https://www.prothomalony.com/

15766

opinion

অভিমত

উত্তরের স্বাস্থ‍্য-সচাতনতা

প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৩:২৭

১.শিশুর সেপারেশন অ্যাংজাইটি: বাবা-মায়ের করণীয় 

সেপারেশন অ্যাংজাইটি বলতে ঘর থেকে দূরে থাকা বা এমন কোনো ব্যক্তির (বিশেষ করে  বাবা-মা) কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া নিয়ে উদ্বেগকে বোঝায়, যার প্রতি শিশুটি মানসিকভাবে গভীরভাবে আসক্ত। এটি প্রায় সব শিশুর মধ‍্যেই বিদ‍্যমান থাকে। তবে কিছু কিছু শিশুর ক্ষেত্রে, এই বিচ্ছেদজনিত উদ্বেগ যদি তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং যদি শিশুর বয়স এবং তার বিকাশের স্বাভাবিক স্তরের তুলনায় অনেক বেশি প্রবল হয়ে ওঠে, প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজকর্মে মারাত্মক সমস্যা করে; তখন এটি সেপারেশন অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারের লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

ম‍্যায়ো ক্লিনিক এর তথ‍্য অনুযায়ী, সেপারেশন অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার এর লক্ষণগুলি হলো:

তীব্র মানসিক যন্ত্রণা: বাড়ি থেকে দূরে থাকলে বা প্রিয়জনদের থেকে আলাদা হওয়ার কথা চিন্তা করলে বারবার এবং প্রচণ্ড মানসিক কষ্ট হওয়া। এর মধ্যে সমবয়সী অন্য শিশুদের তুলনায় অনেক বেশি সময় ধরে জেদ করা বা প্রিয়জনকে আঁকড়ে ধরে রাখার প্রবণতা দেখা যেতে পারে।

প্রিয়জনকে হারানোর ভয়: অসুস্থতা, মৃত্যু বা কোনো দুর্যোগের কারণে বাবা-মা বা প্রিয়জনকে হারানোর বিষয়ে সারাক্ষণ তীব্র দুশ্চিন্তা করা।

• বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয়: হারিয়ে যাওয়া বা অপহৃত হওয়ার মতো খারাপ কিছু ঘটার সার্বক্ষণিক দুশ্চিন্তা, যা প্রিয়জনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণ হতে পারে।

• ঘর থেকে বের হতে অনীহা: বিচ্ছেদের ভয়ে বাড়ি থেকে দূরে কোথাও যেতে না চাওয়া বা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা।• একা থাকতে ভয়: যে বয়সে একা থাকা স্বাভাবিক, সেই বয়সেও বাড়িতে একা থাকতে না চাওয়া বা প্রিয়জনকে ছায়ার মতো অনুসরণ করা।

• ঘুমানোর ক্ষেত্রে সমস্যা: প্রিয়জনকে ছাড়া ঘুমাতে যেতে রাজি না হওয়া কিংবা বাড়ির বাইরে কোথাও রাত কাটাতে অস্বীকার করা।

• দুঃস্বপ্ন দেখা: বিচ্ছেদ বা বিচ্ছিন্ন হওয়া নিয়ে বারবার দুঃস্বপ্ন দেখা।

• শারীরিক উপসর্গ: প্রিয়জনের কাছ থেকে আলাদা হওয়ার সময় বা তার আগে বারবার মাথাব্যথা, পেটব্যথা বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যার অভিযোগ করা।

• প্যানিক অ্যাটাক: এই ডিসঅর্ডারের সাথে প্যানিক অ্যাটাকও হতে পারে, যা হলো হঠাৎ শুরু হওয়া তীব্র ভয় বা উদ্বেগের একটি পর্যায় যা কয়েক মিনিটের মধ্যে চরমে পৌঁছায়।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, সেপারেশন অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার এর কারণগুলোর মধ‍্যে রয়েছে: বাবা-মায়ের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ, পরিবার বা কোনো নিকটাত্মীয়, বন্ধু বা পোষা প্রাণীর মৃত্যু, বাসস্থান পরিবর্তন করে নতুন কোনো এলাকায় যাওয়া, বাসস্থান পরিবর্তন করে নতুন কোনো এলাকায় চলে যাওয়া..ইত‍্যাদি। তবে, সেপারেশন অ্যাংজাইটি থেকে ডিসঅর্ডারে রূপ নেওয়ার ক্ষেত্রে জেনেটিক্স বা বংশগতিও একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। বাবা মা বা রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়দের মধ্যে যদি উদ্বেগের লক্ষণ বা কোনো উদ্বেগজনিত ব্যাধি থাকে, কিংবা শিশু যদি কোনো ধরনের দুর্যোগ বা মানসিকভাবে আঘাতমূলক জীবনস্মৃতি অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়, তবে  সেপারেশন অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

 

বাবা মা হিসাবে আপনি যা করতে পারেন: সেপারেশন অ‍্যাংজাইটি সাধারণত দুই বা তিন বছর বয়সে শুরু হতে পারে এবং সময়ের সাথে সাথে চলেও যায়। তবে ৬ মাস বয়সের পর পরই একটি শিশু তার মায়ের অনুপস্থিতিতে কান্নার মাধ‍্যমে বিচ্ছেদের ‌অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে। যদি লক্ষণগুলো শিশুর বিকাশের স্তরের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। 

বাবা-মায়ের পক্ষে শিশুর উদ্বেগ পুরোপুরি মুছে ফেলা সম্ভব নয়, তবে ছোট এবং ধারাবাহিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি সহনীয় করা যায়। 

আপনি যখন বাইরে যাবেন, বিশ্বস্ত কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির কাছে শিশুকে খুব অল্প সময়ের জন্য রেখে যাওয়ার অভ্যাস শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে এই সময়টি বাড়ান।

বিদায়ের জন্য একটি আলিঙ্গন, একটি নির্দিষ্ট কথা বলা বা হাত নাড়ানোর রুটিন করুন এবং প্রতিবার সেটিই অনুসরণ করুন। মনে রাখবেন, শিশুকে না বলে চুপিচুপি চলে গেলে তার মনে অবিশ্বাস তৈরি হয়, যা পরবর্তী বিচ্ছেদকে আরও কঠিন করে তোলে। আপনার অনুপস্থিতিতে শিশুর পছন্দের কোনো খেলনা, পুতুল বা পরিবারের ছবি তাকে মানসিক প্রশান্তি ও আপনার সাথে সংযোগের অনুভূতি দিতে পারে। ছোট শিশুদের রুটিন বোঝাতে ছবি ব্যবহার করুন, যেখানে আপনি কখন যাচ্ছেন এবং কখন ফিরবেন তা স্পষ্ট বোঝা যায়।

এছাড়া, শিশুরা তখন সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয় যখন বড়রা তাদের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেয় এবং তাদের সক্ষমতার ওপর আস্থা প্রকাশ করে। আপনি কোথায় যাচ্ছেন এবং আপনার অনুপস্থিতিতে কে তার যত্ন নেবে, তা সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করুন। শিশুকে জানান যে আপনাকে মিস করা বা একটু ঘাবড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়, তবে একইসাথে সে যে নিরাপদ আছে সেই আশ্বাসও দিন। আপনি নেই-এই চিন্তার বদলে আপনি না থাকা অবস্থায় সে কী কী করবে (যেমন: খেলাধুলা, নাস্তা বা গল্প শোনা), সেগুলোর ওপর মনোযোগ দিন। শিশুকে তার ভয় বা দুশ্চিন্তার কথা বলতে উৎসাহিত করুন এবং লম্বা বা জটিল প্রতিশ্রুতির বদলে শান্তভাবে তাকে আশ্বস্ত করুন।

 

বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ বা প্রিয়জনের মৃত্যুর মতো কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে শিশুর সাথে বয়সোপযোগী আলোচনা করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে তাদের মনের ভয় ও রহস্য দূর হয়। এ ক্ষেত্রে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কথা না বলে তাদের বয়স অনুযায়ী সহজ শব্দ ব্যবহার করুন, আপনার দৃষ্টিভঙ্গি যেন হয় সহমর্মিতাপূর্ণ, শান্ত এবং স্পষ্ট।  'ঘুমিয়ে আছে' বা 'দূরে গেছে' না বলে শান্তভাবে বুঝিয়ে বলুন যে শরীর কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে এবং তিনি আর ফিরবেন না।  'বাবা-মা আর একসাথে থাকবেন না'-এই কঠিন সত্যটি সরাসরি বলুন, তবে অবশ্যই শান্ত কণ্ঠে এবং বলুন যে, "বাবা মা আলাদা থাকলেও তোমাকে ভালোবাসার জন‍্য আমরা একসাথে আছি।" 

পরিবারের বড় কোনো পরিবর্তনে শিশুরা প্রায়ই নিজেদের অপরাধী মনে করে। তাদের বারবার মনে করিয়ে দিন: "এতে তোমার কোনো ভুল নেই।" 

শিশুকে কাঁদতে দিন বা রাগ প্রকাশ করতে দিন। তাদের বলুন যে দুঃখ পাওয়া বা মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। তাদের প্রশ্ন করার সুযোগ দিন এবং ধৈর্য ধরে উত্তর দিন।

অনিশ্চয়তা শিশুকে ভীত করে। বিচ্ছেদ হলে তারা কার সাথে থাকবে, মৃত্যু হলে প্রতিদিনের জীবনে কী পরিবর্তন আসবে, তা তাদের বুঝিয়ে বলুন। জীবনযাত্রায় যতটা সম্ভব স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করুন।

সবশেষে, তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সঙ্গ দিন। জড়িয়ে ধরা, পাশে বসে গল্প করা বা কেবল তাদের কথা শোনাও এই সময়ে অনেক বড় ওষুধ হিসেবে কাজ করে।

 

 

 

২.ওজন কমানোর ৯টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

 

বেশিরভাগ মানুষই বোঝেন যে একটি স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা অপরিহার্য। কিন্তু ওজন কমানোর সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো সম্পর্কে সবাই হয়তো জানেন না। ওজন কমানোর এই উপকারিতাগুলি জানা থাকলে তা ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় আপনাকে অনুপ্রাণিত করতে পারে।

ওজন কমানোর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো হলো:

 

১. হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি: অতিরিক্ত ওজন আপনার হৃৎপিণ্ডকে শরীরের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালনে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে বাধ্য করে। ওজন কমালে ধমনীর উপর চাপ কমে এবং হৃৎপিণ্ডের ওপরের চাপ হ্রাস পায়। এটি আপনার খারাপ 'লো ডেনসিটি লিপোপ্রোটিনস' কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও সাহায্য করে।

 

২. টাইপ ২ ডায়াবেটিসের উন্নতি: টাইপ–২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা যখন ওজন কমানোর চেষ্টা করেন, তখন সাধারণত তাদের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত হয়। কারণ অতিরিক্ত চর্বি প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা ইনসুলিনের কাজ অর্থাৎ রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ বাধাগ্রস্ত করে। মাত্র ৫ শতাংশ ওজন কমালেও আপনি এই উন্নতি দেখতে পাবেন।

 

৩. স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস: ওজন কমালে কেবল হৃৎপিণ্ডের ওপর চাপই কমে না, রক্তনালীগুলির ওপরও চাপ কমে, যার ফলে রক্ত ​​জমাট বাঁধার সম্ভাবনা হ্রাস পায়।

 

৪. নির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস: চিকিৎসকদের মতে, আপনার ওজন যত কমবে, প্যানক্রিয়াস, কিডনি, স্তন (বিশেষ করে মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের), এন্ডোমেট্রিয়াল এবং লিভার ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও তত হ্রাস পায়।

 

৫. চলাফেরার ক্ষমতা বৃদ্ধি: ওজন কমালে আপনার হাঁটু এবং অন্যান্য জয়েন্টগুলির উপর চাপ কমবে। সামান্যতম ওজন হ্রাসও জয়েন্টের ব্যথা কমায় এবং চলাফেরা সহজ করে তোলে। এতে ব্যায়াম করার উৎসাহ বাড়ে, যা ওজন কমানোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখে এবং ফিটনেস আরও বৃদ্ধি করে।

 

৬. ঘুমের উন্নতি এবং শক্তি বৃদ্ধি:  অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিরা প্রায়শই স্লিপ অ্যাপনিয়াতে ভোগেন-যেখানে গলায় অতিরিক্ত চর্বি জমে শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়, ফলে রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। ওজন কমালে সমস্যাটি পুরোপুরি দূর না হলেও, ঘুমের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়। ফলস্বরূপ, দিনে শক্তি ও কর্মক্ষমতা বেড়ে যায়।

 

৭. যৌন আকাঙ্ক্ষা বাড়াতে পারে: বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানোর ফলে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে, যা আপনার লিবিডো বা যৌন আকাঙ্ক্ষা বাড়াতে পারে। 

 

৮. স্বাদের অনুভূতি বৃদ্ধি: যদিও কারণটি পরিষ্কার নয়, তবে দেখা দেখা গেছে যে ওজন কমালে অনেকেরই খাবারের স্বাদ আরও তীক্ষ্ণভাবে অনুভূত হয়। এর ফলে, আপনি খাবারের পরিমাণ কমিয়েও একই রকম উপভোগ করতে পারেন।

 

৯. আত্মসম্মান বৃদ্ধি: ওজন কমানোর সব সুবিধা শারীরিক নয়। নিজের সম্পর্কে আপনার অনুভূতিতে আসা পরিবর্তনগুলিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নিজেকে ফিট রাখা আত্মমর্যাদা এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।

 

তবে মনে রাখা জরুরি, যাদের ওজন বৃদ্ধি কোনো চিকিৎসাজনিত অবস্থার (যেমন থাইরয়েড সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া) কারণে হয়, তাদের ক্ষেত্রে ওজন কমানোর প্রক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। সেক্ষেত্রে কোনো খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়াম শুরু করার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা এন্ডোক্রিনোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য। মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ওজন ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি অন্তর্নিহিত চিকিৎসাজনিত সমস্যাটির সমাধান করা।

 

 

৩.বিষাক্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পন্ন ৮টি ফল ও সবজি

 

উদ্ভিদরা টিকে থাকার জন্য নানা বুদ্ধিদীপ্ত উপায়ে নিজেকে রক্ষা করে। কেউ পরাগায়নকারীদের আকর্ষণ করে বংশবৃদ্ধি করে, কেউ বাতাস বা জলের সাহায্যে বীজ ছড়ায়, আবার কেউ শিকারিদের থেকে বাঁচতে বিষাক্ত রাসায়নিক তৈরি করে। গবেষকেরা সতর্ক করেছেন—সব প্রাকৃতিক খাবারই নিরাপদ নয়, কারণ অনেক উদ্ভিদ নিজেদের সুরক্ষার জন্য ক্ষতিকর উপাদান তৈরি করে, যা মানুষের শরীরের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির নিউরোলজি এবং অকুপেশনাল হেলথ সায়েন্সেসের অধ্যাপক পিটার স্পেন্সার সিএনএন-কে বলেন, "আমরা এমন সব ফল ও সবজি খাচ্ছি যাতে সম্ভাব্য ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে।" 

'ট্রিহাগার'-এর প্রাক্তন সিনিয়র এডিটোরিয়াল ডিরেক্টর ও 'নিউ ইয়র্ক টাইমস' এর লেখক মেলিসা ব্রেয়ার, সতর্ক করেছেন যে নিচে উল্লিখিত ফল ও সবজিগুলো খাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষ সচেতন থাকা জরুরি।

 

১. লিচু: লিচু অনেকের প্রিয় ফল, তবে লিচু যখন অপরিণত বা কাঁচা থাকে, তখন এতে থাকা টক্সিন রক্তে শর্করার পরিমাণ অস্বাভাবিক কমিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যারা পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন, তাদের জন্য এই টক্সিন জ্বর থেকে শুরু করে এনসেফালোপ্যাথি (মস্তিষ্কের রোগ) এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। ভারতে প্রতি বছর শিশুদের রহস্যজনক মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে গবেষকরা দেখেছেন যে, বাগান থেকে সারাদিন ধরে কাঁচা লিচু খাওয়াই ছিল এর মূল কারণ।

 

২. কাঁচা কাজু বাদাম: কাঁচা কাজু বাদামে ইউরুশিওল নামক একটি নির্যাস থাকে, যা পয়জন আইভি গাছের তীব্র চুলকানিসৃষ্টিকারী উপাদানটিও বটে। এটি ত্বকে মারাত্মক র‍্যাশ তৈরি করতে পারে এবং পেটে গেলে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে। তবে "কাঁচা" লেখা কাজুবাদাম খেলে কোনো সমস্যা হয়না, কারণ বাজারে বিক্রি হওয়া সব কাজুবাদাম আসলে খোসা ছাড়ানোর সময় তাপ দিয়ে সেদ্ধ করা হয়। এগুলি কেবল "কাঁচা" লেখা হয় কারণ এগুলো পরবর্তী পর্যায়ে ভাজা বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত করা হয় না। 

 

৩.আ‍্যকি: জামাইকার জাতীয় ফল 'আকি'-তে লিচুর মতোই হাইপোগ্লাইসিন নামক এক ধরনের বিষাক্ত উপাদান থাকে। পশ্চিম আফ্রিকার এই ফলটি সম্পর্কে স্থানীয়রা সচেতন এবং তারা কখনোই এটি কাঁচা বা আধপাকা অবস্থায় খায় না। দুর্ভাগ্যবশত, অনেক শিশু এই বিপদের কথা জানে না, ফলে অপরিপক্ক অ্যাকি খেয়ে তারা সহজেই বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে।

 

৪. কাসাভা: আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং এশিয়ার বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রধান খাদ্য এই কাসাভা। কিন্তু এটি সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত না করলে হাইড্রোজেন সায়ানাইড নির্গত হতে পারে। এটি থাইরয়েড হরমোন এবং মস্তিষ্কের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণকারী অংশের ক্ষতি করে, এমনকি স্থায়ী পক্ষাঘাতের কারণ হতে পারে।

 

৫. কামরাঙা: কিডনি রোগীদের জন্য কামরাঙা মোটেও ভালো কিছু নয়। এতে ক্যারামবক্সিন নামক একটি নিউরোটক্সিন থাকে যা সুস্থ কিডনি সহজেই শরীর থেকে বের করে দিতে পারে। কিন্তু যাদের কিডনির কার্যকারিতা কম বা কিডনি রোগ আছে, তাদের শরীরে এই টক্সিন  জমতে থাকে এবং এর ফলে হেঁচকি ওঠা, বমি, মানসিক বিভ্রান্তি থেকে শুরু করে দীর্ঘস্থায়ী মৃগীরোগের মতো খিঁচুনি, কোমা এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

 

৬. শাঁসযুক্ত ফলের বীজ বা স্টোন ফ্রুট পিটস: চেরি, চেরি, আপ্রিকট, প্লাম ও পিচের মতো কিছু স্টোন ফ্রুটের গুটির ভিতরে লুকিয়ে আছে সায়ানোজেনিক যৌগ—যা সায়ানাইড তৈরি করতে পারে!  বীজটি আস্ত গিলে ফেললে তা শরীরের ভেতর দিয়ে কোনো সমস্যা ছাড়াই বেরিয়ে যায়। কিন্তু বীজটি যদি চিবিয়ে বা গুঁড়ো করে খাওয়া হয়, তবে বিপদ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক বসায় বড়দের তিনটির বেশি ছোট অ্যাপ্রিকট বীজ খাওয়া অনিরাপদ, আর শিশুদের জন্য মাত্র একটি বীজই বিষক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরির জন্য যথেষ্ট।

 

৭. আলু: আমরা সাধারণত খাবার অপচয় করতে নিষেধ করি, কিন্তু আলুর ক্ষেত্রে কিছুটা অপচয় করাই ভালো। যদি আলুর ত্বক সবুজ হয়ে যায় বা এতে অঙ্কুর গজায়, তবে সেটি এড়িয়ে চলুন। এতে সোলানিন নামক বিষাক্ত উপাদান বেশি থাকে। যদিও গুরুতর অসুস্থ হতে প্রচুর পরিমাণে সবুজ আলু খেতে হবে, তবুও সতর্ক থাকা জরুরি।

 

৮. কাঁচা কিডনি বিনস: কাঁচা কিডনি বিনস খেতে খুব একটা সুস্বাদু নয়। তবে যারা আগুনের তাপ ছাড়া খাবার খাওয়ার ডায়েট করেন, তারা অনেক সময় এটি খাওয়ার চেষ্টা করেন। লাল কিডনি বিনসে উচ্চ মাত্রার ফাইটোইমাগ্লুটিনিন থাকে। যদিও রান্না করলে এই বিষ নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু মাত্র এক মুঠো কাঁচা বিনস শরীরের ভারসাম্য নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এর বিষক্রিয়া থেকে দ্রুত সুস্থ হওয়া যায়।

 

মূলক, উপরের তথ্যগুলো আপনাকে ভয় দেখানোর জন্য নয়, বরং সতর্ক করার জন্য। উদ্ভিদ আমাদের খাবারের প্রধান উৎস, তাই নিয়ম মেনে এবং সতর্ক থেকে এগুলো প্রচুর পরিমাণে খাওয়া চালিয়ে যান।

অভিমত থেকে আরো পড়ুন