https://www.prothomalony.com/
7633
north-america
ডেনমার্ক নিষিদ্ধ করেছে ইসলাম ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন পোড়ানোকে। দেশটির পার্লামেন্ট এ বিষয়ে একটি আইন পাস করেছে। এর ফলে এখন থেকে কোনো ব্যক্তি চাইলেই প্রতিবাদ বা বিক্ষোভের অংশ হিসেবে জনসমক্ষে কোরআন পোড়াতে পারবে না।
স্থানীয় সময় ৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ডেনিশ আইনসভা ফলকেটিংয়ে এই বিল পাস হয়। ১৭৯ আসনের ফলকেটিংয়ের ৯৪ জন সদস্য বিলটির পক্ষে ভোট দেন এবং বিপক্ষে ভোট দেন ৭৭ জন। সদ্য পাস হওয়া আইনে বলা হয়েছে, এ আইন যেকোনো স্বীকৃত ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে এমন যেকোনো গ্রন্থের সঙ্গে অগ্রহণযোগ্য আচরণ করা নিষিদ্ধ করছে।
ডেনমার্কের পার্লামেন্ট ফলকেটিং আইনটি পাস করলেও তা এখনই কার্যকর হবে না। কারণ, দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকৃত রানি মার্গারেট নতুন এই আইনে স্বাক্ষর না করলে তা আইনে পরিণত হবে না। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি এ মাসেই বিলটিতে স্বাক্ষর করবেন।
নতুন পাশ করা এই আইনের বিষয়ে ডেনিশ আইন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, আইনটি আরোপ করা হয়েছে মূলত ‘সিস্টেমেটিক মকারি বা অপমানজনক ঘটনা’ ঘটানো থেকে বিরত রাখতে; যা ডেনমার্কে সন্ত্রাসবাদ উসকে দিতে পারে।
এর আগে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোককে রাসমুসেন বলেছেন, ড্যানিশ সরকার কোরআন পোড়ানো রোধে আইনি উপায় খুঁজে বের করবে, যাতে করে অন্যান্য দেশের দূতাবাসের সামনে কেউ কোরআনের কপি পোড়াতে না পারে। এক বিবৃতিতে রাসমুসেন বলেছেন, দূতাবাসের সামনে কোরআন পোড়ানো চরমপন্থা এবং ঘৃর্ণিত কাজ। কয়েকজন বেপরোয়া ব্যক্তি এ কাজ করেছেন। এই কয়েক ব্যক্তির কর্মকাণ্ড গোটা ড্যানিশ রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করে না।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ ধরনের বিক্ষোভ চরমপন্থীদের উপকার করে এবং নিরাপত্তা হুমকির সৃষ্টি করে। আর তাই দূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভসহ কিছু পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে হস্তক্ষেপ করার আইনি উপায় খতিয়ে দেখছে কোপেনহেগেন।
এক বিবৃতিতে ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা এমন কিছু বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ করতে চায়, যেখানে ‘অন্যান্য দেশ, সংস্কৃতি ও ধর্মের অবমাননা করা হচ্ছে এবং যেখানে নিরাপত্তা উদ্বেগসহ ডেনমার্কের জন্য উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।’
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন