https://www.prothomalony.com/
7669
north-america
প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ০৯:৪৮
জাতিসংঘ ঘোষিত “সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা দিবস-২০২৩” উপলক্ষে বাংলাদেশ দূতাবাস, ইয়াঙ্গুন ১২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার একটি আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ), ইউএনওপিএস, এবং নরওয়ে, ডেনমার্ক, থাইল্যান্ড, সুইডেন সহ বিভিন্ন দূতাবাসের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। ইয়াঙ্গুনস্থ জনস্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টরসহ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থেকে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ “বিশ্বস্বাস্থ্য ও কূটনীতি” শীর্ষক একটি প্রস্তাবনার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য "সবার জন্য স্বাস্থ্য: সক্রিয় হওয়ার সময়" শীর্ষক বিষয়ের আলোচনায় অংশগ্রহণ করে মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ডাঃ মোঃ মনোয়ার হোসেন ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সকল জনগনের জন্য সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকল্পে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপসমূহের বিষয়ে উপস্থিত সকলকে অবহিত করেন। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্য-সেবায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির সূচকসমূহ তুলে ধরে সার্বজনীন স্বাস্থ্য-সেবায় বর্তমান সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক-এর মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর ফলে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়। রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, স্বাস্থ্যখাতে সরকারীভাবে কম অর্থ খরচ করা সত্ত্বেও নীতির ধারাবাহিকতা, স্বাস্থ্য কর্মীদের কর্মদক্ষতা, ঔষধ উৎপাদনের সক্ষমতা ও স্বল্প সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় কম খরচে ভাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্যতম উদাহরণ হিসেবে স্বীকৃত হয়ে আসছে।
অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যে ইয়াঙ্গুন জনস্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর প্রফেসর হ্ল্যা হ্ল্যা উইন মিয়ানমারের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে চলমান বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী মিয়ানমারের চলমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচীর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মিয়ানমার কার্যালয়ের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার উপদেষ্টা ড: শক্তিভ্যাল সেলভারাজ সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবায় শক্তিশালী হেলথ সিস্টেমস এর প্রয়োজনীয়তা এবং এই লক্ষ্যে যথাযথ বিনিয়োগের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। অন্যান্যদের মধ্যে ইয়াঙ্গুনস্থ সুইডেনের দূতাবাস প্রধান জ্যাকভ স্ট্রম, নরওয়ের দূতাবাসের প্রথম সচিব জেটিল লিয়ন বোর্ডবিক, ইউএনওপিএ এর হেড অব প্রোগ্রাম ড: আয়েই ইয় সইএ এবং ইউনিসেফ- এর প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ ঘোষিত টেইসই উন্নয়ন অভীষ্ট ৩.৮-এ সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে আর্থিক ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে জনগণের জন্য গুনগত মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য রাজনৈতিক অঙ্গীকার নিশ্চিতের লক্ষ্যে ২০১৯ এবং ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অংশগ্রহণ করেন এবং সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে তাঁর সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বিশ্বসভায় তুলে ধরেন।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন