙ্গে কাজ করি। তাদের সমস্যা শুনি, সহায়তা করি। এখন হঠাৎ এই পরিবর্তনে শুধু আমাদের নয়, সেবা গ্রহীতাদেরও জীবন ঝুঁকিতে পড়বেন।

সাবিহা ইসলাম নাসে এক ফিসকাল ইন্টারমিডিয়ারির পরিচালক বলেন, আমরা বিগত ১০ বছর ধরে নিউইয়র্কে সিডিপেপ সেবা দিয়ে আসছি। হঠাৎ করে আমাদের বাদ দিয়ে শুধুমাত্র একটি বহিরাগত কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হলো, যারা স্থানীয় বাস্তবতা বোঝে না। এতে হাজারো কর্মী ও ক্লায়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

নিউইয়র্কের জামেস্টাউনে অবস্থিত হোম হেলথ কেয়ার সংস্থা ভেঞ্চার ফোর্থ ইনক। সম্প্রতি তাদের ৪১৭ কর্মীর মধ্যে ২৮০ জনকে ছাঁটাই করেছে। যা জামেস্টাউন অফিসের দুই-তৃতীয়াংশ কর্মীকে প্রভাবিত করেছে। জামেস্টাউনের মতো অনো প্রতিষ্ঠান কর্মীদের ছাঁটাই করার পরিকল্পনা করছেন।

রাজ্য সরকারের মতে, নতুন বাজেট পরিকল্পনায় খরচ কমানোর লক্ষ্যে রাজ্য সরকার এই পরিবর্তন এনেছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এতে চাকরি হারাবেন হাজার হাজার প্রশাসনিক কর্মী, পে-রোল অপারেটর, কেয়ার কোঅর্ডিনেটর এবং অন্যান্য স্টাফ। অনেক প্রতিষ্ঠানের দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

ফিসক্যাল ইন্টারমিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলো এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া অস্বচ্ছ ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ তুলেছেন। যদিও আদালত একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এখনো অনিশ্চিত।

প্রিডম কেয়ার নামে একটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০ হাজার সিডিপেপ ভোক্তাকে সেবা প্রদান করে থাকে। সিডিপেপ পিপিএলে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের পর প্রতিষ্ঠানটি  নিউইয়র্ক রাজ্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। যেখানে তারা অভিযোগ করেছে, পিপিএলকে সুবিধা দিতে বিডিং প্রক্রিয়াটি 'প্রতারণামূলক' ছিল । 

এদিকে নিউইয়র্ক লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স গ্রুপ এবং অন্যান্য আইনজীবীরা রূপান্তরের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের সঙ্গে একটি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা চুক্তিতে পৌঁছেছেন। যার ফলে সিডিপেপ ভোক্তারা ১৫ মে পর্যন্ত পিপিএলে নিবন্ধনের সময় পেয়েছেন। অপরদিকে ব্যক্তিগত সহায়কদের জন্য এই সময়সীমা ৬ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১ এপ্রিল  নিউইয়র্ক স্টেটে সিডিপ্যাপ কর্মসূচির অধীনে আগের ছয় শতাধিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে এককভাবে পেমেন্ট প্রসেসর হিসেবে পিপিএলকে নিযুক্ত করা হয়। সম্প্রতি ফেডারেল জজ মি. ব্লকের নির্দেশনায় এই সময়সীমা বাড়িয়েছেন।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন