https://www.prothomalony.com/

6985

north-america

উত্তর আমেরিকা

গাজায় ২৪ ঘণ্টায় বোমার আঘাতে ৭০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৩ ০৪:১৯

২৪ অক্টোবর মঙ্গলবার সারা দিনে এবং আগের দিন রাতভর হামলায় গাজা উপত্যকায় শত শত মানুষ তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় বোমার আঘাতে ৭০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩০৫টিই শিশু।

৭ অক্টোবর ইসরায়েল–ফিলিস্তিন সংঘাত শুরুর পর থেকে এক দিনে এত মৃত্যু দেখেননি গাজার বাসিন্দারা। এর মধ্য দিয়ে উপত্যকাটিতে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৯১। আহত ১৬ হাজার ২৯৭ জন। অপর দিকে ইসরায়েলে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা আন্দোলনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ।

ইসরায়েল বলছে, হামাসকে নির্মূল করতেই তাদের এ জোরদার হামলা। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে উল্টোটা। গাজায় হামলা চালানোর ক্ষেত্রে কোনো বাছবিচার করছে না তারা। অবিরাম বোমাবর্ষণে নিমেষে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে আবাসিক ভবন, শরণার্থীশিবির, মসজিদ, গির্জা, হাসপাতালসহ নানা অবকাঠামো। গতকালও ইসরায়েল জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় তারা গাজার ৪০০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিটি বোমার আঘাতের সঙ্গে সঙ্গে গাজার হাসপাতালগুলোয় বাড়ছে আহত, চিরতরে পঙ্গু হওয়া মানুষের ভিড়। চিকিৎসকেরা বলছেন, বোমায় আহত ব্যক্তিদের ক্ষত দেখে মনে হচ্ছে, যেন তাঁদের ত্বক গলে যাচ্ছে। এ ক্ষত চিকিৎসায় কোনো ওষুধ হাসপাতালে নেই। এ অবস্থায় ইসরায়েল কী ধরনের মারণাস্ত্র ব্যবহার করছে, তা খতিয়ে দেখতে আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

ইসরায়েলের নির্বিচার ও টানা হামলায় গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে বলে গতকাল জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল–কুদরা। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ দিনে ইসরায়েলের হামলায় গাজায় ৬৫ চিকিৎসাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে ২৫টি অ্যাম্বুলেন্স। এ ছাড়া ১২টি হাসপাতাল ও ৩২টি স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, গাজার প্রায় দুই–তৃতীয়াংশ স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে কাজ বন্ধ হয়ে গেছে।

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে পবিত্র আল–আকসা মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল পুলিশ। মসজিদ চত্বরেও মুসলমানদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে মসজিদটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া গতকাল পশ্চিম তীর থেকে অন্তত ৩২ ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েল। এ নিয়ে গত ১৮ দিনে সেখানে ১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে আটক করা হলো। একই সময়ে ইসরায়েলের হামলায় এখানে নিহত হয়েছেন ৯৬ জন।  

 ৯ অক্টোবর ইসরায়েল গাজা অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে সেখানে চলছে বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি ও চিকিৎসা সরঞ্জামের চরম সংকট। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিএর কর্মকর্তা জুলিয়েট টোউমা বলেছেন, তাঁদের ১৫০টি আশ্রয়শিবিরে ৬ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের খাবার, পানি, স্বাস্থ্যসুরক্ষা সরঞ্জাম ও নিরাপত্তা প্রয়োজন। ২৩ অক্টোবর সোমবার  তিনি বলেন, ‘আমরা যদি জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি না পাই, তাহলে আগামীকাল (২৫ অক্টোবর বুধবার) রাত নাগাদ গাজায় আমাদের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।’

গত শনি থেকে সোমবার পর্যন্ত মিসর থেকে রাফাহ ক্রসিং হয়ে মাত্র ৫৪ ট্রাক ত্রাণসামগ্রী গাজায় পৌঁছেছে। সংঘাত শুরুর আগে এক দিনেই গড়ে ৪৫০ ট্রাক ত্রাণ পেতেন গাজাবাসী। বর্তমানে গাজায় প্রবেশ করা ত্রাণ নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে আসছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।
 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন