https://www.prothomalony.com/
13099
north-america
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৫ ১৬:২০
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার শুক্রবার (১২ এপ্রিল) উর্ধ্বমুখী প্রবণতায় সপ্তাহের লেনদেন শেষ করেছে, যা ছিল সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম অস্থির একটি সপ্তাহ। চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধের চরমে পৌঁছানো এবং মূল্যস্ফীতির উচ্চমাত্রার শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও বাজারে এ ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যায়।
ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ সূচক ৬১৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক ২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে, ১০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ড বিক্রির হিড়িকে ফলন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে- যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বুধবার (৯ এপ্রিল) ঘোষিত ‘পারস্পরিক শুল্কনীতি’ ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের পর একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ভোক্তা মনোভাব জরিপে দেখা গেছে, আগামী এক বছরের জন্য মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা ১৯৮১ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বাণিজ্য যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে শুক্রবার চীন যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ১২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। যদিও তারা জানায়, এ শুল্ক আর বাড়ানো হবে না। এ পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণা করা ১৪৫ শতাংশ শুল্কের জবাবে এসেছে।
এদিকে ব্ল্যাকরকের প্রধান নির্বাহী ল্যারি ফিঙ্ক সতর্ক করে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি মন্দার দ্বারপ্রান্তে।
‘আমার ধারণা আমরা ইতোমধ্যেই মন্দার মধ্যে রয়েছি, বা খুব কাছাকাছি।’
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুক্রবার (১১ এপ্রিল) ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে জানান, আমাদের শুল্কনীতি খুব ভালো চলছে। এটা আমেরিকা এবং বিশ্বের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ!
বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) কিছুটা পতনের মধ্য দিয়ে মার্কেট বন্ধ হলেও বুধবার ট্রাম্পের শুল্ক স্থগিতাদেশের ঘোষণায় ঐতিহাসিক র্যালি দেখা যায় মার্কেটে। তবে শুক্রবার সকালে আবার চীনের পাল্টা শুল্ক ঘোষণায় কিছুটা অস্থিরতা ফিরে আসে।
এশীয় বাজারগুলোর মধ্যে টোকিওর নিকেই ২২৫ সূচক ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি প্রায় ১ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচক ০ দশমিক ৯৫ শতাংশ কমেছে। তবে চীনা বাজারগুলোতে বিনিয়োগকারীরা সরকারের নতুন প্রণোদনা ঘোষণায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছে- হংকংয়ের হ্যাং সেন সূচক ২ শতাংশ, সাংহাই সূচক ০.৬ শতাংশ এবং শেনঝেন সূচক ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।
ভারতের নিফটি ৫০ সূচক ১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং তাইওয়ানের তাইএক্স সূচক ২ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
ইউরোপীয় বাজারগুলো শুক্রবার সকালে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে। এসটিওএক্সএক্স ৬০০ সূচক ০ দশমিক ৩ শতাংশ, জার্মানির ডিএএক্স ০ দশমিক ২ শতাংশ, ফ্রান্সের সিএসি ৪০ ০.১৬ শতাংশ এবং ব্রিটেনের এফটিএসই ১০০ সূচক ০ দশমিক ০৩ শতাংশ হ্রাস পায়।
এমন প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, যদি কাঙ্ক্ষিত চুক্তি না হয়, তাহলে পূর্বের অবস্থানে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। ৯০ দিনের স্থগিতাদেশ বাড়ানো হবে কি না- সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সময় এলে দেখা যাবে।’
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জিং হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এই মুহূর্তের ঊর্ধ্বগতি বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে। তবে অদূর ভবিষ্যতে এ পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল থাকবে, তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, বাণিজ্য কূটনীতি এবং বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়ার ওপর।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন