https://www.prothomalony.com/
17949
north-america
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আদালতগুলোতে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মামলা নিয়ে ‘মেগা মাস্টার ক্যালেন্ডার হিয়ারিং’ আয়োজনের প্রবণতা বেড়েছে। এসব শুনানিতে একই দিনে ১০০ থেকে ২০০টি পর্যন্ত মামলা রাখা হচ্ছে। এতে অল্প সময়ের মধ্যে অভিবাসন মামলা নিষ্পত্তি ও নির্বাসনের আদেশ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য গার্ডিয়ান জানায়, দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে এসব বড় আকারের শুনানি আয়োজন করা হচ্ছে। অনেক অভিবাসী শুনানির তারিখ সম্পর্কে খুব অল্প সময় আগে জানতে পারছেন। আবার কেউ কেউ যথাযথ নোটিশ না পেয়েও শুনানিতে অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য হয়ে নির্বাসনের আদেশের মুখে পড়ছেন।
ঐতিহ্যগতভাবে ‘মাস্টার ক্যালেন্ডার’ শুনানিতে অভিবাসীদের অভিযোগ জানানো, আইনজীবী নেওয়ার সুযোগ দেওয়া, ঠিকানা যাচাই এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণের মতো প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসব শুনানি দ্রুত নির্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করছেন অভিবাসন অধিকারকর্মী ও সাবেক বিচারকেরা।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে ‘ইন অ্যাবসেনশিয়া’ বা অনুপস্থিত অবস্থায় নির্বাসনের আদেশ। কোনো অভিবাসী শুনানিতে উপস্থিত না হলে এবং আদালত মনে করলে যে তাকে যথাযথভাবে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, তার অনুপস্থিতিতেই নির্বাসনের আদেশ দেওয়া হতে পারে।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আদালতগুলোতে অনুপস্থিত অবস্থায় ৫৩ হাজার ৮০৮টি নির্বাসন আদেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ বা তার বেশি মানুষ নিয়ে অনুষ্ঠিত বড় শুনানিগুলো থেকেই এসেছে ১৩ হাজারেরও বেশি এমন আদেশ।
শুনানির নোটিশ পাওয়ার সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জুনে আটক নন—এমন অভিবাসীদের মাস্টার ক্যালেন্ডার শুনানির আগে সম্ভাব্য মধ্যম নোটিশ সময় ছিল মাত্র ৪২ দিন।
নিউইয়র্কের একটি আদালতের উদাহরণ দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ জুন ৯৫ জনের একটি শুনানিতে অংশগ্রহণকারীরা গড়ে মাত্র ২৪ দিন আগে নোটিশ পেয়েছিলেন। ওই শুনানিতে তিন-চতুর্থাংশের বেশি মানুষ অনুপস্থিত অবস্থায় নির্বাসনের আদেশ পান। অথচ এক মাস আগে একই বিচারকের ৭৩ জনের শুনানিতে মধ্যম নোটিশ সময় ছিল ১৬৯ দিন এবং অনুপস্থিত অবস্থায় নির্বাসনের আদেশ হয়েছিল মাত্র সাতটি।
কানসাস সিটিতেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। ১৫ দিনের বেশি সময়ের নোটিশ না পাওয়া ৯৩ জনের একটি তালিকায় ৫৬টি অনুপস্থিত অবস্থায় নির্বাসনের আদেশ দেওয়া হয়। বিপরীতে, ১৯৬ দিনের মধ্যম নোটিশ পাওয়া ৯৬ জনের আরেকটি তালিকায় এমন আদেশ ছিল মাত্র নয়টি।
অভিবাসন অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, অল্প সময়ের নোটিশ, আইনজীবীর সংকট এবং আদালতে যাওয়ার ভয়—সব মিলিয়ে অনেক অভিবাসী শুনানিতে উপস্থিত হতে পারছেন না। বিশেষ করে আদালতের আশপাশে আইসিইর গ্রেপ্তার অভিযান অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে বলেও তারা দাবি করছেন।
ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক অ্যাকাসিয়া সেন্টার ফর জাস্টিসের কর্মকর্তা কেটি ফ্লেমিংয়ের মতে, অনেক অভিবাসী হয়তো জানেনই না যে তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে নির্বাসনের আদেশ হয়েছে। এমন আদেশ বাতিল করতে সাধারণত আদালতে ‘মোশন টু রিওপেন’ করতে হয়, যা জটিল আইনি প্রক্রিয়া। এ আবেদনের জন্য ১ হাজার ৬৫ ডলার ফাইলিং ফিও রয়েছে।
এদিকে, দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর ১০০ জনের বেশি অভিবাসন বিচারক চাকরি হারিয়েছেন, পদত্যাগ করেছেন অথবা অবসরে গেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের জায়গায় নতুন বিচারক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
তবে নির্বাহী অফিস ফর ইমিগ্রেশন রিভিউ (ইওআইআর) বলেছে, তাদের লক্ষ্য হলো অভিবাসন মামলাগুলো দ্রুত ও আইনসম্মতভাবে নিষ্পত্তি করা। সংস্থাটির দাবি, অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব অভিবাসীদের বৈধ দাবি এবং জনগণের স্বার্থ—উভয়ের জন্য ক্ষতিকর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে অভিবাসন আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া সব ধরনের মামলার ২ শতাংশেরও কম ক্ষেত্রে অভিবাসীরা আশ্রয় বা অন্য কোনো বৈধ সুরক্ষা পেয়েছেন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুতগতির বড় শুনানি এবং অনুপস্থিত অবস্থায় নির্বাসনের আদেশের এই প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আদালতে ন্যায়বিচার ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন