https://www.prothomalony.com/

11197

north-america

উত্তর আমেরিকা

গাজায় শিশুদের উপর নি র্ম ম তাঃ ৬৫ জন ডাক্তার, নার্স, প্যারামেডিকস যা দেখেছেন

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৪ ০৮:৩৯

ডা: ফিরোজ সিধওয়া একজন ট্রমা এবং জেনারেল সার্জন যিনি গাজার খান ইউনিসের ইউরোপীয় হাসপাতালে মার্চ ২৫ থেকে এপ্রিল ৮ পর্যন্ত ট্রমা সার্জন হিসেবে কাজ করেছেন। প্রায় প্রতিদিন তিনি দেখেছেন মাথা বা বুকে গুলিবিদ্ধ শিশুদের এবং প্রায় সবাইকেই পরে মারা যেতে দেখেছেন। মূলত গাজার হাসপাতালগুলোতে এই ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে।

এমন নির্মমতায় আহত হয়ে ফিরোজ সিধওয়া গাজার ধ্বংসযজ্ঞ সম্পর্কে প্রচুর তথ্য সংগ্রহ করেন স্যাটেলাইট ডেটা, মানবাধিকার সংগঠন ও গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে। যদিও ইসরায়েল সাংবাদিক বা মানবাধিকার তদন্তকারীদের গাজায় প্রবেশ করতে দেয়া হয় না, সীমিত কয়েকটি রিপোর্টিং যাত্রা ছাড়া। অবিশ্বাস্য ঝুঁকি নিয়ে যদিও ফিলিস্তিনি সাংবাদিকরা রিপোর্টিং করে, কিন্তু তাদের প্রতিবেদন তেমন ছড়ায় না। স্বাধীন পর্যবেক্ষকের হিসাবে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর্মীরা দিন-দিন খুব কাছ থেকে এই যুদ্ধের পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করছেন। তাই ফিরোজ সিধওয়া চিকিৎসক সম্প্রদায়ের  মাধ‍্যমে ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং অনলাইনে তথ‍্য সংগ্রহ করার মাধ্যমে, আমেরিকান স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করেছেন যারা ৭ অক্টোবর, ২০২৩ সাল থেকে গাজায় কাজ করেছেন। ফিরোজ সিধওয়া তার নিজ পর্যবেক্ষণ এবং সহকর্মী ডাক্তার, নার্স ও প‍্যারামেডিকদের  সাথে আলোচনার ভিত্তিতে, "টাইমস ওপিনিয়ন" এর সাথে কাজ করে গাজার পরিস্থিতি নিয়ে ৬৫ জন স্বাস্থ্যকর্মীর উপর একটি জরিপ পরিচালনা করেছেন। এর মধ্যে ৫৭ জন, তিনি সহ নিজ নিজ অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে রাজি হয়েছিলেন। বাকি ৮জন নাম গোপন রাখেন, কারণ তাদের পরিবার গাজা বা পশ্চিম তীরে বসবাস করে। আবার কেউ তাদের কর্মস্থলে প্রতিশোধের শিকার হওয়ার আশঙ্কার কারণে নাম প্রকাশ করেননি। 

ডাঃ ফিরোজ সিধওয়া'র জড়িপ ‌অনুযায়ী, ৪৪ জন ডাক্তার, নার্স এবং প্যারামেডিকরা গাজায় ছোট বাচ্চাদের মাথায় বা বুকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার একাধিক ঘটনা দেখেছেন। এরমধ‍্যে, জেনারেল, ব্যারিয়াট্রিক এবং ফোরগাট সার্জন ডা. মোহাম্মদ রাসুল আবু-নুওয়ার (৩৬, পিটসবার্গ) জানান, এক রাতে তিনি চার ঘণ্টার মধ্যে ৫ থেকে ১২ বছরের ছয় শিশুকে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখেছেন। বন্দুকের গুলিতে আহত অনেক শিশুকে মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় চিকিৎসা করতে দেখেছেন নিউইয়র্ক সিটির ইমার্জেন্সি নার্স নিনা এনজি (৩৭)। পর্যাপ্ত জায়গা, সরঞ্জাম বা স্টাফের অভাবে অনেকের হাসপাতালের মেঝেতে রক্তপাত হয় এবং মারা যায় বলে জানান নিনা। অর্থোপেডিক এন্ড হ্যান্ড সার্জন ডা. মার্ক পার্লমাটার(৬৯), উচ্চ বেগের গুলিতে অনেক শিশুদের মাথা ও বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হতে দেখেছেন। 

৫ থেকে ৮ বছর বয়সী চার/পাঁচজন শিশুর যত্ন নিয়েছেন ভার্জিনিয়া, চানটিলির প্লাস্টিক এন্ড রিকনস্ট্রাক্টিভ সার্জন ডা. ইরফান গালারিয়া(৪৮)। তিনি তাদের সকলের মাথায় সিঙ্গ‍্যাল শট দিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখেছেন, পরে তারা ইমার্জেন্সি কক্ষে সবাই মারা যায় বলে জানান। 

সাভানা জর্জিয়ার প্যারামেডিক, রানিয়া আফানেহ(২৩) বলেছেন, "আমি এক শিশুকে চোয়ালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখেছি, সে সম্পূর্ণ জাগ্রত ছিল এবং কী ঘটছে সে সম্পর্কে সচেতন ছিল। সে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল যখন তার নিজের রক্তে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, আমি তখন ভাঙা সাকশন যন্ত্র দিয়ে রক্ত বের করার চেষ্টা করছিলাম।"

ডালাস, টেক্সাসের একজন অর্থোপেডিক সার্জন, ডাঃ খাওজা ইকরাম জানান(৫৩), একদিন জরুরি বিভাগে তিন বছরের এবং পাঁচ বছরের দুই শিশুকে দেখেন, যাদের মাথায় গুলি লেগেছিল। কি হয়েছে জানতে চাইলে তাদের পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের বলা হয়েছিল যে, ইসরায়েলি বাহিনী খান ইউনিস এলাকা থেকে সরে আসছিল। এটা শুনে, তারা তাদের বাড়িতে কিছু অবশিষ্ট আছে কি না দেখতে যায়। তখন তারা সেখানে একটি স্নাইপারের মুখোমুখি হয়, যে তাদের শিশুদের উপর গুলি করে। 

ক্যালিফর্নিয়ার কোস্টা মেসার একজন অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডাঃ আহলিয়া কাত্তান(৩৭) একটি ১৮ মাসের শিশুকন্যাকে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখেছেন বলে জানান। টলেডো, ওহাইও'র এনেস্থেসিওলজিস্ট ডাঃ এনডাল ফারাহ (৪২) বলেছেন, "শিশুদের মাথায় গুলি লেগে হাসপাতালে আনা প্রায় প্রতিদিনের ঘটনা ছিল, এমন অনেক শিশুদের আমি দেখেছি। অনেকের অ-নিরাময়যোগ্য, স্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতি হতো।"

টাইমস অপিনিয়ন আমেরিকান স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে প্রশ্ন পাঠিয়েছিল ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)কে। আইডিএফ-এর একজন মুখপাত্র  প্রতিক্রিয়া জানান, তবে এতে জানা যায়নি যে, তারা কি শিশু-কিশোরদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাগুলোর তদন্ত করেছেন কিংবা সৈন্যদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কিনা। আইডিএফ-এর পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, "আইডিএফ অপারেশনাল কার্যক্রমের সময় বেসামরিক ক্ষতি কমানোর জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই উদ্দেশ্যে, আইডিএফ তাদের হামলার সময় সম্ভাব্য বেসামরিক ক্ষতির অনুমান এবং বিবেচনার জন্য প্রচেষ্টা করে। আইডিএফ আন্তর্জাতিক আইনগত বাধ্যবাধকতা, বিশেষ করে সশস্ত্র সংঘাতের আইন, মেনে চলার জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"

৬৩ জন ডাক্তার, নার্স এবং প্যারামেডিকরা, ফিলিস্তিনি চিকিৎসা কর্মী, আহত রোগী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অপুষ্টিজনিত গুরুতর সমস‍্যাগুলি লক্ষ্য করেছেন। 

এরমধ‍্যে মেরিল টাইডিংস, ফ্লাইট, ইমার্জেন্সি এন্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ার নার্স(৪৪ বছর, সান্তা ফে, নিউ মেক্সিকো) বলেছেন, "এই মানুষগুলো ক্ষুধার্ত অবস্থায় ছিল। তাদের দেখে আমি দ্রুত শিখে গিয়েছিলাম যে স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের সামনে আমার জল পান বা খাবার খাওয়া উচিত নয় কারণ তারা এতদিন ধরে না খেয়ে আছেন।" 

অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডাঃ এনডাল ফারাহ বলেছেন, "রোগীদের মধ‍্যে অপুষ্টি ব্যাপক ছিল। হাড্ডিসার রোগীদের দেখা একেবারে নাৎসি কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছিল আমাকে।" ইমার্জেন্সি এন্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ার নার্স আবিরাহ মুহাম্মদ(৩৩, ডালাস, টেক্সাস) বলেছেন, "আমরা যাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি তারা তাদের অক্টোবরের আগে নিজেদের ছবি দেখিয়েছিল। দেখলাম, তারা সবাই ২০ থেকে ৬০ পাউন্ড ওজন হারিয়েছে। বেশিরভাগ রোগী এবং কর্মীকে হাড্ডিসার এবং জলশূন্য দেখাচ্ছিল।"

ওরেগন, পোর্টল্যান্ড এর পেডিয়াট্রিক নার্স প্র্যাকটিশনার আসমা তাহা(৫৭) বলেছেন, "এনআইসিইউ-এর প্রধানকে চেনা যাচ্ছিল না, তিনি যুদ্ধের আগে চেহারার তুলনায় প্রায় অর্ধেক ওজন হারিয়েছিলেন। এই পরিবর্তনগুলো শুধুমাত্র শারীরিক ছিল না; তারা নিজেদের ব্যক্তিগত ক্ষতি এবং চ্যালেঞ্জের সাথে লড়াই করে অন্যদের যত্ন নিতে গিয়ে যে সংঘাতের মুখেমুখি হয়েছিল এবং সংঘাতটি যে তাদের উপর মানসিক ও আবেগগতভবে কতটা প্রভাব ফেলেছিল, এটি তারও প্রতিফলন ছিল।" 

ফিলাডেলফিয়ার পালমোনারি এন্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ার ডাক্তার নাহরিন আহমেদ(৪০) বলেছেন, "যেসব রোগী তিনি চিকিৎসা করেছিলেন তাদের সবার মধ‍্যে অপুষ্টি লক্ষ‍্য করেছেন। যেমন, ক্ষত নিরাময়ে দুর্বলতা এবং দ্রুত বিকাশকারী সংক্রমণ ছিল।" টেক্সাস অস্টিনের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ আমান ওদেহ(৪০) বলেছেন, "অপুষ্টি, মানসিক চাপ এবং সংক্রমণের কারণে প্রসূতি ওয়ার্ডে মায়েদের সময়ের আগেই প্রসব করতে দেখেছি। হাইড্রেশন এবং যথাযথ খাদ্য সরবরাহের অভাবে দুধের উৎপাদন কম ছিল তাদের।" 

সাউথ ক্যারোলিনা, চার্লসটন এর ডাঃ মাইক মাল্লাহ একজন ট্রমা ক্রিটিকাল কেয়ার এন্ড জেনারেল সার্জন(৪০)। তিনি বলেন, "আমার সব রোগী ১০০ শতাংশ অপুষ্টির শিকার ছিল।"  ডাঃ ডেবোরাহ ওয়েইডনার(৫৮) জেনারেল চাইল্ড এন্ড এডোলেসেন সাইকিয়াট্রিস্ট (হার্টফোর্ড, কনেকটিকাট) বলেছেন, "রোগীরা খুব পাতলা ছিল। লক্ষ‍্য করেছি তাদের প্যান্টগুলো অনেক বড় ছিল এবং তাদের বেল্টগুলো টাইট করে বাঁধা হয়েছিল।"

গাজায় ৫২ জন ডাক্তার, নার্স এবং প্যারামেডিকরা অল্পবয়সী শিশুদের মধ্যে মানসিক যন্ত্রণা পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং কয়েকজনের মধ‍্যে আত্মহত্যার প্রবণতা লক্ষ‍্য করেছেন। এমনকি কয়েকজনকে বলতে শুনেছেন, যদি আমি মরে যেতাম তবে ভালো হতো। 

এ নিয়ে ওয়াশিংটন, ওলিম্পিয়ার এমার্জেন্সি মেডিসিন ডাক্তার মিমি সায়েদ(৪৪) বলেছেন, "একটি চার বছর বয়সী মেয়ের দেহে গুরুতর পোড়া দেখেছি আমি। সে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন ছিল। তাকে দেখলাম শূন্যের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে ঘুম পারানি গান গাইছে। কান্না করছিল না তবে কাঁপছিল এবং সম্পূর্ণ শকে ছিল।" 

অ্যানেসথেসিওলজিস্ট এন্ড ক্রিটিকাল কেয়ার ডাক্তার আহলিয়া কাত্তান বলেন, "যেসব শিশুদের সাথে আমি সময় কাটিয়েছি, তারা নিরাপত্তার জন‍্য আমাকে মা হিসেবে দেখছিল। তাদের আবেগগত এবং শারীরিক নিরাপত্তার অভাব ছিল। তারা যেভাবে আমাদের আঁকড়ে ধরেছিল এবং আমাদের স্যুটকেসে করে তাদের বাড়িতে নিয়ে যেতে বলেছিল তা থেকে তাদের মানসিক যন্ত্রণার ছাপ আমাদের কাছে খুব স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।"  শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ তানিয়া হাজ-হাসান(৩৯) বলেছেন, "একটি শিশু, যাদের পরিবারের সবাই মারা গেছে, বলেছিল যে সে নিজেও মারা যেতে চায়। সে বলেছিল, যাদের সবাইকে আমি ভালোবাসি তারা এখন স্বর্গে। আমি আর এখানে থাকতে চাই না।" 

উইসকনসিন, মেকুয়ন এর আউন্ড নার্স প্র্যাকটিশনার লরা সোবোডা(৩৭) বলেছেন, "একবার আমি যখন পেডিয়াট্রিক ওয়ার্ডে জখম রোগীদের রাউন্ড করছিলাম, তখন প্রধান নার্স আমার হাত চেপে ধরেন এবং আমাদেরকে পরেরবার তাদের জন্য মানসিক সাহায্য আনতে অনুরোধ করেছিল।"

ক্যালিফোর্নিয়া, ল্যাথ্রপ এর ডাঃ ফেরোজ সিধওয়া(৪২) ট্রমা, ক্রিটিকাল কেয়ার এন্ড জেনারেল সার্জন বলেন, "বেশিরভাগ শিশুকে আনন্দে থাকতে দেখা দেখেছি, তবে সাধারণভাবে অনেক শিশুরা ভয়, উদ্বিগ্ন, হতাশ, ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত এবং বিভ্রান্ত ছিল। একটি গুরুতর আহত শিশু ছিল, একটি তরুণ ছেলে ছিল যার ডান পা কাটা হয়েছিল এবং ডান হাত ও বাম পা ভেঙে গিয়েছিল। সে বারবার তার মায়ের কাছে জানতে চাইছিল কেন সে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে মারা গেল না।" 

ডালাস, টেক্সাসের এমার্জেন্সি এন্ড ক্রিটিকাল কেয়ার নার্স আবিরাহ মুহাম্মদ(৩৩) জানান, একাধিক শিশুদের বিস্ফোরক এবং শার্পনেলের আঘাতের চিকিৎসা করেছেন তিনি। অনেক শিশু ব্যথায় থাকা সত্ত্বেও নীরব ছিল এবং কাঁদেনি; এটি একটি অস্বাভাবিক মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, "আমাদের অনেক ক্ষত ও কাটা সেলাই করতে হয়েছে অ্যানাস্থেটিক ছাড়া, এবং শিশুরা এ প্রক্রিয়ার সময়ে প্রতিরোধের পরিবর্তে নির্জীব ছিল। আমি দেখেছি শিশুরা যারা তাদের সামনে পরিবারের সদস্যদের হত্যা হতে দেখেছে, তারা সবাই মৃত হওয়ার এবং তাদের পরিবারের সাথে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। আমি প্রিটিন এবং কিশোর-কিশোরীদের দেখেছি যাদের হাতের বাহু কাটার মতো আত্ম-ক্ষতির প্রমাণ রয়েছে।"

পালমোনারি এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার ডাক্তার মোহাম্মদ আল-জাগবীর(৪১, ওহাইও) বলেন, "অনেক শিশু দিনের পর দিন কথা বলত না, এমনকি তাদের পরিবারের সদস‍্যরা পাশে থাকা সত্ত্বেও। আমি একটি ছোট প্লাস্টিকের গাড়ি উপহার এনেছিলাম কিন্তু শিশুটি তা গ্রহণ করেনি। কারণ সে তার বাবাকে ছাড়া কাউকেই স্পর্শ করতে বা কথা বলতে চায়নি।"  নিউ জার্সি, সাউথ ব্রনসউইক এর ডাঃ অ্যাডাম হ‍্যামওয়ে(৫৫) একজন প্লাস্টিক এন্ড রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জন। তিনি বলেন, "অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারানো শিশুরা যারা দৌড়াতে বা খেলতে পারছিল না, তারা বলেছিল যে, তারা মারা যেতে চায়। কিছু শিশুরা আত্মহত্যারও ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল।" 

ডাঃ মার্ক পার্লমাটার বলেন, "অনেকেই বলেছে তারা চায় পরবর্তী বোমা তাদের উপর পড়ুক, যাতে তাদের যন্ত্রণার অবসান হয়।" 

জর্জিয়া, সাভানার প্যারামেডিক রানিয়া আফনেহ(২৩) বলেন, "বাড়িতে বোমা হামলার পর একটি শিশুকে তার বাবার সাথে নিয়ে আসা হয়েছিল। তার বাবা নগ্ন অবস্থায় পাতলা প্লাস্টিকের শিটে ঢাকা শরীর নিয়ে পাশের বিছানায় শুয়ে ছিল। মেয়ের চিৎকার শুনছিলেন কিন্তু তিনি নড়তে পারছিলেন না। শিশুটি আহত ছিল, কিন্তু সে ব্যথায় চিৎকার করছিল না। সে তার মা এবং বাবার জন্য চিৎকার করছিল। আমি তাকে কোলো তোলে ঘুম পারানোর আগ পর্যন্ত সে প্রচণ্ড ভয়ে ছিল।"  ওকলাহোমা সিটির নেফ্রোলজিস্ট এন্ড ইন্টারনিস্ট ডাঃ তালাল আলী খান(৪০) বলেন, "গাজায় অনেক শিশু স্বাভাবিক শিশুর মতো নয়। মনে হচ্ছে তাদের শৈশব মুছে গেছে। কোনো হাসি নেই তাদের, চোখের যোগাযোগ নেই। তারা স্বাভাবিক শিশুদের মতোও খেলে না। আমি দেখেছি তারা কেবল বসে থাকে এবং তাদের হাত বা পানির বোতলের দিকে তাকিয়ে থাকে, কারো সাথে মেলামেশা করতে আগ্রহী নয় তারা।" 

২৫ জন ডাক্তার, নার্স এবং প্যারামেডিক শিশুদের এমন করুণ অবস্থার কথা বর্ণনা করেছেন, যেখানে সুস্থ জন্ম নেওয়া নবজাতকরা হাসপাতালে ফিরে আসে এবং মৃত্যু বরণ করে। কারণ তাদের মায়েরা অপুষ্টির কারণে বুকের দুধ দিতে অক্ষম ছিল, এবং শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত ফর্মুলা দুধ এবং বিশুদ্ধ পানির অভাব ছিল। এর ফলে শিশুরা ডিহাইড্রেশন, ক্ষুধা ও সংক্রমণে মারা যায়।

আউন্ড নার্স প্রেক্টিশনার লরা সোবোডা, পেডিয়াট্রিক ক্রিটিক্যাল কেয়ার ডাক্তার ডাঃ আর্হাম আলি(৩৮ বছর বয়সী, লোমা লিন্ডা, ক্যালিফর্নিয়া), নার্স মেরিল টাইডিংস, আবিরাহ মুহাম্মদ, বার্ন এন্ড আউন্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ার নার্স মনিকা জনস্টন মনিকা জনস্টন(৪৫, পোর্টল্যান্ড, ওরেগন) বর্ণনা করেছেন গাজার শিশুরা অপুষ্টি ও ডিহাইড্রেশনের কারণে কিভাবে মারা যাচ্ছে। মায়েরা দুধ উৎপাদনে অক্ষম, নবজাতকেরা মারাত্মক ডিহাইড্রেশন ও সংক্রমণে ভুগছিল এবং অনেক শিশুর মৃত্যু সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য হলেও খাদ্য ও পরিষ্কার পানির অভাবে তারা বেঁচে থাকতে পারছিন না বলে জানান তারা। পেডিয়াট্রিক নার্স প্রেক্টিশনার আস্মা তাহা(৫৭, পোর্টল্যান্ড, ওরেগন) এবং শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ আমান ওদেহ (৪০, অস্টিন, টেক্সাস) দুজনেই গাজার শিশুদের চরম খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটের কথা তুলে ধরেছেন। তাহা বলছেন, প্রতিদিন পরিবারগুলো তাদের নবজাতকদের জন্য এক ক্যান ফর্মুলার জন্য আবেদন করত, কিন্তু সরবরাহ সংকটের কারণে সাহায্য করা সম্ভব হত না। ওদেহ বর্ণনা করেন, নবজাতক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে প্রতি দিনই শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেতো, কারণ পর্যাপ্ত পুষ্টি এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ছিল না। তারা জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে কোন শিশুকে ভেন্টিলেটরে রাখা হবে সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেও বাধ্য হতেন। 

অন‍্যদিকে আরো ৫৩ জন ডাক্তার, নার্স এবং প্যারামেডিক পর্যবেক্ষণ করেছেন যে অনেক শিশু সহজে প্রতিরোধযোগ্য সংক্রমণে ভুগছিল, যার মধ্যে কেউ কেউ সেই সংক্রমণের কারণে মারা গিয়েছিল।

ডাঃ মার্ক পার্লমাটার জানান, অনেক শিশুরা সহজে নিরাময়যোগ্য আঘাত, যেমন ভাঙা হাড় ও পোড়ার কারণেও মারা গিয়েছে, অথচ উন্নয়নশীল দেশে এরা সেরে উঠতো।মহিলা এবং মেয়েরা তাঁবুর স্ক্র্যাপ এবং ডায়াপার, তোয়ালে, কাপড়ের টুকরো মাসিক প্যাড হিসাবে ব্যবহার করায় বিষাক্ত শক সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হচ্ছিল বলে জানান, আবিরাহ মুহাম্মদ। ডাঃ ইরফান গালারিয়া বলেছেন, "আমার সব রোগীদেরই অস্ত্রোপচারের পর সংক্রমণ দেখা দিতো যা তাদের আঘাতের প্রকৃতির কারণে ঘটেছিল — মাটি, ধ্বংসাবশেষের সংস্পর্শে থাকায় ক্ষতগুলো অপরিষ্কার ছিল বলে।" ডাহ আহলিয়া কাত্তান বলেছেন, "একাধিক অল্প বয়স্ক রোগীর অঙ্গচ্ছেদ করার পর তারা সংক্রামিত হয়েছিল। স্যানিটেশন এবং পুষ্টির অভাবের কারণে দুর্বল ক্ষত নিরাময় আরও অঙ্গচ্ছেদ ঘটায়।" বার্ন এন্ড আউন্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ার নার্স মনিকা জনস্টন বলেছেন, "আমার সময়ে নতুন ভর্তি হওয়া প্রায় সব শিশু মারা গেছে। যদি আমাদের কাছে যথাযথ পুষ্টি, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের উপায় (যেমন সাবান এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার) এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকত, তবে এই প্রায় সব মৃত্যুই এড়ানো যেত।"  ডঃ অ্যাডাম হ‍্যামওয়ে বলেছেন, "যে সব শিশুর আমি দেখাশোনা করেছি, তারা প্রায় সবই মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছিল। এই কারণে অস্ত্রোপচার থেকে নিরাময় প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়ে এবং সংক্রমণের হার বেড়ে যায়। আমি যত আহত শিশুর যত্ন নিয়েছি, তাদের মৃত্যুর হার প্রায় ৮০ শতাংশ।" ক্রিটিক্যাল কেয়ার এন্ড ট্রমা নার্স উইলহেলমি ম্যাসে(৫০) বলেছেন, "চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং সরবরাহের অভাবের কারণে রোগীরা প্রতিরোধযোগ্য সংক্রমণের ফলে মারা যাচ্ছিল।" 

গাজার হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসা সরঞ্জাম, যেমন সাবান এবং গ্লাভস, প্রায়ই অনুপস্থিত থাকার কথা জানিয়েছেন আরো ৬৪ জন চিকিৎসক, নার্স এবং প্যারামেডিক। এই মৌলিক প্রয়োজনীয়তার অভাবে চিকিৎসা সেবা মারাত্বকভাবে  ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং রোগীদের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। এনেস্থেসিওলজিস্ট ডাঃ এনডাল ফারাহ বলেন, "আমরা ড্রেপ বা সার্জিক্যাল গাউন ছাড়াই অস্ত্রোপচার করেছি। আমরা এমন সরঞ্জাম পুনরায় ব্যবহার করেছি যা নিষ্পত্তিযোগ্য হওয়া উচিত। আমি অনেক যুদ্ধ অঞ্চলে ছিলাম, তবে এটির অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি খারাপ ছিল। অনেক শিশুরা বিস্ফোরক থেকে বারুদের পোড়া ক্ষত নিয়ে আসতো, কিন্তু চিতিৎসাসেবকদের  কাছে সঠিক ব্যথার ওষুধ বা মলম থাকতো না বলে জানান, ওয়াশিংটন ভ্যাঙ্কুভার এর ইমার্জেন্সি নার্স, ব্রেন্ডা মালডোনাডো(৫৮)। 

নার্স মনিকা জনস্টন বলেন, "আইভি ক্যাপ না থাকার কারণে পোর্ট খোলা ছিল, যা সংক্রমণের কারণ হয়েছে। সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ছিল না, রোগীদের বিছানায় নিজেদের নোংরা করার পরে পরিষ্কার করার কোনও সরবরাহ ছিল না। আমি তুলোর বল দিয়ে মল পরিষ্কার করেছিলাম, যা ছিল একটি ভয়ঙ্কর, ভয়ঙ্কর জগাখিচুড়ি অবস্থা।" 

হাওয়াই, হনলুলুর কার্ডিওথোরাসিক সার্জন ডঃ আয়মান আব্দুল ঘানি(৫৭) জানান, "অপারেশন থিয়েটারে জীবাণুমুক্তির অবস্থা খুবই খারাপ ছিল, সব জায়গায় মাছি ছিল। হাসপাতালের মাঠে নর্দমার জলে লোকেদের আশ্রয় নিতে দেখা যাচ্ছিল।" প্রথমবারের মতো ক্ষত থেকে মাছি ম্যাগটস বের হতে দেখেছেন ডঃ মোহাম্মদ আল-জাগবীর। তিনি বলেন, "স্বাস্থ্যকর সরবরাহের অভাবে বহু আঘাত সংক্রমিত হয়েছিল।" 

ডাঃ আম্মার ঘনেম, পালমোনারি এন্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ার ডাক্তার(৫৪, ডেট্রয়েট, মিশিগান) বলেছেন, "আমাদের কাছে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ছিল না। সর্বত্র মাছি ছিল, রোগীদের মধ্যে প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া স্থানান্তর হচ্ছিল, ট্রমা থেকে বেঁচে যাওয়া রোগীরাও সংক্রমণে মারা গেছে।" 

ডাঃ ইরফান গালারিয়া বলেছেন, "আমি প্রাথমিক যন্ত্রপাতি দিয়ে অপারেশন করেছি। ড্রেসিং পরিবর্তন বা অস্ত্রোপচারের পরে কোনো ব্যথার ওষুধ ছিল না, রোগীদের মেঝেতে ফেলে রাখা হতো।" 

প্রায়ই গ্লাভস বা হাত ধোয়ার উপকরণ ছাড়াই রোগীদের যত্ন নিতে হতো বলে জানান, ইমার্জেন্সি নার্স নিনা এনজি। 

ডাঃ মার্ক পার্লমাটার উল্লেখ করেন, "যদি আমরা সরঞ্জাম না আনতাম, কোনো কিছুই ব্যবহার করা যেত না। শুধুমাত্র সাবানের অভাব এবং যথাযথ জীবাণুমুক্তকরণ সরঞ্জামের অভাবে অত্যধিক অসুস্থতা এবং মৃত্যুহার উভয়ই অপরিমেয় ছিল।" পালমোনারি এন্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ার ডাক্তার  মোহাম্মদ আবদেলফাত্তাহ(৩৭, তুস্টিন, ক্যালিফর্নিয়া) বলেছেন, "আইসিইউতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সব ভেন্টিলেটরেই প্রতিরোধক ব্যাকটেরিয়া ছেয়ে গিয়েছিল। ভেন্টিলেটরে থাকা বেশিরভাগ রোগীই গুরুতর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন।"  ডাক্তার মিমি সাইদ জানান, "প্রায় সব মেডিকেল সরঞ্জাম পুনর্ব্যবহার করেছেন তারা যা সংক্রমণের কারণ হয়েছিল। কোনো অ্যান্টিবায়োটিক ছিল না। অনেক সময় জল ফুরিয়ে যেত বলে হাত ধুতে পারেননি তারা। হাসপাতালে বিদ্যুৎও চলে যেত।" লরা সোবোডা বলেছেন, "প্রায় সব ক্ষত সংক্রমিত ছিল, একদিনে যত ম্যাগটস দেখেছি আমি, পুরো পেশাগত জীবনে এতটা দেখিনি।"

গাজায় মার্কিন ডাক্তার ও নার্সদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের গাজা নীতিকে অবহিত করা উচিত বলে মনে করেন, ট্রমা এন্ড জেনারেল সার্জন ফিরোজ সিধওয়া। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গাজায় 'নির্বিচারে সামরিক সহিংসতা', অক্সফাম 'খাদ্য ও মানবিক সহায়তার বাধা' এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধ্বংস হওয়াকে চিহ্নিত করেছে। এর ফলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটছে, যা এক বছর আগে হলোকাস্ট এবং গণহত্যা গবেষকরা সতর্ক করেছিলেন। ফিরোজ সিধওয়া বলেন, "মার্কিন আইন ও নীতি দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনে জড়িত দেশ এবং সামরিক ইউনিটগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ নিষিদ্ধ করেছে, বিশেষ করে যখন সেই লঙ্ঘনগুলো শিশুদের ওপর পরিচালিত হয়। ২০২৩ সালে আপডেট হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কনভেনশনাল আর্মস ট্রান্সফার নীতিতে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। শিশুদের গুলিবিদ্ধ হওয়া, নবজাতক এবং তাদের মায়েদের খাদ্য সহায়তা ও ধ্বংসপ্রাপ্ত পানি সরবরাহের কারণে অনাহারে মারা যাওয়া এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিস্থিতি এই নীতির গুরুতর লঙ্ঘন। গত ১২ মাস ধরে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হাতে ইসরায়েলের প্রতি সামরিক সহায়তা বন্ধ করার ক্ষমতা ছিল। এর পরিবর্তে, সরকার প্রায় প্রতিটি সুযোগেই সাহায্য অব্যাহত রেখেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আগস্টের শেষের একটি তথ্যে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ৫০,০০০ টনেরও বেশি সামরিক সরঞ্জাম, গোলাবারুদ এবং অস্ত্র পাঠিয়েছে। এর গড় দাঁড়ায় প্রতি সপ্তাহে ১০টি পরিবহন প্লেন এবং ২টি কার্গো জাহাজের অস্ত্র সরবরাহ।" 

গাজার এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা ধ্বংসযজ্ঞে ফিলিস্তিনি মৃত্যুর সংখ্যা কয়েক হাজার থেকে লক্ষাধিক হতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি গাজাকে শিশুদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থান হিসেবে বিবেচনা করেছে এবং মানবিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। ইউনিসেফও গাজাকে শিশুদের জন‍্য বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থান হিসাবে রেট করেছে। অক্সফাম রিপোর্ট করেছে যে আল-মাওয়াসি, যাকে ইসরায়েল গাজার মানবিক নিরাপদ অঞ্চল হিসাবে মনোনীত করেছে, সেখানে প্রতি ৪,১৩০ জন মানুষের জন্য মাত্র একটি টয়লেট রয়েছে।

৭ অক্টোবরের হামলা এবং পরবর্তী যুদ্ধে অন্তত ১,৪৭০ ইসরায়েলি নিহত হয়েছে। গাজায় থাকা জিম্মিদের অর্ধেক মারা গেছে বলে জানা গেছে। আমেরিকান কর্মকর্তারা হামাসকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার জন্য দোষারোপ করলেও, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলি রিপোর্ট করে যে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হামাস এবং হিজবুল্লাহর সাথে যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে নাশকতা করেছেন, যার ফলে ইসরায়েলের যুদ্ধের লক্ষ্য, বিশেষ করে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি, অর্জনে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। 

ফিরোজ সিধওয়া বলেন, "ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের জন্য এই ভয়াবহ পরিণতি আমাদের সমাজে আইন শৃঙ্খলাকে কি কলুষিত করে না? অবশ্যই, বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসন বলতে পারবে না যে তারা জানত না কী করছে। আটজন মার্কিন সিনেটর, ৮৮ জন প্রতিনিধি, ১৮৫ জন আইনজীবী এবং ১২ জন বেসামরিক কর্মচারী (যারা গাজা নীতির প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন) প্রশাসনকে জানিয়েছেন যে ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া অব্যাহত রাখা মার্কিন আইনের বিরুদ্ধে। সেপ্টেম্বর মাসে, ProPublica রিপোর্ট করেছে যে বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসন মানবিক সহায়তা অবরুদ্ধ করা দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত আইনগুলি মেনে চলা থেকে এড়ানের চেষ্টা করেছিল।" 

ফিরোজ সিধওয়া বলেন, "ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র একসাথে গাজাকে এক বুনো রুক্ষ ভূমিতে পরিণত করছে। তবে, আমরা আমাদের অস্ত্র, গোলাবারুদ, যুদ্ধজেটের জ্বালানি, গোয়েন্দা তথ্য এবং লজিস্টিক সহায়তা ব্যবহারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারি। আমরা আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে সমস্ত পক্ষের জন্য অস্ত্রের প্রবাহ বন্ধ করতে পারি। মার্কিন আইনের প্রয়োগ, যা ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা আরোপ করে, তা ব্যাপক সমর্থন পেতে পারেং এই নির্মমতা শেষ হওয়া উচিত, এবং আমেরিকানদের নিজেদের প্রতি কঠোর দৃষ্টিপাত করতে হবে।"

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন