https://www.prothomalony.com/
12682
north-america
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৫ ০১:৪৫
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার (৫ মার্চ) স্বয়ংচালিত শিল্পের জন্য এক মাসের শুল্ক স্থগিত করেন। এরপরই শেয়ারবাজারে ব্যাপক উত্থান দেখা দেয়। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ প্রায় ৫০০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে বন্ধ হয়, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকও ১ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোর্ড, জেনারেল মোটরস ও স্টেলান্টিসের (জিপ ও ক্রাইসলারের মূল প্রতিষ্ঠান) অনুরোধে এই শুল্ক অব্যাহতির নির্দেশ দিয়েছেন।
লেভিট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট তাদের এক মাসের জন্য অব্যাহতি দিচ্ছেন, যাতে তারা অর্থনৈতিকভাবে অসুবিধায় না পড়ে।’
এই ঘোষণার পর স্বয়ংচালিত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফোর্ডের শেয়ার মূল্য প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে, জেনারেল মোটরসের শেয়ার ৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং স্টেলান্টিসের শেয়ার বুধবার ৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
মার্কিন স্বয়ংচালিত শিল্পের সরবরাহ ব্যবস্থা মূলত মেক্সিকো ও কানাডার ওপর নির্ভরশীল। এই শুল্ক তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। তবে, বিগ থ্রি গাড়ি নির্মাতাদের প্রতিনিধিত্বকারী আমেরিকান অটোমোটিভ পলিসি কাউন্সিল (এএপিসি) এই এক মাসের শুল্ক অব্যাহতির প্রশংসা করেছে।
বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার সমালোচনা করেছেন। কারণ তার মতে, কানাডা পূর্বে আরোপিত সব শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে।
ট্রাম্প জানান, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সাথে ফোনালাপে তিনি এই বিষয়টি আলোচনা করেছেন, যেখানে তিনি মাদক পাচার মোকাবিলায় কানাডার কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, মেক্সিকো ও কানাডার সঙ্গে পূর্ববর্তী চুক্তি সত্ত্বেও ফেন্টানিলের মতো অবৈধ মাদক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। তবে ট্রুডো জানান, পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প বলেন, ‘এটা যথেষ্ট নয়।’
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা (সিবিপি) সংস্থার তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ হওয়া প্রায় সব ফেন্টানিল মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে এসেছে; কানাডা সীমান্ত দিয়ে জব্দের পরিমাণ ১ শতাংশেরও কম।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মঙ্গলবার (৪ মার্চ) রাতে চীন তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘চীনের বিরুদ্ধে ট্যারিফ আরোপ করে তারা ভুল পথে চলছে। এমন পদক্ষেপে আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হব এবং যদি যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো এজেন্ডা থাকে এবং তারা কোনো ধরনের যুদ্ধ চায়, তাহলে চীন শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত।’
লিন জিয়ান আরো বলেছেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই ফেন্টানিল সমস্যার সমাধান চায়, তাহলে সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে চীনের সাথে পরামর্শ করা উচিত।’
এই মন্তব্যগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক আরোপের পরপরই এসেছে।
গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র মেক্সিকো ও কানাডার পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক এবং চীনের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। চীনের প্রতিক্রিয়ায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্যের উপর ১০-১৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে, যার মধ্যে মুরগি, গম, সয়াবিন ও গরুর মাংস অন্তর্ভুক্ত।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন মেক্সিকো ও কানাডার পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক এবং চীনের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এর প্রতিক্রিয়ায়, চীন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্যের উপর অতিরিক্ত ১০-১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে, যার মধ্যে মুরগি, গম, সয়াবিন ও গরুর মাংস অন্তর্ভুক্ত। আগামী ১০ মার্চ থেকে কার্যকর হবে। এই শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের চীন বিশ্লেষণ কেন্দ্রের চীনা রাজনীতি বিষয়ক ফেলো নিল থমাস এবিসি নিউজকে বলেছেন, ‘চীন যে প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ করছে তা অত্যন্ত নির্দিষ্ট এবং সরাসরি মার্কিন কৃষকদের লক্ষ্য করে, যারা বেশিরভাগই রেডস্টেটে বাস করেন এবং সাধারণত ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন।’
বিশ্লেষকদের মতে, এই বাণিজ্য দ্বন্দ্বের ফলে মার্কিন কৃষকরা বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। কারণ চীন কৌশলগতভাবে ট্রাম্প সমর্থিত অঞ্চলের কৃষিপণ্য লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ করছে।
সম্প্রতি চীন যে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা ২০১৮ সালের প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যযুদ্ধের সময়ে আরোপিত একই ধরনের শুল্কের ওপর চাপানো হবে। সেগুলোর মধ্যে কিছু শুল্ক ইতিমধ্যেই ২৫ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে। তবে বেইজিং ২০২০ সালের ‘ফেজ ওয়ান’ বাণিজ্য চুক্তির ফলস্বরূপ কিছু অবকাশ ঘোষণা করেছিল।
বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক মঙ্গলবার বলেছেন, ‘ট্রাম্প শিগগিরই কানাডা ও মেক্সিকোকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিতে পারেন।’
লুটনিক চীনের সাথে কোনো সমঝোতার কথা বলেননি।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন