https://www.prothomalony.com/
13048
north-america
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৫ ০১:১৫
শনিবার, ৫ এপ্রিল। এডিসনের ওয়াইএমসিএ অডিটোরিয়ামের মঞ্চজুড়ে আলোর ঝিলিক। বাঙালির হৃদয়ের গহিনে জমে থাকা সুর-স্মৃতিরা যেন জেগে উঠল আর্টল্যাব মিডিয়ার পঞ্চম স্প্রিং কনসার্টে। শুধু গানের অনুষ্ঠান নয়—এ যেন প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশের শিকড়কে জড়িয়ে ধরার এক আবেগঘন আয়োজন।

"আনন্দলোকে, মঙ্গলালোকে"র কোরাসে মুখরিত হলঘর। রবীন্দ্রনাথের সেই অমর বাণী যেন ছুঁয়ে গেল প্রতিটি হৃদয়। এরপরই নজরুলের "দাঁড়ালে দুয়ারে"—গেয়ে শোনালেন জয়ী। দর্শকদের চোখে-মুখে ফুটে উঠল ৭১-এর অগ্নিঝরা দিনগুলোর ছবি। ফাগুনের হাওয়ায় মালিনী-শামীমের কণ্ঠে ভেসে এল "ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায়", আর অরুন্ধতী-নুপুরের গলায় হিন্দি গজলের মায়া ("মেরে দিল ইয়ে পুকারে", "ঘোরে পে সোয়ার") যেন প্রেমের নতুন ভাষা লিখে দিল।
জানুয়ারির ট্যালেন্ট হান্টের তিন ফাইনালিস্ট—সঞ্জিত পান্ডা, প্রিয়াসা সান্যাল ও কান্থী বুলুসু—মাতিয়ে দিলেন দর্শকদের। কান্থীর গাওয়া অ্যাডেলের "রোলিং ইন দ্য ডিপ" এ যেন ফুটে উঠল এক তরুণীর আবেগের জয়গান। দর্শকের ভোটে বিজয়ী হয়ে তিনি পেলেন নিজের মিউজিক ভিডিও তৈরির সুযোগ। আর্টল্যাবের প্রযোজনায় এই তারকা উদয় হবে শীঘ্রই!
রাজিব সরকারের গিটারে বেজে উঠল লোকসঙ্গীতের মেলোডি—"আমায় ভাসাইলিরে" আর "সুরিয়া আঁখিও ওয়ালে"র মিশ্রণে উচ্ছ্বসিত হল দর্শকরা। দেবায়নের রক গানে ফুটে উঠল তরুণ প্রজন্মের বিদ্রোহ, আর জয়শ্রীর কণ্ঠে "আমি বনফুলগো" শুনে অনেকের চোখেই জল। এসএন্ডআরের "যদি আবার দেখা হয়" বা "সখি তোরা প্রেম করিও না" গেয়ে স্মৃতির খাতায় নতুন পাতা যোগ করলেন শিল্পীরা।
অজন্তা ও শাব্বিরের কণ্ঠে রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর "চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়" এবং ডন ম্যাকলিনের "স্ট্যারি স্ট্যারি নাইট" মিলেমিশে হয়ে গেল এক মর্মস্পর্শী কাব্য। সুরের মাঝে যেন বেজে উঠল সকল হারানোর বেদনা। উস্তাদ রশিদ খানের শিষ্য রনি মুখার্জির রাগ কিরোয়ানি ও মালহারে মিশে গেলেন শ্রোতারাও—"স্রষ্টা সুরের মাঝেই থাকেন," কথাটি যেন প্রমাণ করলেন তিনি।
অভিভাবকদের গর্ব আর দর্শকদের হাততালিতে ভেসে গেল আলমীর রহমান। ফ্রেডেরিক কূহ্লাউর "আল্লেগ্রো বার্লেস্ক" আর মরিস রেভেলের "প্রিলিউড" বাজিয়ে এই কিশোর প্রমাণ করল—প্রতিভার কোনো বয়স নেই!
শোভনের নির্দেশনায় এসএন্ডআরের শিশুশিল্পীরা মাইকেল জ্যাকসনের "হিল দ্য ওয়ার্ল্ড" নিয়ে নাচলে হল যেন তালে তালে মাতল। অরুন্ধতীর তত্ত্বাবধানে ছোট্টদের "যদি তোর ডাক শুনে" ও "আমরা সবাই রাজা" গানে ফুটে উঠল বাংলার সংস্কৃতির উত্তরাধিকার।
ফ্র্যাংকলিন টাউনশিপের কাউন্সিলম্যান শিবারামান আনবার্সন ও ডেপুটি মেয়র সিপা উদ্দিন, প্যাটারসনের কাউন্সিলম্যান ফরিদ উদ্দিন—সবাই একসুরে বললেন, "এমন আয়োজনই প্রবাসে আমাদের সংস্কৃতির মশাল জ্বালিয়ে রাখে।" অনুষ্ঠানের নিখুঁত ব্যবস্থাপনা আর বহুসংস্কৃতির সমন্বয়ের জন্য আর্টল্যাবকে ধন্যবাদ জানালেন তারা।
লিড গিটারে শোভন রহমান, কীবোর্ডে রাজিব রাসেল, বেইজে হেলাল আহমেদ, পারকাশনে রাকেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, ড্রামসে ড্যানি উইলিয়াম—এঁদের সুরের জাদুতেই প্রাণ পেয়েছিল每一টি গান। বাংলা কেয়ার ফাউন্ডেশনের শাহানাজের আয়োজনে শিশুদের আর্ট কম্পিটিশন যুক্ত করল বর্ণিল রং। সাউন্ডের নিবিড়, লাইটিংয়ের নাদিম, গ্রাফিক্সের তাহমিদ—নাম না-জানা এই শিল্পীরাই তো সৃষ্টি করলেন অনুষ্ঠানের প্রাণ!
গ্র্যান্ড স্পনসর ইক্যুইটি ট্রেডিং টিপস (ইটিটি) এবং উপস্থাপনা জাদুকরী অজন্তার কথামালায় সমাপ্তি ঘটল এই সাংস্কৃতিক যাত্রার। কিন্তু শেষ হয়নি আশা—যে সুরের স্পর্শে একদিন বিশ্বজুড়ে শান্তি ফিরবে, এই প্রত্যয়ে উজ্জ্বল রয়ে গেল আর্টল্যাবের স্প্রিং কনসার্ট ২০২৫। #
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন