https://www.prothomalony.com/
18315
bangladesh
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:২৫
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেওয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা স্থগিতাদেশ ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আদালতের আদেশের পর গত ২১ আগস্ট থেকে এই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ২৮ আগস্ট প্রকাশিত এক হালনাগাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ করেছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে ওই সময় আবেদন গ্রহণ ও ভিসা সাক্ষাৎকার নেওয়া বন্ধ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকরা আবেদন করতে এবং নির্ধারিত সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারতেন।
আদালতের আদেশের পর এখন ওই স্থগিতাদেশ কার্যকর না থাকায় বাংলাদেশি নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন আগের মতো প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ রয়েছে। তবে ভিসা পাওয়া স্বয়ংক্রিয় নয়। আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ইমিগ্রেশন আইন, যোগ্যতা, নিরাপত্তা যাচাই ও অন্যান্য নিয়ম আগের মতোই কার্যকর থাকবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জানুয়ারির স্থগিতাদেশের কারণে কোনো বৈধ ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বাতিল করা হয়নি। একই সঙ্গে এই স্থগিতাদেশ ট্যুরিস্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল না। ট্যুরিস্ট ভিসা নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা হওয়ায় তা ওই নীতির আওতায় পড়েনি।
তবে বাংলাদেশিদের জন্য আরেকটি পৃথক ভিসা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ বর্তমানে কার্যকর রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ২ অক্টোবর ২০২৬-এ হালনাগাদ তালিকায় বাংলাদেশকে ভিসা বন্ডের আওতাভুক্ত দেশ হিসেবে রাখা হয়েছে। এই নিয়ম ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর।
এই ভিসা বন্ড মূলত নির্দিষ্ট বাংলাদেশি নাগরিকদের B1/B2 ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আবেদনকারী ভিসার জন্য অন্যথায় যোগ্য হলে কনস্যুলার কর্মকর্তা ১০ হাজার, ১৫ হাজার বা ২০ হাজার ডলারের বন্ড দিতে বলতে পারেন। বন্ডের পরিমাণ সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিসা বন্ড দিলেই ভিসা নিশ্চিত হয় না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, কনস্যুলার কর্মকর্তা নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো আবেদনকারীকে বন্ডের অর্থ পরিশোধ করা উচিত নয়। অন্যদিকে, ৭৫ দেশের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের অর্থ হলো—শুধু বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ার কারণে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখার জানুয়ারির নীতি এখন আর কার্যকর নেই।
বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য তাই দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি: ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ওপর ৭৫ দেশের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হয়েছে; কিন্তু B1/B2 ভিসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভিসা বন্ডের তালিকায় রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, ভিসা আবেদনকারীদের নিজ নিজ ভিসা শ্রেণির জন্য প্রযোজ্য নিয়ম এবং ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন