https://www.prothomalony.com/

13052

north-america

উত্তর আমেরিকা

ট্রাম্পের শুল্ক নীতি এবং এর আর্থিক প্রভাব: সঙ্কটের দিকে কি ধাবিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৫ ০৫:৩৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেলের দাম ও ঋণের ব্যয়ের পতনকে তার নতুন শুল্ক নীতির সফলতার সংকেত হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘এই পরিবর্তনগুলো আসলে অর্থনৈতিক মন্দার পূর্বাভাস, যা বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা কমাতে এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ঋণপত্রে (বন্ডে) অর্থের প্রবাহ বাড়াতে পারে।’

অর্থনৈতিক ধীরগতির সংকেত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পর বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার ফলে তেলের দাম গত সপ্তাহে প্রায় ১৫ শতাংশ কমে গেছে। সেই সাথে, ১০ বছর মেয়াদী ট্রেজারি ঋণপত্রের (বন্ডের) সুদের হার (যা ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করে) ৪ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, যা প্রায় ছয় মাসের মধ্যে প্রথম বার।

এ বিষয়ে মর্নিংস্টার ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের প্রধান মাল্টি-অ্যাসেট স্ট্র্যাটেজিস্ট ডমিনিক পাপালার্ডো এবিসি নিউজকে বলেন, ‘তেলের দাম ও ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কমে যাওয়ার মূল কারণ হল ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ। এটি সঙ্কেত দেয় যে অর্থনৈতিক স্লোডাউন আসতে পারে।’

মন্দার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘তেলের দাম কমার পেছনে প্রধান কারণ হল আগামী দিনে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, যা তেলের চাহিদা কমাবে।’

এদিকে, স্টক মার্কেটের পতনও এই সংকটের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তেলের দাম কমলে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি মিলবে, যেমন কমে যেতে পারে পেট্রোলের দাম।

গ্যাসবাডির পেট্রোলিয়াম বিশ্লেষক প্যাট্রিক ডি হান বলেন, ‘তেলের দাম এখন অতীতের তুলনায় অনেক কম, বিশেষ করে ২০২১ সালের প্রথম দিকে যা ছিল।’

ট্রাম্পের দাবী এবং বাস্তবতা:

এদিকে, ট্রাম্প তার শুল্ক নীতির প্রশংসা করে বলেছেন, ‘তেলের দাম এবং ঋণের ব্যয় কমে যাওয়া আমাদের অর্থনীতির জন্য ভাল সংকেত।’

তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, গ্যাসের গ্যালন দাম আড়াই ডলারে নেমে আসবে, যদিও বর্তমানে গ্যাসের গ্যালন দাম ৩ দশমিক ২৫ ডলার।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘তেলের দাম ও ঋণের ব্যয়ের কমে যাওয়া সাধারণত অর্থনৈতিক মন্দার পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হয়, যা ভবিষ্যতের জন্য আরও নেতিবাচক পরিস্থিতি নির্দেশ করতে পারে।’

অন্যদিকে, মন্দার আশঙ্কা ছাড়াও, তেলের দাম ও ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারের পতন কিছু সময়ের জন্য ভোক্তাদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনতে পারে, কিন্তু এর প্রভাব সম্ভবত দীর্ঘস্থায়ী হবে না।’

পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে শুল্ক নীতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুল্ক নীতির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উন্নত মানের কারিগরি চাকরির সুযোগ তৈরির কথা বলেছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, শুল্ক নীতি ও এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

শেষপর্যন্ত, যদিও ট্রাম্প প্রশাসন কিছু পরিমাণ শুল্ক কমানোর আলোচনা শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তেলের দাম এবং ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারের পতন আসলে শিগগিরই বিপদের সংকেত হতে পারে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন