https://www.prothomalony.com/

7942

north-america

উত্তর আমেরিকা

/সং/খ্যা/ল/ঘু/দে/র নি/রা/প/ত্তা নিশ্চিত করতে আগাম ব্যবস্থা গ্রহন করতে যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদের আহ্বান

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারী ২০২৪ ০৪:৩০

যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ 'দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তা' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনের সময় কিংবা তৎপরবর্তীকালে ২০০১ সালের অক্টোবর মাসের মত সম্ভাব্য সংখ্যালঘু বিরোধী সন্ত্রাস ঠেকানো এবং ত্বরিৎ গতিতে মোকাবেলার জন্য অগ্রীম ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর রোববার শহরের জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্তারাঁর সভাকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

অধ্যাপক নবেন্দু দত্তের সভাপতিত্বে এবং ডক্টর দ্বিজেন ভট্টাচার্যের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধে নিহত লক্ষ লক্ষ শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। সভায় উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের জন্য কৃকজ্ঞতা প্রকাশ করে অধ্যাপক নবেন্দু দত্তের স্বাগতিক বক্তব্যের পর সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক বিষ্ণু গোপ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য একটি লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান।

প্রশ্নোত্তর পর্বে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মঞ্চে উপবিষ্টদের মধ্যে নবেন্দু দত্ত, শিতাংশু গুহ, ডক্টর দ্বিজেন ভট্টাচার্য, রীণা সাহা, ও ডক্টর দিলীপ নাথ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে উত্তরদাতারা বলেন যে এই সমস্যা মোকাবেলা করার সর্বোত্তম পথ হচ্ছে এই মুহূর্ত্তে দেশের নির্বাচন কমিশনারের উচিৎ  রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, সকল রাজনৈতিক দলের প্রধান, ও সচেতন নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে সম্ভাব্য সংখ্যালঘূ বিরোধী সন্ত্রাসী আক্রমণ ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া, এবং কোন দুর্ঘটনা ঘটে গেলে সেটা ত্বরিৎ গতিতে মোকাবেলার মূল দাযিত্বটা র‍্যাব, বি.জি বি., ও সেনাবাহিনীর ওপর ন্যাস্ত করার জন্য সংবাদ সম্মেলনে আহ্বান জানানো হয়।
কীভাবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের স্থায়ী সমাধান হতে পারে এই মর্মে সাংবাদিকদরে প্রশ্নের উত্তরে একাধিক উত্তরদাতা বলেন যে, এটা নির্ভর করছে সরকারের সদিচ্ছার ওপর – সরকার যদি যুক্তরাষ্ট্রের মত হেইট ক্রাইম ও স্পীচ আইন অন্তর্ভুক্ত করে একটি কঠোর মইনোরিটি এ্যক্ট প্রনয়ণ করে এবং সংখ্যালঘু নির্যাতকদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে, তা'হলে সামপ্রদায়িক শক্তি সংখ্যালঘু নাগরিকদের নির্যাতন করার দু:সাহস করবে না। তাঁরা বলেন এটা সম্ভব হতে পারে শুধু যদি প্রগতিশীল মুসলমানরা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্ঠি করেন, যেমন প্রগতিশীল শ্বেতাঙ্গরা কৃষ্ণাঙ্গদের সম-অধিকার প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করছেন।  

নুতন বছরের শুরুর প্রাক্কালে আমরা আবারও আপনাদের শরণাপন্ন হয়েছি, কারণ ৭ জানুয়ারি আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয়  দ্বাদশ সংসদীয় নির্বাচন ও তৎপরবর্তী সময়ে দেশে আমাদের আত্মীয় স্বজনদের নিরাপত্তা নিয়ে আমারা শঙ্কিত। যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদ এই নির্বাচনটি 'সুষ্ঠু ও অবাধ' হবে বলে আশা প্রকাশ করছে; তবে, বাংলাদেশে নির্বাচন মানেই তো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আরেক দফা পৈশাচীক নির্যাতন। অতীতের বারবার তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে, এমনতর ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আগাম ব্যবস্থা গ্রহন করার  জন্য যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদ আপনাদের মাধ্যমে দেশের সংশ্লিষ্ট সকল মহলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ঐক্য পরিষদ সংবাদ সম্মেলন করে এ' ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং নির্বাচনের পরেও  তিন সপ্তাহ সেনা-সদস্যদের মাঠে রাখার দাবি জানিয়েছে।  আমরা ঐ দাবির প্রতিও পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি।  

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, " ২০০১-এর নির্বাচনের আগে-পরে সংখ্যালঘু  নির্যাতনের করুন কাহিনী একটু  স্মরণ করতে অনুরোধ করি। স্মর্তব্য যে, ঐসব নারকীয় ঘটনার হোতাদের কিন্ত বিচার হয়নি আজও । ২০১২ সালে রামু থেকে ২০২১-এ কুমিল্লায় সংখ্যালঘু নির্যাতনের বীভৎস ঘটনাবলী, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে নিরপরাধ সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ধর্ম-অবমাননার মিথ্যা অজুহাতে কারারুদ্ধ করার নিষ্ঠুরতা আমাদের জন্য সতত: কষ্ট প্রদায়ী। এরই মধ্যে আরেকটি জাতীয় নির্বাচন সমাসন্ন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি ঐক্য পরিষদের দাবি অগ্রাহ্য করে বেশ কয়েকজন  অভিযুক্ত সংখ্যালঘু নির্যাতনকারীকে মনোনয়ন দিয়েছে (এ্যাডভোকেট   সুলতানা কামাল, সম্পাদক শ্যামল দত্ত, প্রথম আলো, ৩০শে ডিসেম্বর,২০২৩)  । যেমন, কুমিল্লার বাহার এম. পি., যিনি ২০২১-এ হিন্দু নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত, বা  নারায়ণগঞ্জের সেলিম ওসমান, যিনি শিক্ষক শ্যামল ভক্তের  ওপর নির্যাতনের অপরাধে অভিযুক্ত। যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদ সংখ্যালঘু নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত যেকোন প্রার্থীকে ভোট না দেওয়ার জন্যে সংখ্যালঘুদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছে।"

সংবাদ সম্মেলনে দেয়া লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, "এবারের নির্বাচন ঘোষণার ক'দিন আগে মুন্সিগঞ্জের এম. পি. এ্যডভোকেট মৃনাল দাসকে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দী গোষ্ঠী ধর্ম তুলে যাচ্ছেতাই গালাগালি করার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে আমরা দেখে স্তম্ভিত হয়েছি। এই মুহূর্তে আমরা আসন্ন নির্বাচন সম্পর্কিত গুটিকয় ঘটনার উল্লেখ করছি: চুয়াডাঙ্গা-১'র স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী সমর্থক ব্যবসায়ী দিলীপ কুমার আগারওয়াল বলেছেন, 'অবস্থা ভয়ঙ্কর, আমার ওপর আক্রমন হয়েছে। তিনি বলেন, তার ২০জন আহত কর্মীকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার।  বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী, বর্তমান সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথ-র সমর্থকদের ওপর হিজলা উপজেলায় শাম্মী আখতারের লোকজন আক্রমণ চালায়, ঘরবাড়ী ভেঙ্গে দেয়। এ সময় একজন সমর্থককে কোপানো হয় এবং আরো ৫জন আহত হয়। শাম্মির অনুসারী খালেদ মাসুদ আহমেদ ৪০-৫০জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়ীতে আক্রমন চালায় বলে আলীগঞ্জ বাজার মন্দির কমিটির প্রেসিডেন্ট রাম প্রসাদ অভিযোগ করেন। 'মেহেরপুর-১ (মুজিবনগর, সদর উপজেলা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক দুই মেয়াদের সংসদ সদস্য প্রফেসর আব্দুল মান্নান ফোনে জেলার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অলোক কুমার দাসকে  হুমকি দেন, এ ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে। ফোনে ডা. অলোক কুমার দাসকে হুমকি দিয়ে প্রফেসর আব্দুল মান্নান বলেন,  'তুমি বাইরে থেকে এসে মেহেরপুরে খুব আরামেই আছো। টাকা-পয়সা অনেক কামাই করছো। বাড়ি-ঘর করেছো। আমি এম. পি. হই, আর না হই, তোমার মেহেরপুরের বাসা আমি উঠিয়ে দেব। আর যদি তুমি সাবধান হয়ে যাও তাহলে আমার প্রিয় পাত্র হয়ে থাকতে পারবে।'  নারীপক্ষ নির্বাচনে নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে ।তাঁরা আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন স্থানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানকার নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ নির্বাচনে সম্পৃক্ত প্রশাসন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াসহ পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের জোর দাবিও জানিয়েছে। গেল ২৭শে ডিসেম্বর ২০২৩, ঢাকায় এম. পি. হাজী মোহাম্মদ সেলিম সন্ত্রাসী বাহিনী পাঠিয়ে ঢাকাস্থ চকবাজারের ৩নং রুইহাট্টা লেনে নির্মিত ৮-তলা 'এনেক্স ফ্রেন্ডশীপ মার্কেট' ভবন ভাংচুর করে এবং সেটা জবরদখল করার চেষ্টা চালায়। ঐ সম্পত্তির মালিক জ্যোতি মাধব বণিক পরদিন ৱ্যাব মহাপরিচালকের কাছে তাদের রক্ষার জন্যে আবেদন জানিয়েছেন।

অতীতের নির্বাচন কালীন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এবং অতি-সাম্প্রতিক সংখ্যালঘু বিরোধী সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সংখ্যালঘুরা আশঙ্কা করছেন যে, তাঁদের ওপর যে কোন সময় ২০০১, রামু, বা নাসির নগরের মত ভয়াবহ মাত্রার আক্রমণ হতে পারে। এ' নিয়ে দেশে তাঁরা যেমন গভীর উৎকণ্ঠায় আছেন আমরাও তেমনি আমাদের আাত্মীয় স্বজনের জন্য উদ্বিগ্ন।"

তাঁরা বলেন, " ইংরেজি নববর্ষে আমাদের চাওয়া হল, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ও সংখ্যালঘুরা নিরাপদে থাকুক, বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ একটি ধর্ম-নিরপেক্ষ উদার গণতান্ত্রিক দেশ হিশেবে পরিচিত হোক, আর ধর্ম হোক যার যার, রাষ্ট্র হোক সবার।" সংগঠনের অন্য সভাপতি ডাক্তার টমাস দুলু রায় দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এই আশা ব্যাক্ত করে, সকলকে নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন। 
 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন