https://www.prothomalony.com/

12352

north-america

উত্তর আমেরিকা

প্রিন্সটন স্কুলের নিরাপত্তা প্রটোকল: আইস চাইলেই শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলতে পারবে না

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ০১:২৯

ট্রাম্প প্রশাসন স্কুল, চার্চ এবং হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে আইস কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করার অনুমতি দেওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ‍্যে আতঙ্ক বাড়ছে। তবে, ওহাইওর সিনসিনাটির প্রিন্সটন স্কুলে যদি আইস কর্মকর্তারা বিচারিক ওয়ারেন্ট ছাড়া আসেন এবং ফেডারেল বা ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক দ্বারা অনুমোদিত না হয়, তবে তারা কোনো শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলতে পারবেন না। সেই ওয়ারেন্টে শিশুটির নাম স্পষ্টভাবে এবং সঠিকভাবে লেখা থাকতে হবে। এমনকি এই পরিস্থিতিতেও কোনো শিক্ষার্থীকে হস্তান্তর করা হবে না যতক্ষণ না স্কুল তাঁর পিতা-মাতার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং জেলা আইনজীবী অনুমোদন না দেয়।

প্রিন্সটন সিটি স্কুলসের সুপারিনটেনডেন্ট এলগিন কার্ড ট্রাম্প অফিসে আসার পরই তাঁর স্টাফকে ইমেল করে জানিয়েছেন যে, প্রতিটি স্কুলে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি রয়েছে এবং সংকটের সময় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য সাহায্যের ব্যবস্থাও রয়েছে।

ওহাইওর ৬৪টি পাবলিক স্কুল জেলার মধ্যে শুধু প্রিন্সটন সিটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনায় বলা হয়েছে কীভাবে শিক্ষক ও স্কুল কর্মীরা আইস কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং সংকটে থাকা অভিবাসী ছাত্র-ছাত্রীদের কীভাবে সাহায‍্য  করবে তা নির্ধারণ করা হয়েছে। কীভাবে ভীত ছাত্রদের সাহায্য করা যায়, এ নিয়ে প্রিন্সটনের ইংরেজি ভাষা শিক্ষার্থী পরিষেবার পরিচালক শিক্ষকদের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রিন্সটন, সিনসিনাটির স্প্রিংডেল শহরতলির অভিবাসী পরিবারগুলোকে শিক্ষা দেয়। এখানে ১ হাজার ৪০০ এর বেশি শিক্ষার্থী ইংরেজি শেখার পর্যায়ে রয়েছে, যা মোট ছাত্রদের প্রতি চারজনের একজন।

মুখপাত্র ট্রিশা রডি বলেন, 'এ ব‍্যাপারে প্রিন্সটন আগেভাগেই ব্যবস্থা নিয়েছে। ১০ বছরের বেশি সময় আগে, একদিন স্কুল শেষে বাড়ি ফিরে অনেক শিক্ষার্থী দেখেছিল যে তাদের মা-বাবা নেই—কারণ স্থানীয় আইস অভিযানে তাদের আটক করা হয়েছিল।' তাই প্রিন্সটনের অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য এই ভয় বাস্তব। 

তিনি বলেন, 'আমাদের পরিকল্পনা আছে, আমাদের শিক্ষার্থীদের যত্ন নেয়া হবে। আর যদি, ঈশ্বর না করুন, এমন কিছু ঘটে, তবে আমাদের শিক্ষক, কর্মী ও প্রশাসকদের কাছে এমন পরিকল্পনা থাকবে, যাতে আমাদের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ থাকে।' 

'আয়কেন নিউ টেক হাই স্কুল' এর বিজ্ঞান শিক্ষক এডেলেইড ক্রুস বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসন আইন প্রয়োগের অনুমোদন দেওয়ার পর থেকে তার স্কুলের অর্ধেক ছাত্রছাত্রী স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। এবং যারা স্কুলে আসছে, তারা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে বা শেখার ক্ষেত্রে খুব ভয় পাচ্ছে।' সোমবার ওহাইয়ো'র সিনসিনাটি শহরের স্কুল বোর্ড সভায় 'পাবলিক স্কুলস বোর্ড অব এডুকেশন'কে এ কথা জানান ক্রুস। 

এ এলাকার ৩৫ হাজার ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে এক দশমাংশেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রী তাদের দ্বিতীয় ভাষা হিসাবে ইংরেজি শিখছে।ক্রুসের স্কুলে, প্রতি পাঁচজন ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে একজন ইংরেজি ভাষা শিখছে। সভায় তিনি ডিসট্রিককে প্রশ্ন করেন, 'যদি সরকারী কর্মকর্তারা স্কুলে এসে অবৈধ ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপারে জানতে চায়, তবে স্কুলের নীতি কী হবে?'

তবে কয়েক স্কুল জেলায় এখনও আইস এজেন্টরা স্কুলে এলে কী করা উচিত সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম বা প্রটোকল নেই।

ফ্র্যাঙ্কলিন সিটি স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট মাইকেল স্যান্ডার 'দ্য ইনকোয়ারার'কে দেওয়া এক ইমেইলে লিখেছেন, 'আমরা এজেন্টদের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করব।'

দ্য ইনকোয়ারার ওহাইওর বাটলার, ক্লারমন্ট, হ্যামিল্টন ও ওয়ারেন কাউন্টি এবং কেন্টাকির বুন, ক্যাম্পবেল, গ্রান্ট ও কেনটন কাউন্টির ৬৪টি কে-দ্বাদশ শ্রেণির পাবলিক স্কুল জেলাকে আইসের নতুন অনুমোদনের বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিল। অধিকাংশ জেলা জানিয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন তারা লক্ষ্য করেনি।

মেসন সিটি স্কুলের মুখপাত্র ট্রেসি কারসন জানান, যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা স্কুলে আসে, তাহলে কর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে জেলা নেতৃত্বকে জানাবেন। এরপর, জেলা আইনজীবী তাদের বিচারিক ওয়ারেন্ট পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও আইস প্রতিনিধিরা ওয়ারেন্ট ছাড়া স্কুলে প্রবেশ করতে পারে না। 

কিছু স্কুল জেলা – যেমন রিডিং কমিউনিটি সিটি স্কুলস, সাউথওয়েস্ট লোকাল স্কুলস, ফিনিটাউন লোকাল স্কুলস, সেন্ট বার্নার্ড-এলমওড প্লেস সিটি স্কুলস, এবং ওক হিলস লোকাল স্কুল জেলা– জানিয়েছে যে তারা সমস্ত অফিস কর্মীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তা প্রোটোকলকে আরও শক্তিশালী করছে যাতে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

প্রিন্সটন স্কুলের ইংরেজি ভাষা শিক্ষার্থী সেবা বিভাগের পরিচালক কেলি পেরিন, তার বিভাগের শিক্ষকদের একটি ইমেইল পাঠিয়েছেন, যেখানে আইস তৎপরতায় ছাত্রদের সহানুভূতির সাথে কীভাবে সান্ত্বনা দেওয়া যায়, তার জন‍্য কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। 

পরামর্শে বলা হয়, 'শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করুন যে স্কুল একটি নিরাপদ স্থান। তারা যে কোনো সাহায্য এবং তথ‍্য চাইলেও তা দেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দিন যে, আইন অনুসারে, তাদের ব‍্যক্তিগত তথ্য স্কুলে নিরাপদ। শিক্ষার্থীরা যেন তাদের জরুরি তথ‍্য সম্পর্কে সচেতন থাকে: কীভাবে যোগাযোগ করতে হবে, কোথায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কোন তথ‍্য ব্যবহার করতে হবে তা জানা প্রতিটি শিশু এবং পরিবারটির জন্য উপকারী। তবে কিছু প্রশ্নের উত্তর আমাদের কাছে নেই কারণ কিছু অজানা বিষয় রয়েছে। আমাদের যা নিয়ন্ত্রণে আছে তা নিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের প্রতি মনোনিবেশ করতে পারি। উপস্থিতি, আচরণ এবং পড়াশোনা এসবই শিক্ষার্থীদের হাতে। শিক্ষার্থীরা যেন তাদের বিশ্বস্ত প্রাপ্তবয়স্কদের চিনে এবং তাদের সাথে কথা বলে।' 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন