https://www.prothomalony.com/
14731
new-york
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৬:১৯
নিউইয়র্ক শহরে সাম্প্রতিক কাতারে ইসরায়েলের বিমান হামলার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে। যদিও এই মুহূর্তে কোনো সরাসরি হুমকির তথ্য নেই, তবুও পুলিশ জানিয়েছে, এটি ’পূর্ণ সতর্কতার কারণে’ নেওয়া পদক্ষেপ। ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং কূটনৈতিক স্থাপনায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ফেডারেল সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, শহরের ব্রিজ, টানেল এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পুলিশ উপস্থিতি বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই সময়ে নিরাপত্তা জোরদারের পদক্ষেপটি সাধারণত বার্ষিক ৯/১১ স্মরণ অনুষ্ঠানের জন্য নেওয়া হয়ে থাকে। তবে এবারের পদক্ষেপটি কাতারের পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শহরের যে কোনো সম্ভাব্য প্রভাব বা হুমকি নির্ধারণের জন্য তারা পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনে আরও ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে, মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলের হামলার ফলে শহরজুড়ে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এই হামলায় হামাস নেতাদের লক্ষ্য করা হয়েছিল। হামলার ফলে গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনায় নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। কাতার এই হামলাকে ‘কামুক’ আখ্যায়িত করেছে এবং স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা দেশের নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের সঙ্গে কোন ধরনের ছেলেখেলার সুযোগ দেবে না। হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলায় পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছে, তবে আলোচনায় থাকা প্রতিনিধি টার্গেট হয়নি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারোলিন লেভিট হামলার ঘটনা ‘দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, কাতারে একতরফাভাবে হামলা চালানো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শান্তি প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেবে না। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ইসরায়েলি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, এবং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে ইসরায়েলের উদ্যোগে চালানো অভিযান।
নিউইয়র্কে বসবাসরত নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দোহায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস কাতারে থাকা সব আমেরিকান নাগরিককে নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যদিও বর্তমানে শহরে কোনো সরাসরি হুমকি নেই, তবুও পুলিশ এবং প্রশাসন নাগরিকদের সচেতন থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের পরিবর্তন নিউইয়র্কের মতো বড় শহরে নিরাপত্তা নীতিকে প্রভাবিত করছে। কাতারে হামলার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা নিঃসন্দেহে জরুরি। নিউইয়র্কের মতো বহু সংস্কৃতি ও জাতিগোষ্ঠীর মিলিত শহরে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। শহরবাসীকে নিরাপদ রাখতে পুলিশি নজরদারি, ফেডারেল সহযোগিতা এবং সতর্কতার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
নাগরিকদের জন্য এই পরিস্থিতি একটি সচেতন হওয়ার সময়, যেখানে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা এবং জরুরি পদক্ষেপে প্রস্তুত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে এমন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও ঘনঘন হতে পারে।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন