https://www.prothomalony.com/
13107
north-america
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৫ ০১:১৭
১৭ বছর বয়সী কিশোর—নিকিতা ক্যাসাপ। নৃশংসভাবে খুন করেছেন নিজের মা এবং সৎপিতাকে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার একটি চক্রান্ত। যা উগ্র ডানপন্থী আদর্শে উদ্বুদ্ধ ছিল। ক্যাসাপ বর্তমানে ওয়াকেশা কাউন্টি কারাগারে আটক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রথম শ্রেণির দ্বৈত হত্যা, মরদেহ গোপন, চুরির অভিযোগ ও মিথ্যা পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ আদায়।
গত ১ মার্চ ওয়াকেশা কাউন্টি শেরিফের অফিস জানায়, ক্যাসাপের মা তাতিয়ানা ক্যাসাপ (৩৫) এবং সৎপিতা ডোনাল্ড মায়ারার (৫১) মরদেহ তাদের বাসভবন থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ গ্রেফতার করার পর জানা যায়, ক্যাসাপ তার মোবাইল ডিভাইসে উগ্র ডানপন্থী জঙ্গি সংগঠন "The Order of Nine Angles"-এর সাথে সম্পর্কিত ঘৃণামূলক ও উসকানিমূলক কনটেন্ট সংরক্ষণ করছিলেন। ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) জানায়, ক্যাসাপ মার্কিন সরকারের উচ্ছেদ এবং ট্রাম্প হত্যার পরিকল্পনা করছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যাসাপের ডায়েরিতে পাওয়া গেছে ‘হেইল হিটলার’ বার্তা এবং শ্বেতাঙ্গ জাতির প্রতিরক্ষায় তার গড়া পরিকল্পনা। ডায়েরিতে অ্যাডলফ হিটলারের ছবি ও উগ্র বার্তাগুলো পাওয়া যায়। যা তার উগ্রবাদী চিন্তাভাবনাকে স্পষ্ট করে। তদন্তকারীদের মতে, ক্যাসাপ একটি ড্রোন এবং বিস্ফোরক সংগ্রহ করছিলেন। যার মাধ্যমে তিনি একটি বড় আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।
গত ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শুনানিতে, ক্যাসাপ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তিনি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দোষ স্বীকার বা অস্বীকার করেননি। পরবর্তী শুনানি আগামী ৭ মে অনুষ্ঠিত হবে। এই ঘটনা শুধু একটি পারিবারিক হত্যাকাণ্ডই নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও চরমপন্থী উগ্রবাদ মোকাবিলায় নতুন এক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে।
আমেরিকার সাধারণ জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন তাকিয়ে রয়েছে আদালতের পরবর্তী রায়ের দিকে, যা হয়তো এই চরমপন্থী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বৃহত্তর প্রতিরোধ গড়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন