https://www.prothomalony.com/
18399
opinion
মানুষের জীবন কোনো সরলরেখা ধরে এগোয় না। জীবনের ক্যানভাসে কখনো কখনো এমন তীব্র অন্ধকার রং আছড়ে পড়ে, যা যেকাউকে পুরোপুরি দিশাহারা করে দিতে পারে। কিন্তু কিছু মানুষ থাকেন, যারা সেই শূন্যতা ও চরম প্রতিকূলতাকেই শক্তিতে রূপান্তর করেন; চড়াই-উতরাই পেরিয়ে নিজের মেধা, প্রজ্ঞা আর অদম্য সাহসে নতুন এক দিগন্তের সূচনা ঘটান। তেমনই এক অপরাজেয় ও দৃঢ়চেতা ব্যক্তিত্ব জেমি খান। শৈশবের গভীর পারিবারিক ট্র্যাজেডি, বিদেশের মাটিতে আর্থিক মন্দার অভিঘাত আর জীবনের নানা বাস্তবতাকে জয় করে তিনি আজ যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস শহরের তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ হাউজিং মার্কেটে নিজের এক উজ্জ্বল ও অনন্য অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। 'জি ম্যাগাজিন' এর প্রচ্ছদ স্বীকৃতি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মর্যাদাসম্পন্ন গণমাধ্যম 'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল' এর নজরকাড়া এই বাঙালি নারী উদ্যোক্তা একদিকে যেমন বিদেশের মূলধারার করপোরেট জগতে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন, তেমনি নিজের শিকড়, ঐতিহ্য ও বাঙালি সংস্কৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করে পরম আস্থায় সেবা দিয়ে যাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের। শূন্য থেকে শুরু করে আজ প্রায় এক হাজার ক্লায়েন্টের ভরসার প্রতীক হয়ে ওঠার পেছনের যে দীর্ঘ লড়াই, আত্মবিশ্বাস ও সাফল্যের আখ্যান— উত্তর আমেরিকা 'প্রথম আলো'র 'শিল্পঘর' পাতার পাঠকদের জন্য জেমি খানের সেই অনুপ্রেরণাদায়ী জীবনগাথা নিয়ে এই বিশেষ আয়োজন। ডালাস তথা টেক্সাসের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে তার এই রূপান্তরের ইতিবৃত্ত তুলে এনেছেন রোকেয়া দীপা।

প্রতিটি সফল মানুষের জীবনের মঞ্চের পেছনে থাকে এক অশ্রুসিক্ত সংগ্রামের ইতিহাস। জেমি খানের শুরুর গল্পটাও কোনো সাজানো রূপকথার মতো মসৃণ ছিল না; বরং জীবনের সূচনালগ্নেই তার ওপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল এক প্রলয়ংকরী ঝড়। তার বাবা তখন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিজস্ব ব্যবসা পরিচালনা করতেন। সেখানে হঠাৎ ঘটে যাওয়া এক নির্মম সহিংস বন্দুক হামলায় তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আকস্মিকভাবে প্রাণ হারান। জেমি ও তার বড় বোন তখন বয়সে এতটাই ছোট ছিলেন যে মৃত্যু আসলে কী, কিংবা একজন অভিভাবককে চিরতরে হারানোর গভীর শূন্যতা একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ কতটা অনিশ্চিত করে দিতে পারে, সেই বাস্তবতাবোধটুকু তখন তাদের তৈরি হয়নি। বাবার এই অকালপ্রয়াণের পর পরিবারে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার আর এক চরম সংকট। আর ঠিক সেই বিপর্যয়ের মুহূর্তে শুরু হয় সম্পত্তি, ব্যবসা ও টাকাপয়সা নিয়ে এক তিক্ত পারিবারিক রাজনীতি। প্রবাসে বা দেশে অনেক পরিবারেই সংকটের মুহূর্তে যে ধরনের স্বার্থের সংঘাত দেখা যায়, তাঁদের ক্ষেত্রেও তার কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি।
তবে গভীর বিশ্বাস আর পরম করুণাময়ের কৃপায় সেই চরম বিপদের দিনগুলোতেও প্রতিকূলতা তাদের থামিয়ে দিতে পারেনি। এই কঠিন সময়ে জেমির বড় বোন, যিনি বয়সে মাত্র চার বছরের বড় ছিলেন, সেই শৈশবেই নিজের সব শঙ্কা দূরে সরিয়ে ছোট বোনের জন্য এক দুর্ভেদ্য ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। বোনের সেই নিঃস্বার্থ সুরক্ষার কারণেই জেমি পারিবারিক কোন্দল ও তিক্ততার আঁচ থেকে নিজেকে পুরোপুরি মুক্ত রাখার সুযোগ পান। তিনি পরম নিশ্চিন্তে মনোযোগ দিতে পেরেছিলেন নিজের পড়াশোনা ও আত্মগঠনে। নিউইয়র্কের গতিশীল শিক্ষাঙ্গনে তিনি মিডল স্কুল ও হাইস্কুলের গণ্ডি সফলতার সঙ্গে অতিক্রম করেন। প্রতিকূলতার মাঝেও কীভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হয়, সেই শিক্ষা তিনি বোনের স্নেহছায়ায় বসেই পেয়েছিলেন। হাইস্কুল শেষ করার পর বোনের হাত ধরেই তিনি টেক্সাসে পাড়ি জমান, যেখানে তার সামনে উন্মোচিত হয় এক সম্পূর্ণ নতুন জগৎ এবং শুরু হয় তার জীবনের দ্বিতীয় পর্বের অবিরাম পথচলা।
দীর্ঘদিন বিদেশে বসবাস, পশ্চিমা জীবনের ব্যস্ততা এবং করপোরেট দুনিয়ার অবিশ্রান্ত দৌড়ঝাঁপ সত্ত্বেও জেমি খানের মননে বাঙালি সংস্কৃতি সর্বদাই অমলিন। তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, মানুষ পৃথিবীর যে প্রান্তেই যাক না কেন, নিজের আত্মপরিচয় ও শিকড়কে ভুলে গেলে ব্যক্তিত্বের পূর্ণতা কখনো অর্জিত হতে পারে না। তার কাছে এই শিকড়ের টান কেবল প্রদর্শনী নয়; বরং এটি তার জীবনের তিনটি মজবুত স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে—ঐতিহ্যবাহী দেশীয় খাবার, মাতৃভাষা বাংলা এবং বাঙালি সংস্কৃতির রুচিশীল পোশাক।
খাবারের সঙ্গে জেমির নাড়ির টান অত্যন্ত গভীর ও আজন্মের। পশ্চিমা ফাস্টফুড বা আন্তর্জাতিক নানা পদের ভিড়েও দেশীয় মাছ, ভাত আর খাঁটি বাঙালি মসলার সুবাসিত স্বাদ ছাড়া তার একটি দিনও যেন অপূর্ণ থেকে যায়। শত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি প্রতিদিন নিজের হাতে পরিবারের জন্য রান্না করতে ভালোবাসেন। এই রান্নার পেছনে কেবল রসনাতৃপ্তি নয়, বরং তার সন্তানের হৃদয়ে বাঙালি সংস্কৃতির আবহ গেঁথে দেওয়ার এক সযত্ন প্রয়াস জড়িয়ে রয়েছে। তিনি চান, তার সন্তান প্রবাসে বড় হয়েও যেন কখনো পূর্বপুরুষের সংস্কৃতির স্বাদ ও পারিবারিক মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে। পাশাপাশি দেশীয় ঐতিহ্যের পোশাকের প্রতি তার রয়েছে নিবিড় অনুরাগ। বিভিন্ন সামাজিক মিলনমেলায় তিনি পরম স্বাচ্ছন্দ্যে বাঙালি পোশাক পরিধান করেন, যা বহুসংস্কৃতির ভিড়েও তার নিজস্বতাকে সগৌরবে তুলে ধরে।
আর মাতৃভাষার ক্ষেত্রে জেমির রয়েছে প্রতিদিনের স্বতঃস্ফূর্ত চর্চা। রিয়েল এস্টেটের জটিল অঙ্গনে তার প্রায় ৯০ শতাংশ ক্লায়েন্টই হলেন প্রবাসী বাঙালি। তাদের মধ্যে অনেকেই বয়োজ্যেষ্ঠ, যাদের জন্য আমেরিকান রিয়েল এস্টেট আইন ও মর্টগেজের মারপ্যাঁচ ইংরেজিতে অনুধাবন করা কিছুটা দুরূহ। জেমি পরম ধৈর্য ও আন্তরিকতায় মাতৃভাষায় তাদের প্রতিটি প্রক্রিয়া পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বুঝিয়ে বলেন, যাতে একজন ক্রেতা জীবনের বড় আর্থিক সিদ্ধান্তটি নেওয়ার সময় পূর্ণ স্বস্তি অনুভব করতে পারেন। প্রবাসে থেকেও ভাষার এই নিয়মিত চর্চা তার পেশাগত দায়িত্বকে বাণিজ্যিক সম্পর্কের বাইরে নিয়ে এক পরম আত্মীয়তায় রূপান্তর করেছে।
টেক্সাসের সুবিশাল জনপদে স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটি জেমি খানের পথচলায় এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায় হয়ে রয়েছে। বিদেশের মাটিতে নতুন ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে অনেকের অভিজ্ঞতা জটিলতায় পূর্ণ হলেও জেমির অভিজ্ঞতা একেবারেই উষ্ণ ও ইতিবাচক। তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবতী মনে করেন, কারণ স্থানীয় সমাজ তাকে দুই হাত বাড়িয়ে আপন করে নিয়েছে। জেমি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন, কমিউনিটিকে তিনি যতটুকু সেবা দিয়েছেন, মানুষ তার চেয়ে অন্তত ১০ গুণ বেশি সম্মান ও আস্থা ফিরিয়ে দিয়েছে। ডালাসের বুকে বাংলাদেশিদের পারস্পরিক ঐক্য ও ব্যবসায়িক বিশ্বস্ততা তার আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। কমিউনিটির এই অগাধ বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে জেমি তার প্রতিটি পদক্ষেপে সর্বোচ্চ সততা বজায় রেখেছেন। মানুষের এই সমর্থনই তাকে প্রতিদিন নতুন উদ্যমে কাজ করার প্রেরণা জুগিয়েছে।
২০০৭-২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা বা 'মার্কেট ক্র্যাশ'-এর উত্তাল সময়ে জীবনের এক নতুন বাঁকে এসে দাঁড়ান জেমি খান। টেক্সাস থেকে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পাড়ি জমিয়ে তিনি সেখানে পাঁচ বছর অবস্থান করেন। সেখানে মর্টগেজ ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এবং ব্রোকার লাইসেন্সও লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে যখন লক্ষ্য করলেন টেক্সাসের ডালাসে আবাসন বাজার পুনরায় ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, তখন তিনি নিজ উদ্যোগে টেক্সাসে ফিরে আসেন। ফিরে আসার পর চাকরি নিশ্চিত করে তিনি নিজের জন্য প্রথম আবাসন কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেন। কিন্তু নিজের বাড়ি কেনার সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাটি জেমির জন্য ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক ও তিক্ত।
সে সময় এজেন্টের কার্যপদ্ধতি, দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ, ক্লায়েন্টকে তথ্য বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে চরম অস্বচ্ছতা, অপেশাদার মনোভাব এবং তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার ঘাটতি জেমিকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তিনি লক্ষ্য করলেন, অনেক ক্ষেত্রে এজেন্টরা ক্লায়েন্টের সঙ্গে পেশাদারি সীমারেখা রক্ষা করতে পারেন না, যা ক্রেতাকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দেয়। ঠিক সেই অসন্তোষের মুহূর্তেই তার ভেতরে এক নতুন প্রত্যয়ের জন্ম নেয়। তিনি উপলব্ধি করেন, এই অপেশাদার কাঠামোর ইতিবাচক পরিবর্তন প্রয়োজন। মর্টগেজ খাতের পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা, মানুষের মনস্তত্ত্ব বোঝার ক্ষমতা এবং বলিষ্ঠ দরকষাকষির দক্ষতাকে মূলধন করে জেমি নিজেই এই পেশায় নামার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। লক্ষ্য ছিল একটাই—প্রথমবার যারা প্রবাসে কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে স্বপ্নের বাড়ি কিনতে যাচ্ছেন, তারা যেন বিভ্রান্ত না হন; বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় যেন পান সর্বোচ্চ পেশাদার, শতভাগ স্বচ্ছ ও কঠোর গোপনীয়তাযুক্ত বিশ্বস্ত সেবা।
টেক্সাসের তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ হাউজিং মার্কেটে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করা সহজসাধ্য ছিল না। তবে এই কঠিন যাত্রায় জেমির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তিনি নিজেই। বাইরে থেকে আসা কোনো বাধা তাকে লক্ষ্যচ্যুত করতে পারেনি; তার আসল সংগ্রাম ছিল নিজের ভেতরের দ্বিধাদ্বন্দ্ব, ভয় ও ক্লান্তির বিরুদ্ধে। দীর্ঘ পথপরিক্রমায় আজ শত শত পরিবারের বিশ্বস্ত আশ্রয় ও ভরসার ঠিকানা হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে তার প্রতিটি মুহূর্তের কঠোর মানসিক প্রস্তুতি। রিয়েল এস্টেটের জটিল লেনদেনে সামান্য অসতর্কতায় দীর্ঘদিনের অক্লান্ত প্রচেষ্টা হাতছাড়া হতে পারে। এমন বহু দিন গেছে যখন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে গেছে, মানসিক অবসাদ কিংবা শারীরিক অসুস্থতা তাকে ঘিরে ধরেছে। কিন্তু কোনো প্রতিকূলতাই জেমিকে থামাতে পারেনি। তিনি প্রতিটি ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন, নিজেকে প্রতিনিয়ত দক্ষ করেছেন এবং পরদিন সকালে দ্বিগুণ প্রত্যয় নিয়ে আবার কাজের টেবিলে ফিরে এসেছেন। দীর্ঘ ১৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই পেশায় কাজ করেও তিনি নিজেকে আজীবন শিক্ষার্থী মনে করেন। তার স্পষ্ট দর্শন—অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে প্রতিদিন আরও একটু পরিণত করে তোলাই একজন মানুষের আসল সাফল্য।
রিয়েল এস্টেট জগতে জেমি খানের টেকসই সাফল্যের অন্যতম মূল ভিত্তি হলো তাঁর আপসহীন পেশাদারিত্ব ও তথ্যের কঠোর গোপনীয়তা রক্ষার নীতি। ব্যক্তিগত সম্পর্ক আর পেশাগত দায়িত্বের মাঝখানে তিনি সর্বদাই একটি সুস্পষ্ট সীমারেখা বজায় রেখে চলেন। ক্লায়েন্টের আর্থিক সক্ষমতা, ব্যক্তিগত বাজেট, পারিবারিক সিদ্ধান্ত কিংবা লেনদেনের সংবেদনশীল যাবতীয় তথ্য তাঁর কাছে সর্বদাই এক পবিত্র আমানতের মতো সুরক্ষিত থাকে। কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত মতপার্থক্য তৈরি হলেও তিনি কখনোই তা পেশাগত দায়িত্বে প্রভাব ফেলতে দেন না। এই গভীর সততা ও কর্মনিষ্ঠার কারণেই কেবল প্রবাসী সমাজ নয়, মূলধারার শীর্ষ আমেরিকান রিয়েল এস্টেট প্রডিউসার এবং করপোরেট পরিমণ্ডলেও তিনি সমানভাবে সমাদৃত ও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এক নাম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
কঠোর সাধনা ও মেধার স্বীকৃতি মিলতেও সময় লাগেনি। ২০১৬ সালে পেশাগত অঙ্গনে প্রথম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে তাঁর সাফল্যের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে তিনি ডালাসের সেরা ১০ রিয়েলটরের তালিকায় নিজের স্থান সুসংহত করেন এবং অর্জন করেন শীর্ষস্থানীয় নানা প্রাতিষ্ঠানিক সম্মাননা। তার এই অনুপ্রেরণাদায়ী জীবনসংগ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পায় যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ প্রকাশনা 'জি ম্যাগাজিন'-এর বিশেষ প্রচ্ছদে ও ফিচারে। ক্লায়েন্টদের সন্তুষ্টি ও সহকর্মীদের প্রত্যক্ষ মূল্যায়নে তিনি নির্বাচিত হন সেরা রিয়েল এস্টেট প্রডিউসার হিসেবে।
শুধু তাই নয়, তার এই ধারাবাহিক ব্যবসায়িক সাফল্য ও বিচক্ষণ বাজার বিশ্লেষণের ভূয়সী প্রশংসা করেছে বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম 'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল', যাদের রিয়েল এস্টেট বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদনেও এসেছে তার সাফল্যের কথা। একক পরিবারের আবাসন পেরিয়ে জেমি খান আজ দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করছেন কোটি কোটি ডলারের মাল্টিমিলিয়ন ও মাল্টিফ্যামিলি বাণিজ্যিক রিয়েল এস্টেট প্রকল্প।
সাফল্যের এই সুউচ্চ শিখরে দাঁড়িয়েও জেমি খান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কোনো স্বীকৃতিই মানুষের চূড়ান্ত গন্তব্য হতে পারে না; বরং প্রতিটি অর্জন মানুষের সামাজিক ও পেশাগত দায়বদ্ধতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই তিনি এক মুহূর্তের জন্যও থেমে যাননি। আগামী দিনে তিনি নতুন প্রজন্মের জন্য আবাসন সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রবাসীদের জন্য বৃহৎ বাণিজ্যিক বিনিয়োগের নিরাপদ ক্ষেত্র তৈরি এবং বিদেশের মাটিতে করপোরেট ও ব্যবসা জগতে আগ্রহী নতুন নারী উদ্যোক্তাদের সঠিক মেন্টরিং ও পরামর্শ প্রদানে আরও বড় পরিসরে কাজ করে যেতে চান।
শৈশবে বাবাকে হারানোর চরম শূন্যতা, স্বজনদের স্বার্থপর রাজনীতি আর আর্থিক মন্দার তীব্র সংকট পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে আজকের এই সাফল্য—জেমি খানের এই জীবনগাথা কেবল একজন রিয়েলটরের বাণিজ্যিক অর্জনের ইতিবৃত্ত নয়; এটি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকা এক আত্মপ্রত্যয়ী বাঙালি নারীর অনন্য বিজয়গাথা। জীবনের ক্যানভাসে রঙের টান যতই বৈরী ও এলোমেলো হোক না কেন, নিজের ওপর বিশ্বাস, সততা আর অবিচল নিষ্ঠার তুলি থাকলে যে সেখানে সাফল্যের অসাধারণ শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তোলা যায়—জেমি খান আজ বিশ্বদরবারে তারই এক জীবন্ত, অনুপ্রেরণাদায়ী ও অম্লান প্রতীক।
অভিমত থেকে আরো পড়ুন