https://www.prothomalony.com/

14742

new-york

নিউইয়র্ক

বাফেলো পরিস্থিতিতিঃ উত্তেজনা, ভয় - সমাধানহীন সংকট দীর্ঘায়িত

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০১:০৪

নিউইয়র্কের বাংলাদেশিবহুল শহর বাফেলোতে এক বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া অস্থির পরিস্থিতি এখনো উত্তরণ পায়নি। পুরো শহরজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। ভিডিওতে দেখা যায়—ব্রডওয়ের ম্যান্ডেলা মার্কেটে এক কৃষ্ণাঙ্গ নারী ক্রেতাকে দোকানের কর্মীরা ঝাড়ুর ডাণ্ডা ও লাঠিসদৃশ বস্তু দিয়ে মারধর করছে। নারীটি আতঙ্কিত অবস্থায় কোণে দাঁড়িয়ে আছেন, আর চারপাশে বিশৃঙ্খল পরিবেশ।

গত মঙ্গলবার রাতে ঘটনাটি ঘটে। পরদিন সকালেই শত শত মানুষ দোকানটির সামনে ভিড় জমায়। জেফারসন অ্যাভিনিউ এবং ব্রডওয়ের মোড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিক্ষোভ চলে। “ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার” স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। দোকানটি তালাবদ্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা পরিচালনায় কাগজপত্রেও অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। ফলে দোকানটি পুনরায় চালু হওয়া অনিশ্চিত রয়ে গেছে। আন্দোলনকারীরা দরজায় “ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার” পোস্টার লাগিয়ে রেখেছে। 

প্রতিবাদকারীরা কেবল এই ঘটনার বিচার চাননি, বরং দীর্ঘদিনের ক্ষোভও উগরে দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই দোকান ও মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে আগেও ভোক্তাদের হয়রানি, দুর্ব্যবহার ও অবহেলার অভিযোগ উঠেছিল। সাম্প্রতিক ঘটনা যেন সেই দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। ফলে ক্ষুব্ধ মানুষ কোনোভাবেই শান্ত হচ্ছে না।

বাংলাদেশি কমিউনিটির ভেতরেও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও অস্থিরতা। বাফেলোতে শতাধিক সংগঠন, অর্ধশতাধিক মসজিদ কমিটি থাকলেও এমন সংকটময় মুহূর্তে কেউই প্রকাশ্যে এগিয়ে আসছেন না। বরং কমিউনিটির নেতাদের অনৈক্য ও দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। বৈঠকের পর বৈঠক হলেও, বাংলাদেশি কোনো সংগঠন বা ধর্মীয় নেতা প্রকাশ্যে অংশ নিচ্ছেন না। অনেকে আতঙ্কে ঘরবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

এই জটিল পরিস্থিতিতে এগিয়ে —কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ ওসমান। তিনি কিছু লোকজন নিয়ে মূলধারার নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন ও সমন্বয় করছেন। বৃহস্পতিবার দিনভর একাধিক সভা হলেও সুরাহা হয়নি। শুক্রবারও বৈঠকের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে সিটি কাউন্সিলের মেজরিটি লিডার লিয়া এম. হ্যালটন-পোপের উপস্থিতিতে ‘ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি সেন্টার’-এ বড় বৈঠক বসে। সেখানে প্রতিবাদকারীদের পক্ষ থেকে অংশ নেয় MVP, Buffalo Fathers Group, Buffalo Peace Maker, Back to Basicসহ বিভিন্ন সংগঠন।
 ম্যান্ডেলা মার্কেটের মালিক চট্টগ্রামের এ. ডি. ইউসুফ ও তাঁর সহযোগী ইয়াসিন মোহাম্মদও আলোচনায় যোগ দেন। কিন্তু আপাতত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। এই ব্যবসায়ীদের কৃতকর্মের দীর্ঘস্থায়ী ফলাফল কি হতে পারে- এ নিয়ে বাফেলোতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ঘরে ঘরে আলোচনা চলছে। 

বাংলাদেশি কমিউনিটির দায়িত্বশীল অংশের মধ্যে এক ধরনের ভীতি কাজ করছে। তারা আশঙ্কা করছেন, কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর ক্ষোভ যদি আরও তীব্র হয় তবে বাংলাদেশিদের সামাজিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাফেলোতে ভবিষ্যতে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। অথচ এমন পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যায়নি।

ছোট একটি ঘটনা পুরো শহরকে অচল করে দিতে পারে—এমন বাস্তবতা এখন বাফেলো শহরে স্পষ্ট। আন্দোলনকারীরা কোনো আপসের সুযোগ দিচ্ছেন না। অন্যদিকে বাংলাদেশি সমাজের নেতৃত্বহীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধান না এলে, বাংলাদেশিদের ভবিষ্যৎ এই শহরে সংকটের মুখে পড়বে বলেই অনেকেই মনে করছেন। মোহাম্মদ ওসমান আশা করছেন শুক্রবারের বৈঠকের পর বলা যাবে পরিস্থিতিতি কোন দিকে যাচ্ছে। 

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন