https://www.prothomalony.com/

12807

north-america

উত্তর আমেরিকা

প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা: এক নি:স্বার্থ ভালোবাসার গল্প

প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৫ ০৬:৫৩

নবম বর্ষে পদার্পণ করলো প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা। একটি সংবাদমাধ্যমের জন্য সময়টা খুব কম নয়, আবার খুব বেশি বলাও যায় না। তবে এই সময়ের প্রতিটি মুহূর্তের গল্প এক অপার ভালোবাসার। ভাষার প্রতি ভালোবাসা, প্রবাসীদের প্রতি ভালোবাসা, সংবাদ ও সত্যের প্রতি ভালোবাসা—এ ভালোবাসার শক্তিতেই আজকের এই পথচলা।

প্রথম আলো যখন উত্তর আমেরিকায় তার যাত্রা শুরু করে, তখন আমাদের স্বপ্ন ছিল একটি শক্তিশালী সেতু গড়ে তোলা—যে সেতুর এক প্রান্তে থাকবে মাতৃভূমি, আর অন্য প্রান্তে প্রবাসের বিস্তীর্ণ বাংলাভাষী জনগোষ্ঠী। সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবতার ছোঁয়া পেয়েছে। একদল নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক, লেখক, এবং সহকর্মী অক্লান্ত পরিশ্রম করে প্রতি সপ্তাহে একটি ঝকঝকে পত্রিকা পাঠকের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন।
ঢাকার দৈনিক প্রথম আলোর সাথে আমাদের প্রকাশনা বন্ধন ছিন্ন হওয়ার পরও পাঁচ বছর চলে গেছে। আমাদের থমকে দাঁড়াতে হয়নি। বিনয় ও ভালোবাসা ছড়িয়ে আমরা কঠিনকে জয় করতে চেয়েছি। শেষ বিবেচনায়, আমরা তা পেরেছিও।

আজকের এই সময়ে সংবাদপত্রের জন্য নানা চ্যালেঞ্জ। তবু, আমরা টিকে আছি, সামনে এগিয়ে যাচ্ছি—কারণ আমাদের পাশে আছেন পাঠক, আমাদের পাশে আছেন কমিউনিটির মানুষজন। আমাদের পাঠকের ভালোবাসা, বিজ্ঞাপনদাতাদের সহযোগিতা, লেখকদের প্রাণবন্ত লেখা—সব মিলিয়ে এ এক বৃহত্তর পরিবারের গল্প।

 বিশ্ব ব্যবস্থা, সমাজ ও রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে, যা আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করছে। প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা এ পরিবর্তনকে সাদরে গ্রহণ করে, বাস্তবতাকে অনুধাবন করে এগিয়ে যেতে চায়। নতুন নতুন বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি রেখে, সংবাদ পরিবেশনে আরও গভীরতা এনে, পাঠকের চিন্তাভাবনার জগতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই আমাদের লক্ষ্য। পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী, আর সেই পরিবর্তনকে সঙ্গী করেই আমাদের পথচলা অব্যাহত থাকবে।

এই দীর্ঘ পথচলায় আমাদের একদল নারী লেখক ও সাংবাদিক যুক্ত হয়েছেন, যারা সংবাদজগতকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন। তারা শুধু কলম নয়, হৃদয়ের উষ্ণতা দিয়ে সাহিত্যের নতুন এক অধ্যায় রচনা করছেন। তাদের লেখায় উঠে আসে প্রবাসীদের হাসি-কান্না, সংগ্রাম ও সাফল্যের কাহিনি।

প্রবাসে থেকেও আমরা প্রতিনিয়ত অনুভব করি দেশের টান, মাতৃভাষার শক্তি। আমাদের পাঠকের আবেগ, তাঁদের অকুণ্ঠ সমর্থন আমাদের প্রতিটি সংখ্যা প্রকাশের প্রেরণা। কমিউনিটির মানুষ, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী সকলের আন্তরিক ভালোবাসাই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।

আমি সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি, নেতৃত্ব দেই, কিন্তু প্রকৃত কারিগর আমাদের লেখক-সাংবাদিক ও সহকর্মীরা। তাদের পরিশ্রম, নিবেদন, আর স্বপ্নের প্রতিচ্ছবিই ফুটে ওঠে প্রতি প্রকাশিত সংখ্যায়।
শুধু সংবাদপত্র হিসেবেই প্রথম আলো কাজ করে, এমন নয়।  বিভেদ আর বিচ্ছিন্নতা বাড়ার বাতিকের এ সময়ে আমরা দল বেঁধে চলি। আনন্দ বেদনা একসাথে ভাগ করে নেয়ার চর্চা করি। আলাদা আলাদা মত পথের লোকজনকে নিয়ে সাধারণ সমঝোতায় একসাথে থাকার চেষ্টা করি। এখানেই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চেতনা জাগ্রত হয়ে উঠে বলে আমরা মনে করি। "আমি, আমি"  না করে - আমরা মিলে সময় ও সমাজকে আলিঙ্গন করার চেষ্টা করি। কঠিন হলেও এ প্রয়াস আমরা চালিয়ে যাবো। বিদ্বেষ ছড়িয়ে নয়, কাজ ও ভালোবাসা দিয়ে সময়কে জয় করার চেষ্টাটি আমরা অব্যাহত রাখব।  

প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা কেবল একটি সংবাদমাধ্যম নয়, এটি একটি আন্দোলন, একটি বন্ধন, এক নি:স্বার্থ ভালোবাসার গল্প। এই ভালোবাসাই আমাদের পথচলার শক্তি, আমাদের ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা।
আজকের এ দিনটিতে আমার সতীর্থ সহকর্মী, স্বজন, অনুরাগী, অনুসারী - সবাইকে

ইব্রাহীম চৌধুরী  
সম্পাদক, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন