https://www.prothomalony.com/
6966
north-america
গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে চীন। যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করে শান্তি স্থাপনে সংলাপের উদ্যোগসহ ‘প্রয়োজনীয় সবকিছু’ করতে প্রস্তুত চীন। মধ্যপ্রাচ্যে চীনের বিশেষ দূতের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।
কূটনীতিক ঝাই জুন বর্তমানে সংঘর্ষে জর্জরিত গাজায় অবস্থান করছেন। ২৩ অক্টোবর সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি গাজার পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে বড় আকারে স্থল সংঘাত ও সশস্ত্র সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাটি বেশ উদ্বেগজনক। এর আগে ২২ অক্টোবর রোববার কায়রোর শান্তি সম্মেলনে অংশ নেন ঝাই। সম্মেলনে তিনি বলেন, চীন আন্তর্জাতিক মহলের সকল পক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দুই সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধের পর আয়োজিত এ সম্মেলনে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ’এই ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের অবসানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার’ আহ্বান জানান।
গত ৭ অক্টোবর সকালে ইসরায়েলে হামলা করে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। তারা মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে ইসরায়েলের দিকে ৫ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। একই সঙ্গে স্থলপথ, জলপথ ও আকাশপথে দেশটিতে ঢুকে পড়েন হামাস যোদ্ধারা। হামলা ও পালটা হামলায় এরমধ্যেই পাঁচ হাজারের বেশী মানুষের মৃত্যু হয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
দফায় দফায় গাজায় বিমান ও স্থল, এমনকি নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৬৫১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি অনুসারে, কায়রোর বৈঠকে ঝাই ‘অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব লড়াই শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন’।
ঝাই বলেন, চীনের বিশ্বাস যে বল সমস্যার সমাধানের উপায় নয় এবং সহিংসতার জবাবে সহিংসতা কেবল প্রতিশোধের দুষ্টচক্রের দিকে পরিচালিত করবে।
চীন সব সময় ইসরায়েলের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তবে দেশটি দশকের পর দশক ধরে ফিলিস্তিনিদেরও সমর্থন করে আসছে। মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে ও যুদ্ধ বিরতি নিয়ে কাজ করতে চীনা এ প্রতিনিধি বর্তমানে গাজায় কুটনৈতিক সফরে রয়েছেন। ঝাই এরই মধ্যে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফোনকলে আলাপ করেছেন।
ঝাইকে উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রচালিত সংবাদমাধ্যমটি বলে, ফিলিস্তিনের জরুরি সহায়তায় চীন সব সময় পাশে ছিল এবং থাকবে। মানবিক এ সংকট উত্তরণের জন্য চীন জাতিসংঘ এবং দ্বিপক্ষীয় মাধ্যম ব্যবহার করে কাজ করে যাবে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন