https://www.prothomalony.com/
8354
north-america
প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ১০:৪৯
আমেরিকা শুধু আমাদের দিয়েই যাচ্ছে এমন নয়, বাংলাদেশের সোনালি সন্তানরা আমেরিকাকেও দিয়ে যাচ্ছেন নানাভাবে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকান প্রকৌশলী, শিল্পোদ্যোক্তা এবং পরোপকারী ব্যক্তিত্ব সৈয়দ জাকি হোসেইন এবং তাঁর স্ত্রী রাহাত হোসেইন লং আইল্যান্ড নর্থওয়েল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পুরো একটা ইউনিট দান করে অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। হাসপাতালটির পুরো কার্ডিও ভাস্কুলার ইনসেন্টিভ ইউনিট গড়ে উঠেছে হোসেইন দম্পতির অনুদানে।
৩১ জানুয়ারি বুধবার হাসপাতালে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে সৈয়দ জাকি হোসেইন এবং তাঁর স্ত্রী রাহাত হোসেইনের নামে নামকরণ করে ইউনিটের উদ্বোধন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় সৈয়দ জাকি হোসেইন বলেছেন, 'কোন অর্থ সম্পদই আমরা কবরে নিয়ে যেতে পারবো না। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমার শেষ ডলারটিও মৃত্যুর আগে আমি জনহিতকর কাজে দান করে যাবো।'
সৈয়দ জাকি হোসেইন নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড এলাকার ব্যবসায়ী কমিউনিটির মধ্যে খুবই সম্মানিত একজন বাংলাদেশি আমেরিকান। দীর্ঘদিন থেকে নীরবে জনহিতকর কাজের মাধ্যমে তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছেন। আমেরিকা ও বাংলাদেশে জনহিতরক কাজ এবং মানবিক বহু কাজে তিনি ব্যক্তিগত অর্থ থেকে অনুদান দিয়ে আসছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে একমাত্র এলিস আইল্যান্ড পদকপ্রাপ্ত বাংলাদেশি আমেরিকান প্রফেসর ডঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদের ভগ্নিপতি সৈয়দ জাকি হোসেইন। ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে অভিজ্ঞ জাকি হোসেন ১৯৮৯ সালে মডার্ন প্যাকেজিং ইনকর্পোরেটেড প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে তিনটি ভিন্ন প্রকৌশল সংস্থায় ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিশ্রমের সাথে কাজ করেছিলেন। বাংলাদেশে জন্ম নেয়া এ ব্যক্তিত্ব ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএস করেন। তারপর, তিনি নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমএস ডিগ্রি লাভ করেন।
.png)
বর্তমানে জাকি হোসেইন প্যাকেজিং সরঞ্জামের কাস্টম ডিজাইনিং এবং উৎপাদনে বিশেষজ্ঞ একটি সফল মার্কিন কোম্পানির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি পিডিএফ সিল ইনকর্পোরেটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং একটি প্রি ডাই কাট ফয়েল লিডের প্রযোজক, যা মূলত ডেইরি, দই, জুস এবং মশলাদার খাদ্য প্যাকেজিং শিল্পে ব্যবহৃত হয়। নব্বই দশকের শেষের দিকে কেউরিগের জন্য কে-কাপ তৈরির জন্য তিনি মেশিনের নকশা ও উন্নয়নের সাথে জড়িত ছিলেন। শিল্পে সর্বশেষ প্রযুক্তিগত অগ্রগতির উদ্ভাবনে সৈয়দ জাকি হোসেইন অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। জনহিতকর কাজের লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নেয়ার জন্য জাকি হোসেইন নিউইয়র্কের ফার্মিংডেলে একটি কফি উৎপাদন কারখানা খোলেন। পিনটেইল কফি ইনক নামের এ প্রতিষ্ঠান থেকে আসা সব লভ্যাংশ ক্ষুধার্ত মানুষদের খাওয়ানোর জন্য দান করা হয়৷
জাকি হোসেন বেশ কিছু অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি প্রধান আর্থিক পৃষ্ঠপোষক। যার মধ্যে রয়েছে, সখী। এ সংগঠনটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নারীদের প্রতি সহিংসতা বন্ধ করতে কাজ করে থাকে।
ভলান্টিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, অভাবী শিশুদের মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নে সহায়তায় তহবিল এবং সংস্থান সংগ্রহের জন্য নিবেদিত সংগঠনের বোর্ড চেয়ারম্যান সৈয়দ জাকি হোসেইন।
শহীদ রওশন আলী কলেজ, লং আইল্যান্ড মুসলিম সোসাইটি, বাংলাদেশের মুকুল নিকেতন স্কুল এবং ঘোড়াসাল উচ্চবিদ্যালয়ের কম্পিউটার লিটারেসি এবং স্মার্ট বোর্ড শিক্ষা কার্যক্রমের পৃষ্ঠপোষক তিনি। সৈয়দ জাকি হোসেইন বাংলাদেশের ৬০টি হাসপাতালে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এবং আঘাতজনিত জরুরি বিভাগের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করতে হয় তা প্রশিক্ষণ দিতে সাহায্য করে থাকেন। তার স্ত্রীসহ জাকি হোসেইন লং আইল্যান্ডে অবস্থিত ইস্ট মেডো এবং হিকসভিল হাই স্কুলের ভ্যালেডিক্টোরিয়ানদের একটি বার্ষিক বৃত্তি প্রদান করে থাকেন।
২০০৮ সালে তার উদার অবদানে নাসাউ ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারে জাকি হোসেন সেন্টার ফর হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস এবং ভাস্কুলার ডিজিজ বিভাগ খোলার উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০১৪ সালে জাকি হোসেন ফাউন্ডেশন বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং সমস্ত লং আইল্যান্ডবাসীকে প্রয়োজনীয় কভারেজ এবং মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা পেতে সাহায্য করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একজন সদস্য হিসাবে কাজ করে চলেছেন।
২০১২ সালে জাকি হোসাইন লং আইল্যান্ড এনার্জিয়া পার্টনারশিপের বোর্ড অফ ট্রাস্টিতে নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালে তিনি মলয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডে নির্বাচিত হন যেখানে তিনি কমিউনিটি সার্ভিস হিসাবে অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে সৈয়দ জাকি হোসেইন আইল্যান্ড হার্ভেস্ট বোর্ড অফ ট্রাস্টিতে নির্বাচিত হন। যেখানে তিনি আইল্যান্ড হার্ভেস্ট বোর্ড অফ ডিরেক্টরস-এর বোর্ড সদস্য এবং ক্যাপিটাল ফান্ডিং ইনিশিয়েটিভ-এর চেয়ারপারসন হিসাবে কাজ করেন। আইল্যান্ড হারভেস্ট হল লং আইল্যান্ডের বৃহত্তম ক্ষুধার্ত ত্রাণ সংস্থা যেখানে হোসেন এই সংস্থার জন্য কেনা একটি নতুন ভবনের জন্য অনুদান হিসেবে তিনি মূলধন তহবিল দিয়েছিলেন। সৈয়দ জাকি হোসেইন সিলেটে একটি কিডনি হাসপাতাল নির্মাণ শুরু করার জন্য তহবিল সরবরাহ করছেন যা ২০২১ সাল থেকে নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যেখানে সুবিধাপ্রাপ্ত রোগীদের চিকিৎসা করা হবে।
সৈয়দ জাকি হোসেইন এবং তার স্ত্রী নর্থওয়েল হেলথকে কার্ডিও থোরাসিক আইসিইউ-এর জন্য অত্যন্ত উদার অনুদান দিয়েছেন। হোসেইন দম্পতির এসব অনুদান এবং জনহিতরক কাজের মাধ্যমে আমেরিকায় বাংলাদেশিরা গর্বের সাথে বলতে পারবে নিজেদের স্বদেশির অবদানের কথা।
সৈয়দ জাকি হোসেইন তার এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। যেখান থেকে আমি জানি দারিদ্র কতো বড় সমস্যা। লং আইল্যান্ড নর্থওয়েল হাসপাতালে 'রাহাত এন্ড জাকি হোসেইন কার্ডিও ইন্টেন্সিইভ কেয়ার ইউনিট নামকরনের পর তিনি বলেন, এভাবেই আমরা আমদের কমিউনিটিকে কিছু ফিরিয়ে দিতে পারি। লঙ আইল্যান্ডের এ হাসপাতালকে অন্যতম সেরা হাসপাতাল বলে তিনি উল্লেখ করেন। অনুদান দেয়া ছাড়াও এ কাজের মাধ্যমে এবং নামকরণের মাধ্যমে তিনি একটি দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করেছেন। বলেছেন, "এমন অনুদান এবং নামফলকে বাংলাদেশির নাম সচারচর দেখা যায় না। এ ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশিরা এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত হবেন এবং যারা হাসপাতালটিতে সেবা গ্রহণ করতে যাবেন, সেসব বাংলাদেশিরাও এ নিয়ে গর্ব করতে পারবেন।"
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন