https://www.prothomalony.com/

6439

north-america

উত্তর আমেরিকা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশে ইসলামিক সন্ত্রাসীদের পক্ষে ওকালতি বন্ধ করতে হবে - আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৮:০৯

বাংলাদেশে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও ধর্মনিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং ইসলামিক সন্ত্রাসীদের পক্ষে ওকালতি বন্ধ করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলির শীর্ষ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। বাংলাদেশের পশ্চিমা অংশীদারদেরও নিশ্চিত করতে হবে যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং এর নেতা তারেক রহমান, যিনি দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, কোনো আন্তর্জাতিক অংশীদারের পৃষ্ঠপোষকতা যেন না পায়। বাংলাদেশে সহিংসতা, গণতন্ত্র এবং মার্কিন নীতি বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তারা আজ একথা বলেন।

কিছু মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে গণতন্ত্রীকরণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ এবং আফগানিস্তান ও ইরাক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থানের উদাহরণ উল্লেখ করে বক্তারা বলেন ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নির্বাচনে ডানপন্থী ইসলামী চরমপন্থীরা ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ আফগানিস্তান বা ইরাকে পরিণত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির প্লেইনসবোরোর কাউন্সিলম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডঃ নুরুন নবী এই সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন এবং বিশিষ্ট বাংলাদেশী মানবাধিকার কর্মী শাহরিয়ার কবির, আন্তর্জাতিক পাবলিক পলিসি বিশেষজ্ঞ সেথ ওল্ডমিক্সন, ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন এবং অধ্যাপক এবিএম নাসির সেমিনারে বক্তব্য রাখেন।

শাহরিয়ার কবির বলেন, ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলো গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না এবং সেই সংগঠনগুলো ধর্মভিত্তিক পবিত্র গ্রন্থ কোরানের মাধ্যমে বাংলাদেশকে শাসন করতে চায়। ২০০১-২০০৬ সালে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামাত-ই-ইসলামের নৃশংসতার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন করেন যে, যারা আল্লাহর সংবিধানে বিশ্বাস করে তারা কীভাবে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর গণতন্ত্র চর্চা করবে?

সেথ ওল্ডমিক্সন বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশীয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ মেটাতে কিছু করবে না; এটা বাংলাদেশীদের কাজ।  কিন্তু ঘটনার আগে এই ধরনের সহিংসতা বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে এটি সংঘটিত হওয়ার পরেই ধর্মীয় সহিংসতার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তিনি পশ্চিমা পরাশক্তিকে বাংলাদেশে ধর্মীয় চরমপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর ওকালতি করার জন্যও সতর্ক করেছেন। তিনি পারস্পরিক ও সম্মানজনক সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য মার্কিন সমাজে বাংলাদেশিদের অসামান্য সাফল্য গাথা তুলে ধরতে বলেন।

ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী ও বাংলাদেশে একটি বেপরোয়া নিষেধাজ্ঞা প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তিনি বাংলাদেশে ভিসা মঞ্জুরি পুনর্বিবেচনা করার জন্য এবং বাংলাদেশের বিষয়টিকে ব্যতিক্রমের সাথে দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও জানতেও চেয়েছেন যে, তাদের পদক্ষেপ তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতা ও সন্ত্রাস বন্ধ করবে কিনা।

ড. নাসির সহিংসতার ঐতিহাসিক কালপঞ্জি উপস্থাপন করেন, যেটি ১৯৭১ সালের গণহত্যার সাথে জড়িত। যারা গণহত্যা করেছিল তাদেরকে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ক্ষমা করেন দেন জেনারেল জিয়ার। এভাবে, জিয়াই প্রথম সহিংসতাকে প্রাতিষ্ঠানিক ও বৈধতা দেন। তারা আজও সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আরও নমনীয় মার্কিন নীতির উপর জোর দেন।
 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন