https://www.prothomalony.com/

7191

north-america

উত্তর আমেরিকা

দেড় কোটি প্রবাসী ভোটের অধিকার থেকে এবারও বঞ্চিত

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৩ ১০:৫৭

স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫২ বছরে দেড় কোটি প্রবাসী ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যদিও সংবিধানে সব নাগরিকের ভোটের অধিকারের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু এতো বছেরেও প্রবাসী বাংলাদেশির মৌলিক এই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ নিজ দেশের প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটি না থাকায় দেশে ও প্রবাসে অন্তহীন ভোগান্তির শিকার হন প্রবাসীরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রবাসীদের দেশের উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হলে তাদের প্রথমে ভোটের অধিকারের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সই এখন বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস। তারা বলছেন, ভোটের অধিকার প্রদানের কার্যকর ও প্রায়োগিক উদ্যোগ কোনও সরকারই নেয়নি। পরীক্ষামূলক হলেও এবারের নির্বাচনে কয়েকটি দেশে প্রবাসীদের ভোটাধিকার শুরু করা জরুরি।

বাংলাদেশের প্রায় সবাই একবাক্যে স্বীকার করবেন, বৈশ্বিক মহামারি, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, সর্বোপরি অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে বাংলাদেশ এখনও যতটুকু টিকে আছে, তা মূলত প্রবাসীদের কল্যাণেই। রাষ্ট্র থেকে কোনও সুযোগ-সুবিধা না নিয়েও তারা নিজেদের কষ্টার্জিত উপার্জন দিয়ে রাষ্ট্রের উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন; সামষ্টিক অর্থনীতির চাকা গতিশীল রাখছেন। অথচ অর্থনীতির জীবনীশক্তি প্রদায়ী এসব মানুষের প্রতি রাষ্ট্র কদাচিৎ দায়িত্ব পালন করে।

স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রবাসী সরকারের তহবিল গঠন, আন্তর্জাতিক সমর্থন ও জনমত গঠনে প্রবাসীদের অবদান এবং পরে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি যাদের হাত দিয়ে তৈরি হয়েছে, সেই প্রবাসীরা সব আমলেই দেশে বঞ্চনা-লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন।

রেমিট্যান্স বৃদ্ধি ও প্রবাসী বিনিয়োগ বাড়াতে সব সরকার প্রয়োজনের খাতিরে প্রবাসীদের ভোটের অধিকার দেওয়ার গালভরা প্রতিশ্রুতি দিলেও আজও তা কার্যত আলোর মুখ দেখেনি। অথচ পৃথিবীর প্রায় ১২০টি দেশ তাদের প্রবাসে থাকা জনগণের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত, মালদ্বীপ ও ভুটানসহ এশিয়ার প্রায় ২০টি দেশ তাদের প্রবাসী নাগরিকদের ভোট প্রদানের ব্যবস্থা করেছে। প্রবাসীদের ভোটের অধিকারের দাবিতে যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন সময় আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন প্রবাসীরা।

গ্রেটার সিলেট কাউন্সিলের অন্যতম শীর্ষ নেতা কে এম আবু তাহের চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার ব্যাপারে ২০০৮ সালে আইনি কাঠামো করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর এটা নিয়ে আর কাজ করা হয়নি। নির্বাচন কমিশনের এ বিষয়ে কেবল দু-একটি সেমিনার করে থেমে থাকার সুযোগ নেই।

ইউকে বাংলা প্রেসক্লাব সভাপতি রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী বলেন, প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে সবার আগে। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় অনেক প্রবাসী জমি ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে। তারা দেশে এসে বিভিন্ন সেবা পেতে হয়রানির শিকার হন।

পোস্টাল ভোট পদ্ধতিতে একজন প্রবাসী তার পছন্দমতো যেকোনও জায়গা থেকে ভোট দিতে পারেন। আবেদন করলে ওই ঠিকানায় আগে থেকে ব্যালট পেপার সরবরাহ করে নির্বাচন কমিশন। ভোট দেওয়ার পর তা ডাকযোগে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই পদ্ধতি প্রবাসীদের জন্য ২০০৮ সাল থেকে চালু আছে। যদিও এটা সম্পর্কে মানুষ জানেন না এবং এর প্রয়োগও তেমন হয় না।

দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে ভুটান, ভারত, মালদ্বীপে বিদেশে বসবাসরত নাগরিকদের ভোটের ব্যবস্থা রয়েছে। যুক্তরাজ্যে চালু রয়েছে প্রক্সি ও পোস্টাল ভোট। ১০০ বছর আগে তারা এই ব্যবস্থা চালু করেছে। অস্ট্রেলিয়ায় ১৯৪৯ সাল থেকে প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার প্রথা চালু আছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, প্রায় দেড় কোটির বেশি জনগোষ্ঠী পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আছেন। দ্বৈত নাগরিকের সংখ্যা ৫০ লাখ ধরলেও বাকি এক কোটি প্রবাসী জনগোষ্ঠীর সবাই প্রাপ্তবয়স্ক ও ভোটার হওয়ার উপযুক্ত এবং মোট ভোটের আনুপাতিক হারে ১০ শতাংশের বেশি। এই এক কোটি ভোটার দেশের জাতীয় নির্বাচনসহ যেকোনও নির্বাচনে ভোটের অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারতেন।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন