https://www.prothomalony.com/

12246

north-america

উত্তর আমেরিকা

আমি এখন ' Mothafu*kin' বন্দুক কিনতে যাচ্ছি: ক‍্যাপিটাল মামলায় ক্ষমা পাওয়ার পর ট্রাম্পের সমর্থক

প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারী ২০২৫ ০৩:০০

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে সোমবার শপথ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্ষমতায় বসেই একটি কলমের আঁচড়ে, ট্রাম্প ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইউ.এস. বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং মামলা উল্টে দিয়েছেন; ২০২১ সালে ক্যাপিটলে হামলায় আক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত ও দোষী সাব্যস্ত প্রায় প্রায় ১,৫০০ জনকে ব্যাপকভাবে ক্ষমা করেছেন তিনি। এরপরই ট্রাম্প সমর্থকরা উদযাপন শুরু করেন। কেউ মুক্তি পেয়ে আনন্দে কেঁদেও ফেলেন। আবার কেউ বিচারকদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান, যারা বিচার পরিচালনা করেছিলেন। এরইমধ‍্যে ট্রাম্প সমর্থকদের কারো কারো মন্তব‍্য ব‍্যাপক সহিংসতার পরিচয় দেয়। 

রিউটার্স নিউজের তথ‍্য অনুযায়ী, চরমপন্থা নিয়ে গবেষণা করা কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে, ৬ জানুয়ারির দাঙ্গাকারীদের জন্য বিশেষ করে যারা পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ করা থেকে শুরু করে বিদ্রোহী ষড়যন্ত্র পর্যন্ত করেছে, এই ক্ষমা নব্য-ফ্যাসিবাদী প্রাউড বয়েজ এবং অন্যান্য চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে(যেমন-হুয়াইট সুপ্রিমিস্ট) সহংস হতে আরও উৎসাহিত করবে। 

সোমবার দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য অফিসে বসার সময়, ট্রাম্প মিথ্যা দাবি করেন যে ২০২০ সালের নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে এবং তিনি প্রকৃত বিজয়ী। তিনি দাঙ্গাগুলিকে 'ডে অফ লাভ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন, ‌অর্থাৎ ক‍্যাপিটাল হামলা ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল বদলানোর জন্য সংঘটিত কোনো বিশৃঙ্খল লড়াই ছিল না। সেইসাথে সোমবার এক পোস্ট-ইনঅগুরেশন র‍্যালিতে ট্রাম্প, ৬ জানুয়ারির অপরাধীদের 'hostages(অপহৃত)' হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, 'আমরা আর এই ক্র‍্যাপ সহ্য করব না।' 

৬ জানুয়ারির দণ্ডিত আসামিরা এবং ট্রাম্পের সমর্থকরা ক্ষমা প্রাপ্তিকে অবিচারের প্রতিকার হিসেবে দেখেছেন। প্রাউড বয়েজের প্রতিষ্ঠাতা গ্যাভিন ম্যাকিনিস একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ক্ষমা পাওয়ার পর তিনি এবং তার বন্ধুরা সোমবার রাতে বেশি পরিমাণে বোরবন পান করে আনন্দে হাসছিলেন।

২০২০ সালের নির্বাচনের আগে, ট্রাম্প 'প্রাউড বয়েজ'কে  – একটি সহিংস পুরুষ-শ্রেণির চরমপন্থী গোষ্ঠী 'স্ট্যান্ড ব্যাক অ্যান্ড স্ট্যান্ড বাই' বলেছিলেন। তিন মাস পর, ফেডারেল প্রসিকিউটররা জানান, গোষ্ঠীর নেতারা ৬ জানুয়ারির আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন।

বর্তমানে একজন ডানপন্থী পডকাস্টার ম্যাকইনেস বলেছেন, 
'এটা আমাদের জন্য একটি বিজয়। যদি ট্রাম্প প্রাউড বয়েজদের সকলকে ক্ষমা না করতেন, তবে প্রেসিডেন্ট হিসাবে তনি আমার কাছে মৃত হয়ে যেতেন এবং প্রাউড বয়েজ, মাগা সবাই। তবে সৌভাগ্যক্রমে তা হয়নি।' 

ক্ষমা দেওয়ার পরপরই একটি ভিডিওতে, দণ্ডিত দাঙ্গাকারী ক্যানসাসের মেরিন ভেটেরান ক্রিস্টোফার কিউন, যিনি ২০২১ সালের জানুয়ারিতে প্রাউড বয়েজদের সাথে ওয়াশিংটনে গিয়েছিলেন, কাঁদতে কাঁদতে বলেছেন, 'আমি অবশেষে মুক্ত হলাম। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাদের জন্য যা করেছেন, তার জন্য তাকে ধন্যবাদ দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না আমি।' ফেব্রুয়ারিতে ক্রিস্টোফারকে আইন প্রয়োগকারীদের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করার জন্য ৭৫ দিন কারাদণ্ড দেয়ে হয়েছিল এবং ২৪ মাসের পর্যবেক্ষিত মুক্তির দণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

আরেকজন প্রাউড বয়েজ 'রিউটার্স'কে বলেন, ক্ষমাগুলি তাদের সদস্য সংগ্রহে সাহায্য করবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, 'আমাদের গ্রেফতার করার পর অনেক মানুষ আমাদের থেকে দূরে সরে গিয়েছিল। এখন তারা অনুভব করবে যে তারা বুলেটফ্রুফ।' 

ডিফেন্স অ্যাটর্নি নর্ম প্যাটিস, যিনি প্রাউড বয়েজের তিন সদস্য এবং মিলিশিয়া গ্রুপ ওথ কিপারসের নেতার প্রতিনিধিত্ব করেন, তিনি মনে করন না যে ব‍্যাপক ক্ষমার ফলে রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের সিভিল ওয়ার থেকে শুরু করে ১৯৬০-এর দশকের বিক্ষোভ পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, 'আমাদের রাজনীতি বরাবরই সহিংস ছিল। তাহলে ক্যাপিটলে কয়েক ঘণ্টার একটি দাঙ্গার কারণে বছর বা দশকের জেল শাস্তি দেওয়া উচিত কী? কিছু মানুষের কাছে এটি অপ্রাসঙ্গিক, এবং আমার দৃষ্টিতে এটি একেবারেই বিরক্তিকর।'

২০২০ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরাজয়ের পরে, তার সমর্থকদের একটি দল ৬ জানুয়ারী, ২০২১-এ ওয়াশিংটন, ডিসির ইউনাইটেড স্টেটস ক্যাপিটল ভবনে আক্রমণ করে। তখন ইলেক্টোরাল ভোট গণনার পর কংগ্রেসের অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত জো বাইডেনের জয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ট্রাম্পের ভিত্তিহীন নির্বাচনী কারচুপির দাবি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তার সমর্থকরা ক্যাপিটল ভবনে ঢুকে পড়ে, পুলিশের সাথে তীব্র লড়াই শুরু করে। কিছু দাঙ্গাকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের পেট্রোল পাইপ, কাঠের খুঁটি এবং বেসবল ব্যাটসহ সামরিক অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে। প্রসিকিউটররা বলেন, দাঙ্গাকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র, টেজার, তলোয়ার, হ্যাচেট এবং ছুরি নিয়ে এসেছিল।তাদের লক্ষ্য ছিল কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে বাধা দিয়ে ট্রাম্পকে ক্ষমতায় রাখা।  ঘটনার তদন্তকারী হাউস সিলেক্ট কমিটির মতে, এই হামলা ছিল নির্বাচনের ফলাফলকে পাল্টে দেওয়ার জন্য ট্রাম্পের ষড়যন্ত্র।  এ ঘটনা চলাকালীন ও এর পরে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। তার মধ্যে একজন নারী প্রতিবাদকারীকে পুলিশ গুলি করেছিল, আরেকজন ড্রাগ ওভারডোজে মারা গিয়েছিল এবং এক পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি দাঙ্গাকারীদের সাথে লড়াই করেছিলেন পরের দিন মারা যান।  এছাড়া ১৪০ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। যারা দাঙ্গায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন তাদের মধ্যে চারজন পরে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় প্রায় ২.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়েছিল। 

 

যে দুই পুলিশ কর্মকর্তা জনতার ভিড় ঠেকাতে গিয়ে যারা মার খেয়েছিলেন, তারা বলেছেন, ক্ষমা প্রদানের ঘটনা একটি শীতল সতর্কবার্তা যে ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্য এখন আইনের শাসনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। 'এটা আপত্তিজনক,' ডি.সি. মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগের প্রাক্তন কর্মকর্তা মাইকেল ফানোনে রিউটার্সকে বলেন। 

জানুয়ারী ৬-এর সহিংসতার সময় মার খেয়েছিলেন ৪৪ বছর বয়সী মাইকেল ফানোন। তিনি ২০ বছর পুলিশ হিসেবে কাজ করেছেন। ক‍্যাপিটাল হামলায় রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে স্প্রে করা হয়েছিল তাকে এবং স্টান গান দিয়ে বিদ্যুৎ শকও খেয়েছিলেন তিনি। তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল এবং মস্তিষ্কে আঘাত পেয়েছিলেন। ফানোন বলেন, 'ক্ষমা প্রদানের ফলে সম্ভবত আরও সমর্থকদের সহিংস  হতে উৎসাহিত করবে, কারণ তারা বিশ্বাস করবে যে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের ক্ষমা করবেন। আর কেনই বা তারা এমনটা বিশ্বাস করবে না?' 

একুইলিনো গোনেল, একজন প্রাক্তন ইউ.এস. ক্যাপিটল পুলিশ সার্জেন্ট যিনি ক্যাপিটল রক্ষা করতে আহত হয়েছিলেন, তিনি বলেন, 'ট্রাম্পের ক্ষমা কোনো ধরনের অন্যায় সংশোধনের সাথে সম্পর্কিত না। ট্রাম্প এবং তার রিপাবলিকান সহযোগীরা আমাদের শাসন ব্যবস্থার, সংবিধান রক্ষা এবং পুলিশ সমর্থনের ক্ষেত্রে নৈতিক উচ্চস্থান হারিয়েছে।' 

ক্ষমা প্রাপ্তদের মধ্যে ৩০০ জনেরও বেশি ছিল যারা আইনপ্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হামলা করেছিলেন বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। এর মধ্যে ৬৯ জন ব‍্যক্তি  পুলিশকে প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করার কথা স্বীকার করেছেন। ট্রাম্পের আদেশে ১৪ জনের দণ্ড পরিবর্তন করা হয়েছে, যারা গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত হয়েছিল, এর মধ্যে একজন ওথ কিপার্সের প্রাক্তন নেতা স্টুয়ার্ট রোডেস। ট্রাম্প আরও কিছু ব্যক্তিকে ক্ষমা করেছেন, যার মধ্যে প্রাক্তন প্রাউড বয়েজ নেতা এনরিকে টারিও আছেন যাকে বিদ্রোহী ষড়যন্ত্রের জন্য ২২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৩০০ দাঙ্গাকারী ৪৬টি উগ্র ডানপন্থী সংগঠন বা আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিল। এই গবেষণা করেছে ন্যাশনাল কনসর্টিয়াম ফর দ্য স্টাডি অফ টেররিজম অ্যান্ড রেসপন্সেস টু টেররিজম, যা ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের একটি দল।

ওয়াশিংটনের আইনজীবী হিদার শ্যানার, যিনি ৪০ জনের বেশি অভিযুক্তের পক্ষে আদালত-নিযুক্ত ডিফেন্স অ্যাটর্নি হিসেবে কাজ করেছেন, এই ক্ষমাগুলোকে ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা বলে উল্লেখ করেন। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "দায়বদ্ধতা থাকা জরুরি। সত্য স্বীকার এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করেই কেবল সামনে এগোনো সম্ভব।"

কিছু রাজনৈতিক চরমপন্থী বিশেষজ্ঞ বলেন, এই ক্ষমাগুলো ট্রাম্প-সমর্থক কিছু উগ্রপন্থীকে আরও সহিংস হতে উৎসাহিত করবে, কারণ তারা বিশ্বাস করতে পারে যে ট্রাম্পের স্বার্থে কাজ করলে তাদের আইনি শাস্তি হবে না। 

জুলি ফার্নাম, যিনি ৬ জানুয়ারির দাঙ্গার সময় ইউএস ক্যাপিটল পুলিশের গোয়েন্দা সহকারী পরিচালক ছিলেন, বলেন, 'এই ক্ষমার কারণে তারা মনে করবে তারা যা খুশি করতে পারবে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে এমন নেতৃত্ব নেই যারা এটি থামানোর চেষ্টা করবে।' এখন তিনি একটি বেসরকারি তদন্ত সংস্থা চালান। 

কোই গ্রিফিন, যিনি ক্যাপিটল এলাকায় বেআইনি প্রবেশের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর নিউ মেক্সিকোর কাউন্টি কমিশনারের পদ হারান, ট্রাম্পের ক্ষমা প্রত্যাখ্যান করতে তার আইনজীবীকে নির্দেশ দিয়েছেন, কারণ তিনি তার দণ্ডের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে আপিল করছেন। গ্রিফিন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি মনে করেন ক্যাপিটল দাঙ্গা নিয়ে ট্রাম্পের শত্রুরা সত্য বিকৃত করেছে। 'পুলিশের ওপর কিছু সহিংসতা হয়েছিল তবে পুলিশও ভিড়ের ওপর অনেক সহিংসতা করেছিল, যা ট্রাম্প-সমর্থকদের একটি সাধারণ অভিযোগ,' তিনি বলেন। 

 

অনেক ট্রাম্প সমর্থক ডানপন্থী অনলাইন ফোরামে সাধারণ ক্ষমার প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ প্রসিকিউশনের সমর্থকদের হুমকি দিয়েছে। প্রো-ট্রাম্প ওয়েবসাইট Patriots.Win-এ অন্তত দুই ডজন মানুষ, ডেমোক্র্যাট, বিচারক বা আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন যারা ক‍্যাপিটাল হামলার মামলাগুলোর সঙ্গে জড়িত। তারা বিচারক বা পুলিশ কর্মকর্তাদের ফাঁসিতে ঝুলানো, পিটিয়ে মেরে ফেলা, কাঠের চিপারে ফেলে পিষে ফেলা বা হেলিকপ্টার থেকে ফেলে দেওয়ার মতো আহ্বান জানান। 

একজন লিখেছেন, 'সারা ফেডারেল বিচার বিভাগের বিচারকদের একটি স্টেডিয়ামে জড়ো করুন। তারপর তাদের মারধর করে হত্যার দৃশ্য দেখুন এবং শুনুন।' 

একজন লিখেছেন, 'তাদের মাথা কেটে নিন এবং বিচার বিভাগের বাইরে বর্শার ওপর ঝুলিয়ে দিন।' 

অনেকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক সমালোচকদের হত্যার ডাক দিয়েছেন, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট নেতা ন্যান্সি পেলোসির বিরুদ্ধে, যিনি এই ক্ষমা আদেশকে "চরম অপমান" বলেছেন। Patriots.Win-এর একজন মন্তব্যকারী লেখেন, 'যদি কেউ পেলোসিকে হত্যা করতে পারে, তবে তাকে আমি নায়ক বলব।' 

আরেকজন রিপাবলিকান, জানুয়ারির ৬ তারিখের সহিংসতার কংগ্রেসীয় তদন্তে নেতৃত্ব দিয়ে ট্রাম্পের বিরোধিতা করা লিজ চেনিকে ফাঁসি দেওয়ার দাবি করেন।

জ্যাক অ্যাঞ্জেলি-চ্যান্সলি, যিনি ক্যাপিটলে শিংযুক্ত টুপি পরে যাওয়ার কারণে 'কিউঅ্যানন শামান' নামে পরিচিত, সাধারণ ক্ষমার পর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ আনন্দ প্রকাশ করেন। ২০২১ সালে ৪১ মাসের কারাদণ্ড পাওয়া এই ব্যক্তি ২০২৩ সালে মুক্তি পান। তিনি লেখেন, 'এখন আমি কিছু 'Mothafu*kin' বন্দুক কিনতে যাচ্ছি! আমি এই দেশকে ভালোবাসি! ঈশ্বর আমেরিকাকে রক্ষা করুন।' 

২০২১ সালের ক্যাপিটাল হামলার পর ট্রাম্পের ক্ষমা প্রদানের সিদ্ধান্ত একটি গভীর রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক সম্পর্কের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এটি কিছু ট্রাম্প সমর্থকদের জন্য বিজয় হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে, তবে অনেকের কাছে এটি বিচারহীনতা এবং বিভাজন বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করেছে। কিছু ট্রাম্প সমর্থক ইতোমধ্যেই সহিংস মন্তব্য করতে শুরু করেছেন, যা দেশের মধ্যে আরও বড় ধরনের অস্থিরতা এবং সংঘাতের সূচনা হতে পারে। অতএব, এই ক্ষমা প্রদানের পরিণতিতে কী হতে পারে, তা গভীরভাবে ভাবনার বিষয়। 

সূত্রঃ নাথান লেইন, নেড পার্কার, পিটার আইজলার এবং জোসেফ তানফানি/ রিউটার্স 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন