https://www.prothomalony.com/
18240
opinion
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৫৫
সাংবাদিকতার পথ কখনো মসৃণ ছিলোনা। সরকার সবসময়ই গণমাধ্যমের কন্ঠরোধে আইনকে ব্যবহার করে। এজন্যই বিভিন্ন সময়ে নিবর্তনমুলক আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হয়েছে সাংবাদিকদের। বাংলাদেশে প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি এ্যাক্ট প্রণয়নের প্রতিক্রিয়া এমন কথা বলেছেন সাংবাদিকরা। বিপরীত দিকে আইনের সমর্থনে যুক্তি দিয়ে বলা হয়েছে অপসাংবাদিকতা রোধে সাইবার সিকিউরিটি এ্যাক্ট প্রয়োজন। তবে; এই আইনের অপব্যবহার যাতে না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
মঙ্গলবার রাতে নিউইর্কের জ্যাকসন হাইটসে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের আয়োজনে বাংলাদেশ থেকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সংবাদ কভার করতে আসার সাংবাদিক ও নিউইয়র্কে কর্মরত সাংবাদিকদের আড্ডায় এমন মতামত ব্যাক্ত করেন সাংবাদিকরা।

নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মমিনুল ইসলাম মজুমদারের সঞ্চালনায় আড্ডা রেষ্টুরেন্টের হল রুমে অনুষ্ঠিত আড্ডায় মূখ্য আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসের এমডি কাদের গণি চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সেক্রেটারি শেখ সিরাজুল ইসলাম।
আড্ডায় নিউইয়র্কে বসবাসরত সাংবাদিক ও এক্টিভিস্টদের মধ্যে প্রবীন সাংবাদিক সাংবাদিক মনজুর আহম্মেদ, নিইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসেক্লাবের সভাপতি ডা. ওয়াজেদ এ খান, আনোয়ার হোসাইন মঞ্জু, তাসের মাহমুদ, ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন, এটর্ণি মঈন চৌধুরী, ফখরুল আলম, ফরিদ আলম, সুলতানা রহমান,তফাজ্জল লিটন, মাহথির ফারুকিসহ বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক বাংলাদেশ থেকে আগত সাংবাদিকদের মধ্যে সিনিয়র সাংবাদিক কেরামত উল্লাহ বিপ্লব, এনটিভির বিশেষ প্রতিনিধি হাসান মাহমুদ, ঢাকা মেইলেই বিশেষ প্রতিনিধি বোরহান উদ্দিন, যমুনা টিভির চীফ রিপোর্টার সাইফুদ্দিন রবিন, আরটিভির সিনিয়র রিপোর্টার মাইদুর রহমান রুবেল, কালবেলার চীফ রিপোর্টার সফিকুল ইসলাম, এটিএন বাংলার চীফ রিপোর্টার মইনুল আহসান, ৭১ টিভির সিনিয়র রিপোর্টার সফিকুল হক, এখন টিভির স্টাফ রিপোর্টার সাব্বির রোজ, স্টার নিউজের স্টাফ রিপোর্টার সিফাত শাহরিয়ার, চ্যানেল ২৪ এর সিনিয়র রিপোর্টও শাহনেওযাজ বাবলুসহ শতাধিক সাংবাদিক যোগ দেন।

বাসসের এমডি কাদের গণি চৌধুরী বলেন- গত ১৭ বছর আমাদের গণমাধ্যমগুলো সত্য তুলে ধরতে পারেনি। সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলেনি অথবা বলতে পারেনি। যারফলে ফ্যাসিবাদী শাসন অনেক দীর্ঘ হয়েছিলো। সাংবাদিকরা যদি তঁদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারতেন তাহলে ফ্যাসিবাদ এভাবে চেপে বসতে পারতো না।
তিনি বলেন সাংবাদিকতার পথ কখনোই মসৃণ ছিলোনা। তবে; এখন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় কথা বলতে পারছেন। আবার এই সুযোগে অপসাংবাদিকতা এবং অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এআই ব্যাবহার করে নারীদের নিয়ে অশ্লীল ও অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। মোবাইল একটি নিয়ে মাঠে নেমেই সাংবাদিক পরিচয়ে হলুদ সাংবাদিকতা, অপসাংবাদিকতা ছড়ানো হচ্ছে। এই অবস্থা নিয়ন্ত্রনে সাইবার সিটিকিউরিটি এ্যাক্ট প্রয়োজন। তবে; এই আইনের যথেচ্ছা ব্যাবহার করে গণমাধ্যমের কন্ঠরোধ কিংবা সাংবাদিকদের দমন করা যাবেনা।
তিনি সাংবাদিক হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, বিনা কারনে কোন সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা যাবেনা। যৌক্তিক কারণে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিলে সকল পাওনা পরিশোধ করতে হবে। সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হলে সাদাকে সাদা কালো বলতে পারবো। সরকার-মালিকরা চাইলেই সাংবাদিকদের কন্ঠরোধ করতে পারবে না।
প্রবীন সাংবাদিক তাসের মাহমুদ তাঁর বক্তৃতায় বলেন- সকল কালাকানুন বাতিলের দাবি করেছি আমরা অতীতে। সাইবার সিকিউরিটি এ্যাক্টও একটা নিবর্তনমূলক আইন। তিনি কাদের গণি চৌধুরীকে উদ্দশ্য করে বলেন- আপনি নিশ্চয়তা দিতে পারবেন? সরকার কাউকে দমন করতে এই আইন ব্যাবহার করবেনা?
এভাবেই প্রাণবন্ত হয়ে উঠে প্রতিবছরের ন্যায় এবারের সাংবাদিকদের আড্ডা। কথা বলেন নিউইয়র্কের পরিচিত মুখ মুলধারার রাজনীতিবিদ এটর্ণি মঈন চৌধুরী।
প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন বলেন, আমাদের নানান ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যেও আমরা পেশার মর্যাদা রক্ষায় পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখতে হবে। সবাইকে একরাশ শুভেচ্ছা, একরাশ ভালোবাসা।
সভাপতির বক্তব্যে মনোয়ারুল ইসলাম প্রতিবছরের ন্যায় এবারেও সাংবাদিকরদের আডডায় উপস্থিত থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। একইসাথে নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের একমাত্র সংগঠন হিসাবে নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নিজস্ব অফিসে বাংলাদেশ থেকে আগত সাংবাদিকদের আমন্ত্রন জানান। যেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহায়ক সকল সুযোগ-সুবিধা রয়েছে বলে তিনি জানান।
আড্ডা শেষে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেন।
অভিমত থেকে আরো পড়ুন