https://www.prothomalony.com/

7067

north-america

উত্তর আমেরিকা

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের দুর্দশা লাঘবে জাতিসংঘ বরাবরে চিঠি

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৩ ০৮:০৮

মালয়েশিয়ায় উন্নত জীবনের আশায় যাওয়া অনেক বাংলাদেশি শ্রমিকদের দিন কাটছে অনাহারে-অর্ধহারে। একদিকে কর্মহীন, অন্যদিকে মহাজন ও এনজিও ঋণের চাপে দিশেহারা এসব প্রবাসী যেন আধুনিক দাস। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) অধীন ওএইচসিএইচআরকে পাঠানো চিঠিতে এসব কথা উল্লেখ করেছেন অভিবাসী অধিকার কর্মী অ্যান্ডি হল। 

তিনি বলেছেন, মালয়েশিয়ায় চাকরিহীন ও ঋণের জালে জড়িয়ে পড়া বাংলাদেশি শ্রমিকরা 'মানবেতর জীবন যাপন’ করছেন। নোংরা পরিবেশে অল্প জায়গায় গাদাগাদি করে বহু মানুষ একসঙ্গে থাকছেন। অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, সামান্য খাবার এবং নিয়োগের অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে ঋণের বেড়াজালে পড়ে অসহায়ত্ব দিন যাপন করছেন তারা। গত ১৮ মাস বা এরও বেশি সময় ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা।

অভিবাসী অধিকার কর্মী বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি কীভাবে ঘটতে পারে তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব সরকারের। তাছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়োগ আবেদনগুলো যদি সঠিক সংখ্যার হয়, তাহলে দেশটিতে অতিরিক্ত শ্রমিক থাকার কথা নয়। সেক্ষেত্রে এমন মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হতো না। 

সম্প্রতি মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন ইসমাইল বলেছেন, অভিবাসী শ্রমিক নেয়ার নীতিমালা শিথিল এবং এর সুযোগ নেয়ায় দেশটির কারখানা ও সেবাখাতে অতিরিক্ত আড়াই লাখের বেশি শ্রমিক রয়ে গেছেন।

একটি নথিভুক্ত অভিযোগের উদ্ধৃতি দিয়ে অ্যান্ডি হল বলেন, এক স্থানে ৪০০ জন বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছেন। তাদের থাকার ও খাবারের উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এমনকি স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থান না থাকায়  স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।

তিনি বলেন, এছাড়া একটি ঘরে প্রায় ১৪ জন আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছ থেকে ভিডিও পেয়েছি। যে এজেন্ট তাদের এখানে নিয়ে এসেছেন, তারা তাদের প্রত্যেককে ২০০ টাকা দিয়েছেন। তারা খাবার কেনার জন্য যা খরচ করছেন। এতে তাদের বেশি দিন চলবে না।

অভিবাসী অধিকার কর্মী বলেন, শ্রমিকদের স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুসারে তাদের সম্পূর্ণ মজুরি পাওয়া উচিত। শ্রম আইন অনুযায়ী, সব সুযোগ সুবিধা প্রদান করা উচিত। শ্রমিকদের কাছে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় পুলিশি ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হতো। এমনকি তারা বাইরে কোনও কাজের সন্ধানেও বের হতে পারতেন না।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন