https://www.prothomalony.com/
8355
north-america
প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ১১:০৭
সিআইপি, আল হারামাইন গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং এন আর বি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান নাসির বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ আত্মসমর্পণ করতে জানে না। অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ লড়ে যায়। এ লড়াইয়ের ফসলই আজ সারা বিশ্বে বাংলাদেশের মানুষের একটি অবস্থান সৃষ্টি করেছে। একসময় পাশের দেশের নাম বলে নিজের দেশকে পরিচয় দিতে হয়েছে। তিনি বলেছেন, আজকে পরিশ্রমী বাংলাদেশিদের কারণেই দেশকে সমীহের চোখে দেখে সারা বিশ্ব।
৩১ জানুয়ারি বুধবার বর্তমান সময়ে দেশে বিদেশে জীবন্ত কিংবদন্তি মাহতাবুর রহমান জ্যাকসন হাইটসে প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা অফিস পরিদর্শন করেন। লেখক সাংবাদিকদের সাথে খোলামেলা আড্ডায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী এবং নির্বাহী সম্পাদক মনজুরুল হক তাঁকে কার্যালয়ে স্বাগত জানান। নিউইয়র্কের বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী এবং সংগঠক আসিফ চৌধুরীসহ মাহতাবুর রহমান উষ্ণ সময় কাটিয়েছেন প্রথম আলো কার্যালয়ে।
আলাপচারিতায় মাহতাবুর রহমান ১৯৮১ সালে নগদ ৮০ হাজার ডলার নিয়ে জেএফকে বিমানবন্দরে উপস্থিত হওয়ার স্মৃতি তর্পণ করেন। সৌদি আরবের পারিবারিক ব্যবসা তখন তাদের। বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্ট নিয়ে বিমানবন্দরে নেমে নগদ ৮০ হাজার ডলারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া হয়েছিল নিরাপত্তা দিয়ে। ব্যবসার জন্য আসলেও একমাস পরে ফিরে যাওয়ার কারণও তিনি জানালেন হাস্যরসের সাথে।
শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, সারা বিশ্বে এখন ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর পারফিউম ব্যবসা। জানালেন , বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন নতুন বিক্রিয়কেন্দ্র খোলা হচ্ছে। এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান দেশের ব্যাংকিং খাতের অব্যবস্থাপনা নিয়েও তাঁর উষ্মা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ব্যাংকের চেয়ারম্যানরা যদি অসৎ হন, অর্থ পাচারে জড়িত থাকেন- তাহলে মানুষের আস্থার জায়গা আর থাকে কোথায় !
.jpg)
মাহতাবুর রহমান নাসির আলাপচারিতায় তাঁর মরহুম পিতার কথা স্মরণ করেন। যদি মক্কার পবিত্র মসজিদে বসে উপদেশ দিয়েছিলেন সৎ থাকার। বলেছিলেন, যে দেশেই থাকবে, সে দেশের আইন মেনে চলতে হবে। দেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয় এমন কাজ কিছুতেই করা যাবে না। তিনি বলেন, কোথাও আইন লঙ্ঘন করে কিছু করা যায় না।
বাংলাদেশ সরকার অর্থনীতিতে অবদানের জন্য সিআইপি চালু করার পর থেকে মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান শীর্ষ সিআইপি হিসেবে প্রতিবছরই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেয়ে আসছেন। তিনি সবাইকে ব্যাংকিং খাতে অর্থ পাঠানোর আহ্বান জানান। নিজে কোনোদিন হুন্ডিতে দেশে অর্থ পাঠাননি উল্লেখ করে মাহতাবুর রহমান বলেন, আমরা যদি কর্মের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত রেখে না যেতে পারি , তাহলে পরের প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাব দিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা যেন আমাদের উৎস ভুলে না যাই। নিজেরা এবং সন্তানরা যেন তাদের উৎসের সাথে সংযুক্ত থাকে। মাহতাবুর রহমান জানান, তিনি উন্নত বিশ্বের সুযোগ সুবিধাসহ দেশে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এর একমাত্র কারণ নিজেদের পরিবারের পরের প্রজন্মের লোকজনকে দেশের সাথে সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখা।
দেশে বিদেশে নানা জনহিতকর কাজের মধ্যেও জড়িত মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার মাধ্যমে প্রবাসীদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানিয়ে বলেন, আমাদের প্রতিটি কাজ যেন দেশের মঙ্গলের জন্য হয়। প্রবাসে কেউ কোন খারাপ কাজ করলে নিজের নয়, দেশের বদনাম হয়। দেশের পরিশ্রমী সন্তানরা দেশের জন্য বদনাম হতে পারে এমন কোনো কাজ করতে পারে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার একদল লেখক সাংবাদিক ২০২১ সালে দুবাই সফর করে তাঁর আতিথেয়তা পেয়েছেন বলে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করা হয় আলাপচারিতায়। সৌহার্দ্যের এ আলাপচারিতায় লেখক সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শেলী জামান খান, রওশন হক, ভায়লা সালিনা, জাকির হোসেন প্রমুখ।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন