https://www.prothomalony.com/
18259
new-york
নিউইয়র্কে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে গ্লোবাল বাংলাদেশি চেম্বার অফ কমার্স (জিবিসিসি)। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও পেশাজীবীদের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং বৈশ্বিক ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করেছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের ম্যারিয়ট মার্কুইসে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ‘মিট দ্য প্রেস’ আয়োজনের মধ্য দিয়ে জিবিসিসির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতা, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, পেশাজীবী, সমাজনেতা, বাণিজ্য প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে জিবিসিসির প্রতিষ্ঠাতা নেতৃবৃন্দ কাজী এম. আহমেদ, শেখ গালিব রহমান ও রেদোয়ান চৌধুরী নতুন এই বৈশ্বিক ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম তুলে ধরেন।
জিবিসিসির প্রতিষ্ঠাতারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে যে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ তৈরি হয়েছে, তাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই চেম্বার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক সম্পর্ক, বিনিয়োগ, বাজার সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের নতুন সুযোগ তৈরি করতে কাজ করবে সংগঠনটি।
জিবিসিসি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা ও ব্যবসা উন্নয়ন, আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব, বিনিয়োগ ও বাজারে প্রবেশাধিকার, পেশাগত নেটওয়ার্কিং, ব্যবসায়িক নেতৃত্ব ও শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসা উন্নয়নের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করবে।
এ ছাড়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, জাপান, ইতালি, জার্মানি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের মধ্যে অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে জিবিসিসির।
জিবিসিসির সহ-প্রতিষ্ঠাতা কাজী এম. আহমেদ বলেন, এমন একটি বাস্তবভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ভৌগোলিক সীমারেখার বাইরে গিয়ে অংশীদার খুঁজে নিতে, জ্ঞান বিনিময় করতে এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ অনুসন্ধান করতে পারে।
সহ-প্রতিষ্ঠাতা শেখ গালিব রহমান বলেন, বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়কে সংযুক্ত করার পাশাপাশি উদ্যোক্তা ও উদীয়মান ব্যবসায়িক নেতাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করাও জিবিসিসির অন্যতম লক্ষ্য।
অন্য সহ-প্রতিষ্ঠাতা রেদোয়ান চৌধুরী বলেন, জিবিসিসি শুধু নেটওয়ার্কিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ব্যবসায়িক সম্পর্ককে বাস্তব বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সুযোগে রূপান্তরের জন্য কাজ করবে সংগঠনটি।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী সম্প্রদায় বৈচিত্র্যময় এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাদের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগ রয়েছে। বাজার, মানুষ ও সুযোগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির মাধ্যমে জিবিসিসি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা কার্যক্রম ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ বাড়াতে চায়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ‘মিট দ্য প্রেস’ পর্বে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা জিবিসিসির প্রতিষ্ঠাতাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এ সময় সংগঠনটির ব্যবসা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা, সদস্যপদ এবং বৈশ্বিক সম্পৃক্ততার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
আয়োজকেরা জানান, জিবিসিসির কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসায়িক তথ্য, নেটওয়ার্কিং, অংশীদারিত্ব এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ব্যবসায়িক ফোরাম, নেটওয়ার্কিং প্রোগ্রাম, শিক্ষামূলক উদ্যোগ, কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে সংগঠনটি তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন