https://www.prothomalony.com/
7250
north-america
প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৩ ০৯:৪৪
যুক্তরাজ্যের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। ১৩ নভেম্বর সোমবার ক্যামেরনের হাতে এ দায়িত্ব তুলে দেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক।
যুক্তরাজ্যের সরকার ব্যবস্থায় ক্যামেরনের এভাবে ফিরে আসা সবাইকে খানিকটা হলেও বিস্মিত করেছে। অবশ্য নিজের মন্ত্রিসভার শীর্ষপদে একের পর এক রদবদল এনে সোমবার বেশ কিছু চমক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সুনাক। তিনি প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করেন সুয়েলা ব্রাভারম্যানকে। ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করে আসছিলেন ব্রেভারম্যান। সম্প্রতি একটি নিবন্ধে তিনি অভিযোগ করেছেন, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারীদের প্রতি পুলিশ পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। এ নিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ব্রেভারম্যান। তারপর নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয় জেমস ক্লেভারলিকে, যিনি এতদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামলানোর দায়িত্বে ছিলেন। তারপরই প্রশ্ন উঠে তবে কে হচ্ছেন নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। খানিকক্ষণ পর জানা যায়, ক্যামেরনের নাম।
২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ডেভিড ক্যামেরন। পরে ব্রেক্সিট নিয়ে গণভোটের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ক্যামেরন ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন আর গণভোটের ফল ছিল ব্রেক্সিটের পক্ষে।
সাত বছর পর আবারও যুক্তরাজ্যের সরকারে ফিরলেন ক্যামেরন। এ বিষয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাক্সে একটি টুইট করেন ক্যামেরন। তিনি লিখেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে আমাকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমি তা আনন্দচিত্তে গ্রহণ করেছি।’
এদিকে ইসরায়েল–হামাস সংঘাত নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোতে পক্ষে-বিপক্ষে নানা তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। টালমাটাল এই পরিস্থিতির মধ্যে ক্যামেরনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ডেভিড ক্যামেরন ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন।
দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাকে একটি কারাগারের সঙ্গে তুলনা করে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনের সমালোচনা করেছিলেন ক্যামেরন। সেই বছর তুরস্ক সফরে গিয়ে ক্যামেরন বলেছিলেন, ‘গাজা একটি কারাগারের মতো থাকতে পারে না।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে ক্যামেরন বলেছেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটসহ ভয়ংকর নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি আমরা। বিশ্বজুড়ে এই পরিবর্তনের সময়ে মিত্রদের পাশে থাকা, অংশীদারত্ব শক্তিশালী করা এবং আমাদের মতামতগুলো সবার কাছে পৌঁছানো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন