https://www.prothomalony.com/
18179
north-america
গত ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল সাড়ে ৯ টায় ইউনিভার্সেল হিলটনের একটি মাঝারি মানের কক্ষে বসেছিল ফোবানার অ্যালামনাইয়ের মিলনমেলা। শুক্রবার রাতের দেরিতে ঘুমের পর সকালে অনেকের উঠতে দেরি হচ্ছিল। অ্যালামনাইয়ের চেয়ারম্যান ডক্টর আব্দুস সাত্তারের টেনশন, কেমন হবে অ্যালামনাইয়ের মিটিং। আগের দিন তিনি আলাউদ্দিন রেস্তোরাঁয় গিয়ে সকালের নাস্তার অর্ডার করেন। আমার সাথে আলাউদ্দিনে দেখা। বললেন, নাস্তা এখান থেকে নিচ্ছি। বললাম, নেন; ভালো হবে। বললেন নিউজ করেন। নিউজ করে সবাইকে জানালাম।
শনিবার সকাল পৌনে ১০টা। সবাই সময়মতো আসবেন বললেও আসলে এলেন দেরিতে। সকাল ১০টার পর আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যালামনাইয়ের অনুষ্ঠান শুরু করলাম।
আব্দুস সাত্তার শুরু করলেন। সঞ্চালনার দায়িত্ব পড়ল মাহবুব রহিমের ওপর। চমৎকার কথা বলেন তিনি। সবাই আসন গ্রহণ করলেন। মঞ্চে আসন গ্রহণ করলেন ফোবানার সিনিয়র নেতৃবৃন্দ রেহান রেজা, জসিম উদ্দিন, অ্যাটর্নি আলমগীর, ডিউক খান, দিলু মাওলা, এম রহমান জহির, ডক্টর জয়নাল আবেদীন, ফারুক আহমদ, হাসমত মোবিন, রবিউল করিম বেলাল, প্রকৌশলী আবু হানিফ ও মিসেস নার্গিস।
মঞ্চের বাইরেও হলরুমে অনেকেই বসলেন। মাহবুব রহিম সহজ-সরল উপস্থাপনায় জমিয়ে রাখলেন।
ফোবানায় ৩৩-৩৪ বছর ধরে যারা আছেন, তাদের আলোচনা শুরু হলো। তারপর ৩২ বছর, ৩০ বছর হিসেবে সিনিয়ররা বলতে লাগলেন ফোবানায় জড়িত হওয়ার সুখ-দুঃখের গল্প।
ডিউক খান ও দিলু মাওলা ফোবানায় সবচেয়ে প্রবীণ। একই সাথে হাসমত মোবিন, এম রহমান জহির ও নুরুল আমিন নুরু বললেন তাদের গল্প। কথা বললেন মিসেস নুরু ও নাহিদা নাসের ইয়াসমিন। নাহিদা নাসের ইয়াসমিন জানালেন, ফোবানার এই পরিবার তাকে নতুন করে সাংগঠনিক হতে শক্তি জোগায়। তিনি বলতে লাগলেন, ফোবানার সবাই তাকে এত সম্মান করেন যে তিনি ফোবানার সাথেই আছেন সব সময়।
ডিউক খান বলেন, তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ফোবানার সাথে সম্পৃক্ত; এখন আটলান্টায় থাকলেও ফোবানার সাথে আছেন সাড়ে তিন দশক। জসিম উদ্দিন বলেন ফোবানার সাথে তার সম্পর্কের কথা এবং আটলান্টায় একাধিক ফোবানা করার গল্প। হাসমত মোবিন বলেন, সাড়ে তিন দশক কীভাবে ফোবানার সাথে ছিলেন। নুরুল আমিন নুরু বলেন, ফোবানায় সব সময় পরিবার নিয়ে আসেন। রাতে খাবার পাওয়া না গেলে তার স্ত্রী ও মিসেস করিম কীভাবে ভাত-তরকারি নিয়ে আসেন, তা জানান। তাদের দুজনের অবদান মাহবুব রহিম সুন্দর করে বলতে থাকেন। মিসেস নুরু ও মিসেস করিম তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন এবং তাদের সম্মানিত করায় ধন্যবাদ জানান।
ফোবানার অ্যালামনাই গেট-টুগেদারের খবর ছড়িয়ে পড়লে হোটেলের ফোবানার সবাই হলরুমে আসেন। চেয়ার পর্যাপ্ত ছিল না, অনেকেই দাঁড়িয়ে কথা শোনেন। মাহবুব রহিম ফোবানার নির্বাচনের উত্তাপে কী হচ্ছে, তা হোটেলের রুমে বসে মজা করে বলেন। শিকাগোর মকবুল আলী ফোবানায় সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ। তিনি বলেন, কেমন করে সফল ফোবানা করে প্লাস করেছিলেন কনভেনশন। ফোবানার সাথেই আছেন, ভালোবাসেন ফোবানা; কোনো পদের আশা করেন না।
দুপুর ১২টা বাজলেও নাস্তা এসে পৌঁছায়নি। তখন ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যানসহ তিন দশক বা দুই দশক ধরে যারা ফোবানায় আসেন, তাদের গল্প ও স্মৃতিচারণ চলতেই থাকে।
আটলান্টার আরেফিন বাবুল চমৎকার করে বলতে থাকেন, তিনি কীভাবে এজিএমে প্রতিবাদ করে যান বছরের পর বছর। সবার কাছে ক্ষমাও চান ভুল কিছু হয়ে থাকলে।
ফোবানার অ্যালামনাই ৮ বছর পর আবার ড. আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে সচল হওয়ায় তাঁকে ধন্যবাদ দেন সবাই।
নিউইয়র্কের মিসেস নার্গিস আহমেদ ও নিউজার্সির ফারুক আহমদ ফোবানার স্মৃতিচারণ করেন।
নাস্তার সময় পেরিয়ে যায়, গল্প চলতেই থাকে। মাহবুব রহিম একজন অনন্য সঞ্চালক, মজার মজার কথা বলে আটকে রাখেন সবাইকে। সবার জন্য চা ছিল। আলাউদ্দিন থেকে নাস্তা আসতে দেরি হচ্ছিল, আর কথার ফুলঝুরি চলতেই থাকে।
ফোবানার চেয়ারম্যান রবিউল করিম বেলাল ও নতুন চেয়ারম্যান এম রহমান জহির বলেন তাদের গল্প। নিউইয়র্কের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবীর আলমগীর বলেন, তিনি প্রায় তিন দশকের মতো ফোবানায়।
সোয়া ১২টায় আব্দুস সাত্তারের অর্ডার করা নাস্তা আসে। তখন প্রায় ১০০ জনের মতো উপস্থিত ছিলেন, সবাইকে টেবিলে নাস্তা দেওয়া হয়।
তখনও কথা চলতেই থাকে। पत्रकार খালেদ মহিউদ্দীন মাত্র ২ বছর ধরে ফোবানায় আসছেন। তাকে কিছু বলতে বললে তিনি কিছুই বলেননি; কারণ সবাই নাস্তা চাচ্ছেন, কথা শুনবেন না কেউ।
এক স্মৃতির নাটক চলতেই থাকে। ফোবানা নিয়ে সবার দীর্ঘদিনের ভালোবাসার এক বন্ধন দৃশ্যমান হতে থাকে।
পাবেল আহমদ ৪১তম ফোবানায় সবাইকে দাওয়াত করেন এবং কিস্তিতে (ইন্সটলমেন্ট) প্যাকেজ কেনার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ১০০ ডলার করে দিতে শুরু করুন। পাবেল আহমদ সবাইকে সপরিবারে হিউস্টনে আমন্ত্রণ জানান।
মাহবুব ভূঁইয়া সবাইকে বিজনেস লাঞ্চের আহ্বান জানান।
সভাপতি ড. আব্দুস সাত্তার ফোবানায় সাংবাদিকদের অবদান স্বীকার করে ধন্যবাদ জানান। ফোবানায় ইতিবাচক খবর প্রকাশিত হয় বলেই ফোবানা গতিশীল, এমন মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ফোবানা অ্যালামনাই আগামীতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে।
দুই ঘণ্টার অ্যালামনাই ব্রেকফাস্ট মিটিংটি হয়ে উঠেছিল এক স্মৃতিরোমান্থন।
সবাই ফোবানাকেই ভালোবাসেন। ফোবানা করতে করতে অনেকের ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে তারাও ফোবানায় আসতে শুরু করেছে। ফোবানার প্রবীণ ব্যক্তিত্ব এটিএম আলম বলেন, “ফোবানার গল্প বলে শেষ করা যাবে না। অনেকেই এসেছেন, চলেও গেছেন। আমরা ফোবানাকে ভালোবেসেই আছি।”
জি আই রাসেল, ফোবানার একাধিক কনভেনশনের কনভেনর। দীর্ঘদিন ফোবানায় আছেন। রাসেল বলেন, চক্রান্ত করে গত ৫ বছর তাকে বাইরে রাখা হলেও মূল ফোবানা ছাড়েননি। তিনি জানেন না কী তার অপরাধ ছিল; এখন আর জানতেও চান না, সবার সাথেই থাকবেন।
৪০ বছরের ফোবানায় এখনও অনেকেই আছেন যারা ৩৩ বা ৩৪টি ফোবানায় এসেছেন। তাদের গল্পের শেষ নেই। সেই সময়টায় নানা শহরে এত মানুষজন ছিল না, সংগঠন ছিল না। কিছু স্বপ্নবোনা মানুষ ফোবানা তৈরি করেছিলেন। তাদের অনেকেই ছিলেন এই অ্যালামনাই মিটিংয়ের রুমে। সুখ-দুঃখের গল্পের শেষ নেই।
আটলান্টার ডাক্তার মানিক ও মিসেস মানিক লস অ্যাঞ্জেলেস কমিউনিটির সবাইকে ও ফোবানা পরিবারকে স্মরণ করে বলেন, “আমাদের জন্য দোয়া করবেন, আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।” মিসেস মানিক এই ফোবানা পরিবারকে একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম দাবি করে সবার জন্য শুভেচ্ছা জানান। কনভেনর ডক্টর জয়নাল আবেদীন বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে এই ফোবানায় আছি। কোনো চাওয়া-পাওয়ায় নয়, ফোবানাকে ভালোবাসি। লস অ্যাঞ্জেলেসে চারটি ফোবানা করেছি সবাইকে নিয়েই। ফোবানার সব সময় ভালো চাই, বিভাজনে বিশ্বাসী নই।”
প্রকৌশলী আবু হানিফ, চ্যান্সেলর, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ফোবানার সাথে সম্পৃক্ত দীর্ঘদিন। তিনি ফোবানার স্পন্সর থেকে ফোবানা পরিবারের একজন হয়ে উঠেছেন। অনেক সুন্দর সুন্দর মানুষের মিলনমেলা ফোবানা, তিনি ফোবানার সাফল্য কামনা করেন।
ফোবানা অ্যালামনাইয়ের গেট-টুগেদার ব্রেকফাস্টে আরও উপস্থিত ছিলেন নাহিদুল খান সাহেল, ডক্টর প্রিয়লাল কর্মকার, খালেদ রউফ, মহিউদ্দিন দুলাল, কাজী নাহিদ ও মিসেস নাহিদ, বাবুল হাই, রানা খান, মিম খান, সাম রিয়া, শামসুদ্দিন, শামসুদ্দিন সাগর, এস আই জুয়েল, আবু রুমি, করিম সালাউদ্দিন, ফরহাদ হোসেন, জনাব আজমল হোসেন, প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল, জাবেদ চৌধুরী, মারুফ ভূঁইয়া, মুজিব উদ্দিন, জুয়েল সাদত, রিয়াজ আহমেদ, অ্যান্থনি পিউস গোমেজ, সানি, মোহাম্মদ কাজল, মিসেস কাজল, আব্দুল মোমিনসহ আরও অনেকেই। প্রায় শতাধিক ফোবানা সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
অনেকেই ছিলেন, অনেকের নাম মনেও পড়ছে না। তবে খুবই জমজমাট আড্ডা ছিল।
অনেক নারী সদস্য উপস্থিত ছিলেন, তাদের সবার নাম না জানার কারণে উল্লেখ করতে পারলাম না। আগামীতে সবার নাম জানাব।
এই গল্প আমাদের অমিমাংসিত রয়ে গেল, বাকিটা আমরা হিউস্টনে শুনব।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন