https://www.prothomalony.com/

12400

north-america

উত্তর আমেরিকা

নতুন প্রজন্মের কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ শিক্ষকদের গড়ে তুলতে এক শিক্ষকের নিবেদিত প্রচেষ্টা

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ০৩:৩৭

 

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ শিক্ষকদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কম। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে তারা মোট কে-১২ পর্যায়ের শিক্ষকদের মাত্র ১.৩% ছিলেন। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন ড. কার্টিস এল. লুইস, যিনি ২০১৭ সালে ব্ল্যাক মেল এডুকেটরস এলায়েন্স নামক অলাভজনক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। 
ড. লুইস যখন দেখলেন যে তার জেলায় ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে তিনি একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ শিক্ষক, তখন তিনি এ সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজতে শুরু করেন। 

এই লক্ষ্য সামনে রেখে বিএমইএ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা এমন একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য কাজ করে যেখানে কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সঠিক দিকনির্দেশনা পেতে পারেন এবং উন্নতি করতে পারেন। তারজন্য তারুণ্য নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচি শুরু করা হলো।

সংস্থাটির অন্যতম কার্যক্রম হলো ইয়ুথ লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম, যা এক আন্তঃপ্রজন্মীয় পরামর্শদানের মডেল অনুসরণ করে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো ছাত্রদের গণিত ও ভাষার দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের সুযোগ দেওয়া হয়। 

এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যোগাযোগ দক্ষতা, দলগত কাজ, এবং সৃজনশীল সমস্যার সমাধান করার কৌশল শিখছে, যা তাদের ভবিষ্যতে সমাজের নেতৃত্ব দিতে সহায়তা করবে। বর্তমানে কর্মসূচিতে ৭৭ জন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেন্টর হিসেবে কাজ করছে এবং তাদের অধীনে প্রায় ২৫০ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। 

বিএমইএ-এর একজন শিক্ষাবিদ জোসেফ বলেন, "আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ছাত্রদের সাহায্য করা নয়, বরং কৃষ্ণাঙ্গ তরুণদের শিক্ষক হওয়ার প্রতি আগ্রহী করাও। এই কর্মসূচি এক ধরণের চক্র তৈরি করছে, যেখানে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মেন্টর হিসেবে গাইড করছে এবং তাদের শেখানো হচ্ছে কিভাবে দায়িত্বশীল ও নেতৃত্ব প্রদানকারী হওয়া যায়।" 

বিএমইএ'র সফলতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা 
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, তাদের টিচার এন্ড প্রিন্সিপাল ফেলোশিপ কর্মসূচিতে ১০০% শিক্ষক ধরে রাখার হার রয়েছে, যা এ ধরনের উদ্যোগের জন্য বিরল। 

ডেট্রয়েটে এই কর্মসূচির ইতিবাচক প্রভাব সুস্পষ্ট। শিক্ষকরা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করছেন, আর তারাই আবার ছোটদের জন্য আদর্শ হয়ে উঠছে। যেমন, ডেরিক ম্যাককালেব নামে এক ছাত্র বলেন, "এখানে এসে আমি আমার কণ্ঠস্বর খুঁজে পেয়েছি। আমি এখন নিজেকে ও অন্যদের জন্য কথা বলতে পারি। ছোটদের সমস্যাগুলো বোঝার এবং তাদের পক্ষে দাঁড়ানোর ক্ষমতাও আমার এসেছে।" 

বিএমইএ গ্রীষ্মকালীন বিশেষ কর্মসূচিরও আয়োজন করে, যেখানে ২য় থেকে ১১তম শ্রেণির ১৫০ জন কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এখানে গণিতের উন্নয়ন, সামাজিক-মানসিক শিক্ষাদান, সাংস্কৃতিক চেতনা ও আত্মপরিচয়ের বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হয়। 

ডেট্রয়েটের শিক্ষক ওয়াল্টার ম্যাথিস বলেন, "এই কাজ শুধু বেতনের জন্য নয়। যখন দেখি আমার মতো কেউ এই কমিউনিটি থেকে উঠে এসে শিক্ষার্থীকে অনুপ্রাণিত করছে, তখন বুঝতে পারি যে শিক্ষাদানের প্রকৃত আনন্দ এখানেই। আমি যা করেছি, তা যদি তারা দেখে অনুপ্রাণিত হয়, সেটাই সবচেয়ে বড় অর্জন।" 

বিএমইএ-এর লক্ষ্য কেবল শিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষকদের গড়ে তোলা, যারা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।

 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন