https://www.prothomalony.com/
14389
business
শ্রীমঙ্গল উপজেলার স্টেশন রোড থেকে কালীঘাট রোড হয়ে কালিকট চা-বাগানে যাওয়ার পথে মধ্যস্থানে ফুলছড়া চা-বাগানের রাবার বাগানের দৃশ্য।
বাংলাদেশে রাবার চাষ একসময় ছিল অপ্রচলিত। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বন-উৎপাদনশিল্পে রূপ নিয়েছে। দেশের চা-বাগান ও পাহাড়ি এলাকায় রাবার উৎপাদনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বনজ সম্পদের টেকসই ব্যবহার শুধু জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশ রক্ষায়ও ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশে রাবার চাষ শুরু হয় ১৯৫২ সালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পরীক্ষামূলকভাবে রাবার গাছ রোপণের মাধ্যমে। এরপর ১৯৫৭ সালে শ্রীলঙ্কা থেকে আনা হেভিয়া ব্রাজিলিয়েনসিস জাতের বীজ থেকে চারা উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিতভাবে চাষ শুরু হয়।
১৯৮০ সালের দিকে বন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ফরেস্ট ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (বিএফআইডিসি) ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উদ্যোগে রাবার চাষের বিস্তার ঘটে। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল অঞ্চলে বড় আকারে রাবার উৎপাদন হচ্ছে।
চা-বাগানের পার্শ্ববর্তী উঁচু জমি, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান—এছাড়া সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় রাবার চাষ হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে প্রায় ১ লাখ হেক্টর জমি রাবার চাষের উপযোগী। অনুকূল জলবায়ু ও মাটির গুণাগুণ, পাহাড়ি জমি ও চা-বাগানের পার্শ্ববর্তী এলাকা ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রাবার রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। দুধ-রাবার থেকে তৈরি গ্লাভস, টায়ার, জুতা, চিকিৎসা সামগ্রীসহ নানা শিল্পপণ্যের কাঁচামাল সরবরাহ করা যায়।
বিএফআইডিসি ও প্রায় ৫০০টি বেসরকারি বাগান মিলে দেশে বছরে প্রায় ৪০–৫০ হাজার টন ল্যাটেক্স উৎপাদিত হয়। এতে দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে মেটানো সম্ভব হচ্ছে। প্রক্রিয়াজাত ও বিপণন ব্যবস্থায়ও ইতিবাচক উন্নয়ন হয়েছে।
তবে এই শিল্পের উন্নয়নে কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে—
আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতা
বিনিয়োগ ঘাটতি
প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার স্বল্পতা
প্রশিক্ষিত শ্রমিক ও আধুনিক প্রযুক্তির অভাব
রপ্তানি খাতে নীতিগত জটিলতা
জলবায়ু পরিবর্তন ও রোগবালাইয়ের ঝুঁকি
সরকারি ভর্তুকি ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, রাবারভিত্তিক শিল্প স্থাপন এবং জাতীয় নীতিমালায় রাবারকে কৌশলগত খাত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাবার শিল্প বাংলাদেশে বনজ অর্থনীতির এক সম্ভাবনাময় খাত। সঠিক পরিকল্পনা, গবেষণা ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই শিল্প জাতীয় আয়ের নতুন দুয়ার খুলে দিতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চল ও চা-বাগানঘেরা উঁচু জমি ব্যবহার করে রাবার চাষকে আরও সম্প্রসারিত ও লাভজনক করার এখনই সময়।
বাণিজ্য থেকে আরো পড়ুন