https://www.prothomalony.com/
18324
north-america
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৫৭
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের কাছের একটি নর্দমা থেকে বের হওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ভেনেজুয়েলার এক অভিবাসীকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট (আইস)। নিউইয়র্কের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাকে ছেড়ে দেওয়ার পর আইস তাঁকে আটক করে বলে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
২৫ বছর বয়সী স্যামুয়েল রেভেরন আসকানিওসহ তিনজনকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভোরে পার্ক অ্যাভিনিউ ও ইস্ট ৬১ স্ট্রিটের কাছে একটি নর্দমার মুখ দিয়ে বের হতে দেখা যায়। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হলে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই স্থানটি জাতিসংঘের সদর দপ্তরের কাছাকাছি হওয়ায় সে সময় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসকানিও ও অপর ব্যক্তি কেভিন রদ্রিগেজ জানান, তারা নর্দমার ভেতরে গিয়েছিলেন পানিতে ভেসে আসা মূল্যবান জিনিসপত্র খুঁজতে। তদন্তকারীদের মতে, শহরের নর্দমা ব্যবস্থায় এ ধরনেরভাবে হারানো জিনিস বা ধাতব বস্তু খোঁজার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকবার ঘটেছে। পুলিশ বলেছে, ঘটনাটির সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
আসকানিওর বিরুদ্ধে এর আগে আরও একটি মামলায় অভিযোগ ছিল। ২০ সেপ্টেম্বর কুইন্সে একটি ইউ-হল ভ্যানের যন্ত্রাংশ সরানোর অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে স্থগিত লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালানোর অভিযোগও আনা হয়।
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসকানিওর বিরুদ্ধে আগেই একটি ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। স্থানীয় আদালত থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়ার পর আইস তাঁকে আটক করে।
আইসের নিউইয়র্ক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, শহরের আইনের কারণে তারা সাধারণত ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগে আইসের সঙ্গে সহযোগিতা করে না।
নিউইয়র্ক দীর্ঘদিন ধরে ‘সাংকচুয়ারি সিটি’ হিসেবে পরিচিত। শহরের আইন অনুযায়ী, স্থানীয় পুলিশ সাধারণত কারও অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থার ভিত্তিতে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের হয়ে ব্যবস্থা নেয় না। এ নীতি নিয়ে নিউইয়র্ক সিটি ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নিউইয়র্কে ফেডারেল অভিবাসন এনফোর্সমেন্ট বাড়ানো নিয়ে স্থানীয় ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে এই টানাপোড়েন আরও প্রকাশ্যে এসেছে। একই সময়ে অভিবাসন আদালত ও আইসের কার্যক্রম নিয়ে নিউইয়র্কে একাধিক মামলা চলছে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন