https://www.prothomalony.com/

6645

north-america

উত্তর আমেরিকা

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ নিয়ে আমেরিকার কোনদিনই আগ্রহ ছিল না, এখনও নেই !

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৭:২৪

সাবেক রাষ্ট্রদূত ডেন ডব্লিউ মজিনা বলেছেন বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন দ্বীপ কখনই আমেরিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোন স্থাপনা বলে মনে করা হয়নি। এ নিয়ে আমেরিকা কখনো আগ্রহ দেখানো হয়নি। এখনও এ নিয়ে আমেরিকার কোন উৎসাহ নেই। এ নিয়ে যে বক্তব্য দেয়া দেয়া হচ্ছে, তা সঠিক নয়। বাংলাদেশের উপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ কোন হস্তক্ষেপ নয়। বন্ধুরাষ্ট্র বন্ধুকে সাহায্য করছে। আমেরিকার ভিসা নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের সরকার সহ সব মহলই স্বাগত জানিয়েছে। ভিসা নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের বেলায় কাজ করছে, এর প্রমাণ র‍্যাবের উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি দেখা গেছে। মাধনাধিকার লঙ্ঘন এবং বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে ভিসা নিষেধাজ্ঞা কাজ না করলে , কী হতে পারে তা এখনই বলা যাবে না।

২৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক ভিত্তিক বাংলা সংবাদমাধ্যম টাইম টিভির আলোচনায় যোগ দিয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত ডেন মজিনা এসব কথা বলেছেন। জানুয়ারি ২৯ তারিখের আগে নির্বাচন নিয়ে অনেক কাজ করার আছে বলে মজিনা বলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালক আবু তাহেরের উপস্থাপনায় সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস প্রশ্ন রাখেন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নাইজেরিয়ায় কাজ করেনি। স্যাংশন দিয়ে বাংলাদেশে অবাদ ও নিরপপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব হবে কি না? জবাবে ডেন মজিনা বলেন। তিনি মনে করেন স্যাংশন কাজ করে এবং তিনি এ নিয়ে র‍্যাবের উপর স্যাংশনের উদাহরণ প্রদান করেন। বাংলাদেশ যদি পাল্টা সেংশন দেয়, কী হতে পারে ? এমন প্রশ্নের জবাবে মজিনা বলেন বাংলাদেশ কী কিরবে তিনি বলতে পারেন না। বাংলাদেশ নিজের জন্য যা ভালো মনে করে তা করতে পারে এবং  করবে বলে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে কিছু লোক নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ না হওয়ার কাজ কর্মে তৎপর হওয়ার আগে চিন্তা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নির্বাচনের আগে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন ঠিক কেন এমন করা হয়েছে তা তিনি বলতে পারবেন না। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার আগেই যাতে প্রক্রিয়াগুলো সঠিক থাকে এ নিয়ে চাপ সৃষ্টি করার জন্যই এমন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরে তো কিছুই করা যাবে না।  

সাংবাদিক ইব্রাহীম চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে সাবেক রাষ্ট্রদূত ডেন মনিজা বলেন, বাংলাদেশের সাথে আমেরিকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। বাংলাদেশ আমেরিকার অন্যতম সাহায্যদাতা দেশ এবং ভালো সম্পর্কের মধ্যেও এ সম্পর্ক উঠানামা করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সমস্যা চিহ্নিত করে সমস্যার সমাধান করাই হচ্ছে মূল কাজ বলে তিনি উল্লেখ করেন। আমেরিকা হচ্ছে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের অন্যতম গন্তব্য। সামাজিক , অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য খাতে বাংলাদেশের মানুষই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছে বলে ডেন মজিনা বলেন।

বাংলাদেশে নির্বাচন কীভাবে হবে, কোন প্রক্রিয়ায় হলে নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিক বাংলাদেশের জনগনের। ডেন মজিনা বলেন , আমেরিকার সেখানে বলার কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তাঁর সম্পর্ক, বাংলাদেশের কাজ করা সময় তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন ডেন মজিনা।
বাংলাদেশের নির্বাচন কীভাবে অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে এ নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের অবস্থান স্পষ্ট বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে ডেন মজিনা বলেন , সেন্ট মার্টিন দ্বীপ আমেরিকার সামরিক স্থাপনের জন্য এটির কোন মূল্য নেই। মার্কিন সামরিক স্থাপনের জন্য এটি খুবই ছোট এবং এবং গুরুত্বহীন বলে তিনি উল্লেখ করেন। সেন্ট মার্টিন নিয়ে কোনদিনই আমেরিকার কোন উৎসাহ ছিল না এবং এখনও নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসকে একজন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব উল্লেখ করে ডেন মজিনা বলেন ডঃ ইউনুসকে বাংলাদেশের কোন দায়িত্বে যাওয়া সম্পর্কে তাঁর কোন ধারনা নেই। মজিনা বলেন, এমন কাজ কোন রাষ্ট্রদূতের কাজ নয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের লোকজনই সিদ্ধান্ত নেবে এবং এ নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার সব যোগ্যতা রয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত বর্তমান মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে একজন চমৎকার রাষ্ট্রদূত বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন পিটার হাস দক্ষতার সাথে মার্কিন স্বার্থ দেখছেন। বাংলাদেশকে সাহায্য করছেন।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন