বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, “বাড়ির গরু বাড়ির ঘাস খায় না।” কথাটার মধ্যে আমাদের সমাজের একটি অদ্ভুত মানসিকতার ছবি আছে। বাড়ির উঠানে যে ঘাস প্রতিদিন চোখের সামনে পড়ে থাকে, গরুটি সেটি খেতে চায় না। অথচ তাকে একটু দূরে নিয়ে গেলেই সেই ঘাস খাওয়ার জন্য তার কী আগ্রহ! আমাদের মানুষের ক্ষেত্রেও অনেক সময় এমনটি ঘটে। ঘরের মানুষকে আমরা সহজে মূল্য দিতে চাই না। অথচ সেই একই মানুষ যখন বাইরের মানুষের কাছে স্বীকৃতি পায়, তখন তাকে নিয়ে আমাদের গর্বের সীমা থাকে না।
আরেকটি প্রবাদ আছে, “ঘরের জনের মূল্য নাই, পরের জন মূল্যবান।” ঘরের একজন মানুষ যত জ্ঞানী, বিচক্ষণ কিংবা যোগ্যই হোন না কেন, ঘরের মানুষ তাকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চান না। কোনো পরামর্শের প্রয়োজন হলে বাইরের কাউকে ডেকে আনা হয়। তার কথা মন দিয়ে শোনা হয়। অথচ যে মানুষটি বছরের পর বছর পাশে ছিলেন, তার কথা যেন কোনো কথাই নয়। আমার মনে হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে আমাদের বর্তমান আচরণেও সেই পুরোনো মানসিকতার ছায়া দেখতে পাই।
কয়েক দিন আগেও আমি এক জায়গায় বিতর্ক করছিলাম। যারা কিছুদিন আগেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশংসা করেছেন, আজ তাদের অনেককেই দেখছি তার সমালোচনায় মুখর। তাদের বক্তব্য, শেখ হাসিনা বিদায় হওয়ার পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল, সেই সরকার নাকি দেশটার বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। এখন মানুষ নাকি তার ফল টের পাচ্ছে। কেউ বলছেন, তিনি বড় বড় কথা বলেছেন। কেউ বলছেন, নিজের আখের গুছিয়েছেন। কেউ আবার তার বিরুদ্ধে পুরোনো মামলা, আদালতের জরিমানা কিংবা বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টেনে আনছেন। আরও বড় অভিযোগ হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে তিনি নাকি দেশকে আমেরিকার হাতে তুলে দিয়েছেন।
আমি স্বীকার করছি, এসব বিষয়ে আমার নিজের জ্ঞান খুব গভীর নয়। সংবাদপত্রে যা পড়েছি, টেলিভিশনে যা দেখেছি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যা ভেসে এসেছে, তার বাইরে সবকিছুর আগাগোড়া আমি জানি না। তাই কোনো বিষয়ে অন্ধ সমর্থন করার পক্ষেও আমি নই। কিন্তু একটি বিষয় আমি বুঝি। ড. ইউনূস ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রকে কিছুটা নতুনভাবে সাজানোর চেষ্টা করেছিলেন। রাষ্ট্রের যে প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল হয়ে পড়েছে, সেগুলোর সংস্কারের জন্য তিনি বিভিন্ন কমিটি ও কমিশন করেছিলেন। সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, পুলিশ, জনপ্রশাসন এবং দুর্নীতি দমনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংস্কার প্রস্তাব তৈরি হয়েছিল। পরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সেসব প্রস্তাবের একটি অংশে ঐকমত্যও তৈরি হয়। ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলো ১৬৬টি প্রস্তাবের মধ্যে ৬২টি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল।
অর্থাৎ ড. ইউনূসের সময়টাকে শুধু “দেশের বারোটা বাজানোর সময়” বলে দেখলে পুরো ঘটনাটাকে দেখা হয় না। তার সরকারের ব্যর্থতা থাকলে তার সমালোচনা অবশ্যই হবে। কোথায় ভুল হয়েছে, কোথায় প্রশাসনিক দুর্বলতা ছিল, কোথায় অর্থনীতিতে প্রত্যাশিত ফল আসেনি, সেসব নিয়ে প্রশ্ন করতেই হবে। কিন্তু একজন মানুষের সব কাজকে একসঙ্গে অস্বীকার করে দেওয়া কি ন্যায়সংগত? আমার প্রশ্ন এখানেই।
আমাকে একজন বললেন, আপনি নীতির কথা বলেন, সাম্যের সমাজের কথা বলেন, অথচ ড. ইউনূসের মতো একজন মানুষকে সমর্থন করেন। এটা তো স্ববিরোধিতা। আমি বললাম, আমি ড. ইউনূসের সবকিছুকে সমর্থন করি না। একজন মানুষকে সমর্থন করা আর তার প্রতিটি সিদ্ধান্তকে সমর্থন করা এক কথা নয়। ড. ইউনূসেরও ভুল থাকতে পারে, সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, এমনকি কিছু সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমারও দ্বিমত থাকতে পারে। কিন্তু তাই বলে তাকে পুরোপুরি খারিজ করে দিতে হবে কেন?
আমার কাছে ড. ইউনূসের সবচেয়ে বড় ভূমিকা অন্য জায়গায়। শেখ হাসিনার পতনের পর একটি গভীর রাজনৈতিক শূন্যতার সময়ে একজন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত, গ্রহণযোগ্য এবং নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত মানুষ দেশের হাল ধরেছিলেন। গণঅভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি যদি আরও অস্থির হয়ে যেত, তাহলে কী হতো, সেটা আমরা নিশ্চিতভাবে জানি না। আমার বিশ্বাস, ড. ইউনূসের মতো একজন মানুষের উপস্থিতি সেই সময়ে বাংলাদেশকে একটি আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছিল। বিদেশি রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক মহল বুঝতে পেরেছিল, বাংলাদেশে এমন একজন মানুষ নেতৃত্বে এসেছেন যার সঙ্গে তারা কথা বলতে পারে।
এখন কেউ কেউ বলেন, শেখ হাসিনাকে সরিয়ে লাভ কী হলো? ঘুষখোর ঘুষ খাচ্ছে, দখলবাজ দখল করছে, লুটেরা লুটপাট করছে, বিদ্যুৎ গ্যাসের সংকট আছে, মানুষের দুর্ভোগ আছে। আমি বলি, এসব সত্য হলে তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে শেখ হাসিনার সময়টাই ভালো ছিল। একটি স্বৈরতান্ত্রিক বা কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার পতনের পরদিনই একটি আদর্শ রাষ্ট্র তৈরি হয়ে যাবে, এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। রাষ্ট্রের কাঠামো বদলাতে সময় লাগে। প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে সময় লাগে। মানুষের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলাতেও সময় লাগে।
সবচেয়ে বড় কথা, আমি এখন নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারছি। হয়তো এখনো ভয় আছে, হয়তো এখনো অনেক সীমাবদ্ধতা আছে, হয়তো সব ধরনের ভয় পুরোপুরি দূর হয়নি। কিন্তু আমি লিখতে পারছি। হাসিনার সময় যে কথাগুলো লিখতে পারিনি, সেগুলো এখন লিখতে পারছি। আমার কাছে এটাও একটি পরিবর্তন। গণতন্ত্রের মূল্য বুঝতে হলে কখনো কখনো নিজের লেখার স্বাধীনতাটুকুর দিকে তাকালেই হয়।
ড. ইউনূসকে নিয়ে আমার নিজের বিশ্বাস আরও শক্ত হয়েছে বিদেশে গিয়ে। কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়া শহরে ছেলের বাসায় গিয়েছিলাম। ছেলে সেখানে পিএইচডি করছে। একদিন তার কয়েকজন বন্ধু আমাদের বাসায় এসেছিল। লেবানন, আমেরিকা, চীন, ইসরাইলসহ বিভিন্ন দেশের ছেলে মেয়ে। বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের জ্ঞান খুব বেশি নয়। শেখ হাসিনা কে, শেখ মুজিবুর রহমান কে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে কী ঘটেছে, এসব নিয়ে তাদের জানাশোনা সীমিত।
আমি যখন শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার কথা বললাম, তারা বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে রইল। পরে আমি আমার লেখা ব্যঙ্গাত্মক ছড়ার একটি বই তাদের দিলাম। তারা গুগলের সাহায্যে অনুবাদ করে কয়েকটি ছড়া পড়ল এবং বেশ আনন্দ পেল। কিন্তু যখন বললাম, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নিয়েছেন, তখন তাদের চোখেমুখে অন্যরকম আগ্রহ দেখলাম। “কোন ইউনূস?” প্রশ্ন করার পর যখন বললাম, নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া ড. ইউনূস, তখন তারা সবাই তাকে চিনতে পারল।
এই অভিজ্ঞতার কথাই আমাকে বারবার সেই প্রবাদ দুটির কথা মনে করিয়ে দেয়। বিদেশে যে মানুষটিকে সবাই চেনে, নিজের দেশে আমরা তাকে কত সহজে ছোট করে দেখি!
ফিলাডেলফিয়ার একটি পুরোনো পাবলিক লাইব্রেরিতে গিয়েও একই অভিজ্ঞতা হলো। আমি লেখালেখির মানুষ, তাই বিদেশে গেলেও লাইব্রেরি দেখতে ভালোবাসি। ছেলেকে বললাম, এখানে বাংলা বই আছে কি না দেখো। ক্যাটালগে বাংলা বইয়ের আলাদা কোনো উল্লেখযোগ্য সংগ্রহ পাওয়া গেল না। তারপর রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দের বই খুঁজতে বললাম। রবীন্দ্রনাথের নাম পাওয়া গেল, তবে সেটি ছিল একজন আমেরিকান লেখকের লেখা বই।
শেখ হাসিনা কিংবা শেখ মুজিবুর রহমানের নামে কী বই আছে, সেটিও খোঁজা হলো। আমার জানা অনুযায়ী সেখানে তেমন কিছু পাওয়া গেল না। তারপর বললাম, ড. ইউনূসের বই আছে কি না দেখো। কম্পিউটারে সার্চ দিতেই ড. ইউনূসের লেখা তিনটি বই পাওয়া গেল। তিনটিই ইংরেজিতে, এবং লাইব্রেরিতে প্রতিটির একাধিক কপি সংরক্ষিত ছিল।
আমি জানি, কোনো মানুষের মূল্য শুধু একটি বিদেশি লাইব্রেরিতে তার বই থাকার ওপর নির্ভর করে না। কিন্তু ঘটনাটি প্রতীকী। আমরা যাকে ঘরের মানুষ মনে করে অবহেলা করছি, পৃথিবীর অন্য প্রান্তের মানুষ তাকে জ্ঞান, উদ্যোগ ও সামাজিক চিন্তার একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে চেনে। এটাই তো সেই “বাড়ির গরু বাড়ির ঘাস খায় না”।
এবার আসি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির কথায়। “দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন”, “আমেরিকার গোলাম বানিয়ে দিয়েছেন” এমন কথা শুনলে আগে চুক্তির কাগজটা পড়তে হয়। আবেগ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির বিচার করা যায় না। ২০২৫ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পণ্যের ওপর প্রস্তাবিত ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ করেছিল। পরবর্তী নয় মাসের আলোচনার পর ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে, যেখানে বাংলাদেশের পণ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ১৯ শতাংশে নামানো হয় এবং নির্দিষ্ট শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি কিছু পোশাক শূন্য শুল্কে প্রবেশের সুযোগের ব্যবস্থা করা হয়।
চুক্তিতে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শিল্প ও কৃষিপণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর সুযোগ দিতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে কিছু বাণিজ্যিক বাধা কমানোর কথাও আছে। পাশাপাশি শ্রম অধিকার, দুর্নীতি দমন, কাস্টমস আধুনিকীকরণ এবং ডিজিটাল বাণিজ্য নিয়ে কিছু প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
এখন কেউ চাইলে এই চুক্তির সমালোচনা করতে পারেন। বলতে পারেন, বাংলাদেশ আরও ভালো শর্ত আদায় করতে পারত কি না। বলতে পারেন, মার্কিন পণ্যের জন্য বাজার খুলে দেওয়ার ফলে দেশীয় শিল্প কতটা চাপে পড়বে। বলতে পারেন, আমদানি বাড়লে আমাদের বাণিজ্য ভারসাম্যের কী হবে। এসব প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সরাসরি বলা যে “দেশ আমেরিকার কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে”, সেটা কি যুক্তির কথা?
আমার কাছে দেশ বিক্রি আর বাণিজ্য চুক্তি এক বিষয় নয়। পৃথিবীর প্রায় সব দেশই অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে। দরকষাকষি হয়, সুবিধা নেওয়া হয়, কিছু সুবিধা ছাড়তে হয়। আসল প্রশ্ন হচ্ছে, চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা রক্ষা হয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তর দলীয় স্লোগানে নয়, চুক্তির প্রতিটি ধারা পড়ে দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথিতেও চুক্তিটিকে দুই দেশের বাজারে পারস্পরিক প্রবেশাধিকার বাড়ানোর বাণিজ্যিক কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
আমি তাই ড. ইউনূসকে দেবতা বানানোর পক্ষেও নই, আবার খলনায়ক বানানোর পক্ষেও নই। তিনি মানুষ, তার দোষ আছে, সীমাবদ্ধতা আছে, ভুল থাকতে পারে। কিন্তু তার অবদানও আছে। তিনি বাংলাদেশের একজন মানুষ হয়েও পৃথিবীর বহু মানুষের কাছে বাংলাদেশের পরিচয় তৈরি করেছেন। ক্ষুদ্রঋণ থেকে সামাজিক ব্যবসা পর্যন্ত তার কাজ আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়েছে। নোবেল পুরস্কার তাকে শুধু ব্যক্তিগত সম্মান দেয়নি, বাংলাদেশের নামকেও বিশ্বের বহু মানুষের কাছে পরিচিত করেছে।
আমাদের সমস্যা হচ্ছে, আমরা ঘরের মানুষকে মূল্য দিতে শিখিনি। বাইরের কেউ প্রশংসা করলে তখন তার মূল্য বুঝি। একজন মানুষ আমাদের মতের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না বলেই তার সব কাজ বাতিল করে দিতে হবে, এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। ড. ইউনূসের সমালোচনা হোক, কিন্তু তথ্য দিয়ে হোক। তার ভুল ধরিয়ে দেওয়া হোক, কিন্তু অপমানের ভাষায় নয়। তার চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠুক, কিন্তু আগে চুক্তি পড়া হোক। তার সংস্কার উদ্যোগের বিচার হোক, কিন্তু সেই উদ্যোগগুলো বাস্তবে কী প্রস্তাব দিয়েছিল, সেটাও দেখা হোক।
আমার কাছে ড. ইউনূসকে সমর্থন করার অর্থ তার সব সিদ্ধান্তকে সমর্থন করা নয়। আমি তাকে সমর্থন করি সেই অর্থে, যে তিনি এমন একটি সময়ে দেশের হাল ধরেছিলেন যখন দেশকে একজন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মুখের প্রয়োজন ছিল। আমি তাকে সমর্থন করি এই কারণে যে তিনি রাষ্ট্র সংস্কারের একটি আলোচনা শুরু করেছিলেন। আমি তাকে সমর্থন করি এই কারণে যে বিশ্বের বহু মানুষ তাকে চেনে, অথচ আমরা নিজেরাই তাকে অনেক সময় চিনতে চাই না।
তাই শেষ কথা একটাই, ঘরের গরু যদি ঘরের ঘাস না খায়, তার জন্য গরুকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। ঘরের মানুষকে যদি আমরা মূল্য না দিই, তার জন্য শুধু বাইরের মানুষকে দোষ দিয়েও লাভ নেই। আমাদের নিজেদের চোখ খুলতে হবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভুলের ঊর্ধ্বে নন, কিন্তু তাকে পুরোপুরি বাতিল করে দেওয়ার মতো মানুষও নন। দোষে গুণে একজন মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখতে হবে। আর বাংলাদেশের একজন মানুষকে পৃথিবী যখন মূল্য দেয়, তখন অন্তত একবার আমাদেরও থেমে প্রশ্ন করা উচিত, আমরা কি সত্যিই তাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করছি?
অভিমত থেকে আরো পড়ুন