https://www.prothomalony.com/

14886

new-york

নিউইয়র্ক

সৈয়দা আদিবার সাক্ষাৎকার: বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে জনগণের সেবা করতে চাই

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৮:৫৪

সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের কন্যা সৈয়দা আদিবা হোসেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষের কাছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি সিলেট-৬ সংসদীয় এলাকায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন এবং নিজেকে প্রতীয়মান করছেন এ আসনে ধানের শীষের অন্যতম দাবিদার হিসেবে। সম্প্রতি গোলাপগঞ্জের এক আলোচনা সভা শেষে তিনি প্রথম আলো নিউইয়র্ককে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক ভাবনা তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সামিল হোসেন।

প্রথম আলো নিউইয়র্: আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশার পেছনের অনুপ্রেরণা কী?

সৈয়দা আদিবা হোসেন: মানুষের সেবা করার অনুপ্রেরণা আমার পরিবার থেকেই পাওয়া। বাবা একজন সমাজসেবক ও সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন, এবং এ এলাকার জন্য অনেক কাজ করে গেছেন। বিশেষ করে সিলেট-৬ আসনের সাধারণ মানুষ আজও বাবাকে স্মরণ করেন। সেই টান থেকেই মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। আমার অনুপ্রেরণা আমার বাবা। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের মানুষের পাশে সবসময় থাকতে চাই।

প্রথম আলো নিউইয়র্ক: সিলেট-৬ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী বেশ কয়েকজন প্রার্থী ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছেন। আপনার প্রচারণা কেমন চলছে?

সৈয়দা আদিবা হোসেন: আলহামদুলিল্লাহ, প্রচারণা খুব ভালো চলছে। আমি মনে করি মনোনয়নপ্রত্যাশী বেশি হওয়া ইতিবাচক। আমি এটাকে খারাপ কিছু মনে করি না। প্রার্থী যত বেশি হবে, দলের জন্য ততই ভালো হবে। দলের ৩১ দফার প্রচারণা আরও বেশি ছড়িয়ে পড়বে। তাছাড়া প্রার্থী বেশি হলে সবার মধ্যে কাজ করার একটা প্রতিযোগিতা তৈরি হবে, এবং এখান থেকে সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী উঠে আসবে।

প্রথম আলো নিউইয়র্ক: একজন নারী হিসেবে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা অনুভব করছেন কি?

সৈয়দা আদিবা হোসেন: একদমই না! আমাকে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের মানুষ খুব আন্তরিকভাবে আপন করে নিয়েছে। আমার আব্বার (সাবেক এমপি ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন) জন্য যে ভালোবাসা জনগণের ছিল, সেই ভালোবাসা আমার দিকেও এসেছে। এজন্য সিলেট-৬ আসনের জনগণের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তবে রাজনীতির মাঠে জনগণের আস্থাই সবচেয়ে বড় শক্তি। জনগণ যদি আমাকে সমর্থন করে, তবে যে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা মোকাবিলা করতে আমি আত্মবিশ্বাসী। কারণ আমি জনগণের সেবক হিসেবে সবসময় জনগণের পাশে থাকতে চাই।

প্রথম আলো নিউইয়র্ক: যদি আপনি ধানের শীষ প্রতীক না পান, তাহলে কি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা আছে?

সৈয়দা আদিবা হোসেন: কোনো সম্ভাবনা নেই। ধানের শীষ প্রতীক যে প্রার্থী পাবেন, আমরা সবাই তার জন্য কাজ করব। আমরা একই দলের মানুষ। আমি বিএনপির জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাস করি এবং দলের হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে চাই।

প্রথম আলো নিউইয়র্ক: দল ও জনগণ কেন আপনাকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেবে বলে মনে করেন?

সৈয়দা আদিবা হোসেন: আমরা যে রাজনৈতিক পালাবদল দেখেছি, এখন সাধারণ মানুষ অনেক সচেতন। আমি মনে করি রাজনীতিতে শিক্ষিত, যোগ্য মানুষের আসা উচিত—যাদের রাজনীতি থেকে নিজের পকেট ভরার দরকার নেই, বরং সমাজের জন্য কিছু করার যোগ্যতা ও মানসিকতা আছে। আমাদের পারিবারিক আয়ের উৎস আমাদের ব্যবসা, যা অনেক আগে থেকেই আছে। আমাদের রাজনীতিতে এসে দুর্নাম কুড়ানোর দরকার নেই, দুর্নীতিতে জড়ানোরও দরকার নেই। ভবিষ্যতেও যেই সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, আমি নিজের দেশে থাকতে চাই এবং সম্মানের সঙ্গে থাকতে চাই—যেমন ছিলেন আমার বাবা। আপনারা জানেন, তিনি একজন সৎ রাজনীতিবিদ ছিলেন এবং কোনো বলয়ে বিশ্বাসী ছিলেন না। সেই আদর্শকে বুকে লালন করে বাবার মতো মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সিলেট-৬ আসনের জনগণের সেবা করতে চাই।

প্রথম আলো নিউইয়র্ক: ধন্যবাদ আপনাকে।

সৈয়দা আদিবা হোসেন: ধন্যবাদ আপনাকেও।
 

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন