https://www.prothomalony.com/
17828
north-america
ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টারের বেই পার্কে গত ২ আগস্ট স্থানীয় বাসিন্দা,
কমিউনিটি নেতা ও স্বেচ্ছাসেবকদের উপস্থিতিতে উদ্বোধন করা হয়েছে
“পার্কচেস্টার গ্রিন নেবার্স ইনিশিয়েটিভ”। এক বছরব্যাপী এই পরিবেশ
কর্মসূচির লক্ষ্য হলো অভিবাসী পরিবারগুলোকে তাদের বসবাসের এলাকাকে আরও
পরিচ্ছন্ন ও সবুজ করে তুলতে সহায়তা করা, জ্বালানি খরচ কমানোর উপায়
সম্পর্কে সচেতন করা এবং শিক্ষা ও কমিউনিটি উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই জীবনযাপন
উৎসাহিত করা।

ইপন চৌধুরীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই উদ্যোগটি পার্কচেস্টার অ্যাপার্টমেন্ট
কমপ্লেক্সের বাসিন্দাদের নিয়ে কাজ করবে। পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও
বাস্তবভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের সমন্বয়ে এই প্রকল্প পরিচালিত হবে।
আয়োজকরা জানান, তাদের লক্ষ্য হলো পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনকে সহজ,
বাস্তবসম্মত ও সবার জন্য গ্রহণযোগ্য করে তোলা এবং একই সঙ্গে কমিউনিটির
মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা।
প্রকল্পের প্রথম ধাপে শুরু হবে কমিউনিটি সচেতনতা কার্যক্রম। এর মধ্যে থাকবে
বিভিন্ন ভাষায় প্রচারপত্র বিতরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সভা, যাতে তারা এই উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে পারেন
এবং সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে উৎসাহিত হন।
স্বেচ্ছাসেবীরা একটি পরিবেশগত মূল্যায়ন কার্যক্রমও পরিচালনা করবেন। এর
মাধ্যমে এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা, সম্ভাব্য বৃক্ষরোপণের স্থান,
এবং নতুন সবুজ এলাকা তৈরির সুযোগগুলো চিহ্নিত করা হবে।

পুরো বছরজুড়ে বাসিন্দারা নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচিতে
অংশ নেবেন। এসব কার্যক্রমের মধ্যে থাকবে জনসাধারণের স্থান থেকে আবর্জনা
অপসারণ, স্থানীয় পরিবেশ উন্নয়নের জন্য দেশীয় গাছ ও ফুলের চারা রোপণ এবং
সবুজ এলাকা সম্প্রসারণ।
এছাড়া বিভিন্ন কমিউনিটি ওয়ার্কশপের মাধ্যমে বাসিন্দাদের
পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী ব্যবস্থাপনা (রিসাইক্লিং), কম্পোস্ট তৈরি,
বাড়ির জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলার বিষয়ে
ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে একটি “গ্রিন
নেবার্স” নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। তারা স্থানীয় পরিবারগুলোকে টেকসই
জীবনযাপনের বিষয়ে সহায়তা করবেন, পরিবেশবান্ধব অভ্যাস প্রচার করবেন এবং
প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সহযোগিতা প্রদান করবেন। পার্কচেস্টারের
বৈচিত্র্যময় অভিবাসী জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন ভাষায় শিক্ষা
উপকরণ তৈরি করা হবে।
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবীরা কমিউনিটি বাগানগুলো শীতের জন্য
প্রস্তুত করবেন। এর মধ্যে থাকবে গাছের সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া,
বাগানের পরিচর্যা এবং মৌসুমি সবুজায়ন কার্যক্রম। পাশাপাশি প্রকল্পটি
কম্পোস্ট স্টেশন স্থাপন, যেখানে সম্ভব বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং স্থানীয়
জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সহায়ক পরাগায়নকারী উদ্ভিদের বাগান তৈরির পরিকল্পনাও
করছে।
প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে আয়োজিত হবে একটি “কমিউনিটি গ্রিন ফেয়ার”। সেখানে
বাসিন্দারা পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে পারবেন,
প্রকল্পের অর্জন উদযাপন করবেন এবং নিজেদের সফল অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেবেন।
অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক ও কমিউনিটি অংশীদারদের অবদান তুলে ধরা হবে।
প্রকল্পের প্রধান ইপন চৌধুরী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো টেকসই জীবনযাপনকে
এমন একটি বিষয় হিসেবে গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি পরিবার অংশ নিতে পারে।
সঠিকভাবে রিসাইক্লিং করা বা একটি গাছ লাগানোর মতো ছোট ছোট পরিবর্তনও একটি
স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করতে পারে। প্রতিবেশীরা যখন একসঙ্গে কাজ করেন, তখন
একটি শক্তিশালী কমিউনিটি গড়ে ওঠে।”
তিনি আরও বলেন, “পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি এই উদ্যোগ মানুষের মধ্যে সম্পর্ক,
দায়িত্ববোধ এবং নিজেদের এলাকার প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করবে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত কমিউনিটি নেতারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে
বলেন, এটি পার্কচেস্টারকে আরও পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও সংযুক্ত কমিউনিটিতে পরিণত
করার পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তাদের মতে, এই প্রকল্প শুধু পরিবেশ
উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি প্রতিবেশীদের একত্রিত করবে, নাগরিক
জীবনে অংশগ্রহণ বাড়াবে এবং এলাকার প্রতি গর্ব ও সম্মিলিত দায়িত্ববোধ তৈরি
করবে।
পরিচালকরা আশা করছেন, পার্কচেস্টার গ্রিন নেবার্স ইনিশিয়েটিভ দীর্ঘমেয়াদে
পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তুলবে, সবুজ এলাকা সম্প্রসারণ করবে এবং একটি
পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও আরও ঐক্যবদ্ধ পার্কচেস্টার কমিউনিটি গড়ে তুলতে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন