https://www.prothomalony.com/

18325

north-america

উত্তর আমেরিকা

করদাতার অর্থে ট্রাম্পের প্রশংসার বিজ্ঞাপন, খরচ ২ কোটি ডলার

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:১৭

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করে সম্প্রচারিত কয়েকটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের পেছনে সরকারি তহবিল থেকে ২ কোটি ডলার ব্যয়ের উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞাপনগুলোতে ট্রাম্পের বক্তব্য, ছবি ও তার প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হচ্ছে। বিজ্ঞাপনের নিচে উল্লেখ থাকছে—‘যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে প্রচারিত’।

সমালোচকেরা বলছেন, সরকারি অর্থ ব্যবহার করে কোনো প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও রাজনৈতিক সাফল্য প্রচার করা সরকারি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনের স্বাভাবিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।

জানা গেছে, এই বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য প্রায় ২ কোটি ডলারের একটি চুক্তি করা হয়েছে। অর্থটি এসেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীন ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের (সিবিপি) তহবিল থেকে। ফেডারেল নথিতে দেখা গেছে, অর্থটি স্মরণীয় অনুষ্ঠানসংক্রান্ত ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ করা অর্থের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এরপর মেরিল্যান্ডভিত্তিক বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান এলএমডি এজেন্সিকে জাতীয় গণমাধ্যম প্রচারণা পরিচালনার জন্য ২০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন ব্যয় পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডইমপ্যাক্টের হিসাব অনুযায়ী, ইতিমধ্যে এসব বিজ্ঞাপন প্রচারে অন্তত ২৫ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। আরও অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপনে কী বলা হচ্ছে

একটি বিজ্ঞাপনে ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রে কমিউনিজম, সমাজতন্ত্র ও মার্ক্সবাদ পরাজিত করার কথা বলতে শোনা যায়। বিজ্ঞাপনের শেষ দিকে ট্রাম্পের প্রশংসা করে মিশ্র মার্শাল আর্ট সংস্থার সভাপতি ডানা হোয়াইটের বক্তব্যও রয়েছে। অন্য একটি বিজ্ঞাপনে ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্য ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছে।

আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে এমন একটি বিজ্ঞাপন নিয়ে, যা ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার একটি বিজ্ঞাপনের সঙ্গে প্রায় হুবহু মিলে যায়। শুধু আগের নির্বাচনী প্রচারণার পরিচয়ের জায়গায় নতুন বিজ্ঞাপনে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

একটি বিজ্ঞাপনে ‘লাভ মি’ নামের একটি গান ব্যবহারের বিষয়েও বিতর্ক হয়েছে। গানটির শিল্পী জেএমএসএন দাবি করেছেন, তার অনুমতি ছাড়াই গানটি ব্যবহার করা হয়েছে। তার আইনজীবীরা হোয়াইট হাউসকে গানটি ব্যবহার বন্ধ করার দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন।

ট্রাম্পের ব্যক্তিগত নির্দেশের অভিযোগ, হোয়াইট হাউসের বক্তব্য

এদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ট্রাম্প নিজেই তার বাজেট পরিচালককে করদাতার অর্থ ব্যবহার করে তাকে ও তার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করে টেলিভিশন বিজ্ঞাপন তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপরই ২ কোটি ডলারের চুক্তির প্রক্রিয়া এগোয়। বিজ্ঞাপনে কোন ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা হবে, তা নির্বাচনেও ট্রাম্পের ভূমিকা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে হোয়াইট হাউস বিজ্ঞাপনগুলোকে রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে মানতে নারাজ। প্রশাসনের দাবি, এগুলো সরকারি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন। সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণকে জানানো এবং দেশকে ভালোবাসতে উৎসাহিত করাই এসব বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে তারা।

সমালোচকেরা অবশ্য বলছেন, বিজ্ঞাপনগুলোর বড় অংশজুড়ে ট্রাম্পের ছবি, বক্তব্য ও তার প্রশাসনের সাফল্য তুলে ধরা হয়েছে। ফলে এগুলো সরকারি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনের স্বাভাবিক সীমার মধ্যে পড়ে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আইনগত প্রশ্নও উঠছে

সরকারি অর্থ দিয়ে এ ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার আইনসঙ্গত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সরকারি অর্থ কোনো নির্দিষ্ট প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।

তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, বিজ্ঞাপনগুলোতে সরাসরি কোনো নির্বাচনে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার আহ্বান নেই। ফলে এগুলোকে প্রচলিত নির্বাচনী বিজ্ঞাপন হিসেবে গণ্য করা হবে কি না, সেটি আলাদা প্রশ্ন। অন্যদিকে সরকারি অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ফেডারেল বিধিনিষেধ প্রযোজ্য কি না, তা নিয়ে আরও তদন্ত প্রয়োজন হতে পারে।

কংগ্রেসেও সমালোচনা

বিজ্ঞাপনগুলো নিয়ে শুধু ডেমোক্র্যাটরাই প্রশ্ন তুলছেন না। কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও সরকারি অর্থে ট্রাম্পকে প্রচার করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। এ নিয়ে প্রশাসনের কাছে অর্থের উৎস, ব্যয়ের অনুমোদন এবং বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় বিতর্কটি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন—জনগণের করের অর্থ কি সরকারি সেবা ও জনস্বার্থে ব্যয় হওয়ার কথা, নাকি একজন প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার জন্যও তা ব্যবহার করা যেতে পারে?

হোয়াইট হাউস বলছে, এগুলো সরকারি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন। সমালোচকেরা বলছেন, বিজ্ঞাপনের বিষয়বস্তু ও নির্মাণধারা সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে ২০ মিলিয়ন ডলারের এই সরকারি বিজ্ঞাপন প্রকল্প শেষ পর্যন্ত কেবল রাজনৈতিক বিতর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সরকারি অর্থ ব্যবহারের বৈধতা নিয়েও আনুষ্ঠানিক তদন্ত হবে—সেদিকেই এখন নজর।
 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন