https://www.prothomalony.com/

13018

north-america

উত্তর আমেরিকা

ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর উদ্যোগ: ক্যালিফোর্নিয়ায় কয়েক ডজন ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট ভিসা বাতিল

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৫ ০৮:৩১

ট্রাম্প প্রশাসন ক্যালিফোর্নিয়ার একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে কয়েক ডজন ইন্টারন‍্যাশনাল স্টুডেন্ট ভিসা বাতিল করেছে- যার মধ্যে রয়েছে ইউসিএলএ, ইউসি স‍্যান ডিয়েগো, ইউসি আরভাইন, ইউসি বার্কলে ও স্ট‍্যান্ডফোর্ড।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, ছাত্র ও শিক্ষকরা ‘নিউইয়র্ক টাইমস্’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই ভিসা বাতিলের ঘটনাগুলো মূলত গত শুক্রবার (এপ্রিল ৪) দেশজুড়ে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে একযোগে ঘটে, যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জন্য ছিল একেবারে অপ্রত্যাশিত। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের কথা ঘোষণা করেছে, তার মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অফ কেনটাকি, ইউনিভার্সিটি অফ ওরেগন এবং ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি।

ইউসিএলএ-তে অন্তত আটজন ছাত্রের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ দ্বারা তারা আটক হচ্ছে কিনা কিংবা ভিসা বাতিলের কারণ কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইউসি স‍্যান ডিয়েগো-তে, চ্যান্সেলর প্রদীপ খোসলা শুক্রবার (এপ্রিল ৪) রাতে পাঁচজন ছাত্রের ভিসা বাতিলের কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রকম পূর্বাভাস ছাড়াই এই খবর পেয়েছে।’

স্ট‍্যান্ডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, চারজন ছাত্র ও সম্প্রতি স্নাতক হওয়া আরও দুইজনের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। তবে, ভিসা বাতিলের কারণ সম্পর্কে তারা কিছু জানায়নি।

ইউসি বার্কলের একজন মুখপাত্র চারজন ছাত্রের ভিসা বাতিলের কথা নিশ্চিত করেছেন- যার মধ্যে দুইজন এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি রয়েছে (একজন স্নাতক ও একজন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী) এবং বাকি দুইজন স্নাতক সম্পন্ন করে একটি পেশাগত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় কাজ করছিল। ইউসি আরভাইনের ছাত্রদের ভিসা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ‘ইউসি’ কর্মকর্তা। এদিকে, ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়াতে ১৭ হাজারেরও বেশি বিদেশি ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। সেখানে কোন শিক্ষার্থী এই ভিসা বাতিল অভিযানের শিকার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ইউনিভার্সিটি অফ ক‍্যালিফর্নিয়ার এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইউসি-জানে যে ‘সেভিস’ (স্টুডেন্ট এ‍্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ইনফর্মেশন সিস্টেম) টার্মিনেশনের ফলে আমাদের বেশ কয়েকটি ক্যাম্পাসের ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতি এখনও অস্থির ও পরিবর্তনশীল। আমরা এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি। বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় প্রযোজ্য স্টেচ ও ফেডারেল আইন অনুসরণ করেই কাজ করবে।’

গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসন যেসব শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল বা গ্রেপ্তার করেছে, তাদের মধ্যে অনেকেই ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে দাবী করা হয়। তবে এবারের ভিসা বাতিলের কারণ এখনো পরিষ্কার নয়। এই বিষয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার ছাত্রছাত্রীদের ভিসা নিয়ে ‘দ‍্য লস এন্জেলেস টাইমস’-এর প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয়নি স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্ররা। তবে, ইউসি সান ডিয়েগোতে যাদের ভিসা বাতিল হয়েছে, তারা কেউই ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে জড়িত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন এক ‘ইউসি’ কর্মকর্তা।

ভিসা বাতিলের কারণ কী, ছাত্রদের প্রতিবাদে অংশগ্রহণ, না অন্য কিছু- এই প্রশ্নের উত্তরে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন ইমেইলে জানান, প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। তবে ক্যালিফোর্নিয়ায় ঠিক কতগুলো ভিসা বাতিল হয়েছে বা স্টেটের কতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় এতে প্রভাবিত হয়েছে, সে প্রশ্নের কোন জবাব দেননি তিনি।

এদিকে ইউসিএলএ-তে ছাত্রদের উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার কথা স্বীকার করে শুক্রবার (এপ্রিল ৪) রাতে এক যৌথ বিবৃতি দেয় ছাত্র সংসদ। বিবৃতিতে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যাডাম তফায়লি এবং আন্তর্জাতিক ছাত্র প্রতিনিধি সৈয়দ তামিম আহমদ বলেন, ‘এই সময়টা ভীষণ অনিশ্চিত, প্রতিটি ইন্টারন‍্যাশনাল ছাত্রছাত্রীকে বলতে চাই,- আপনাদের এখানে থাকা উচিত। আপনাদের উপস্থিতি এই ক্যাম্পাসকে আরও শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও সুন্দর করে তোলবে। আমরা আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি-থাকব সাহসের সঙ্গে, নিঃশর্তভাবে।’

গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসন হাই-প্রোফাইল কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন কলাম্বিয়া, কর্নেল, জর্জ ওয়াশিংটন, টাফটস ইত্যাদিতে ছাত্রদের ভিসা বাতিল করা শুরু করে। প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, এই ছাত্ররা ফিলিস্তিনপন্থী লেখালেখি বা বিক্ষোভের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ সমর্থন করেছেন এবং তারা হামাসের প্রতি সহানুভূতিশীল। যুক্তরাষ্ট্র হামাসকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। প্রশাসনের ভাষ্যমতে, এসব ছাত্র জাতীয় নিরাপত্তা ও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির জন্য হুমকি।

সাধারণত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করার জন্য দুইটি সনদপত্র প্রয়োজন হয়। একটি হলো স্টুডেন্ট ভিসা, যা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেয়। অন্যটি হলো ‘স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস’, যা প্রমাণ করে যে তারা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি রয়েছে এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলছে- যেমন কাজ করার সীমাবদ্ধতা।

ভিসা ইস্যু ও বাতিলের দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের (ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট) উপর, আর স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস বজায় থাকে ‘সেভিস’ ডেটাবেজে। আগের প্রশাসনগুলোতে, যদি কোনো শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল হতো, তবুও তারা যুক্তরাষ্ট্রে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারত। তবে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে পুনরায় প্রবেশের আগে নতুন ভিসা নিতে হতো।

কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো বোঝাচ্ছে যে, তারা শুধু ভিসা নয়, স্টুডেন্ট স্ট্যাটাসও বাতিল করছে- যা পূর্বের নীতির থেকে একটি বড় পরিবর্তন।
 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন