https://www.prothomalony.com/
12610
search
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৫ ১০:৩৬
'পিজ্জা এন্ড পোয়েট্রি'র 'ভার্চ্যুয়াল' আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গত বুধবার ২৬ ফেব্রুয়ারি। এই আলোচনায় ছিলেন সুমন শামসুদ্দিন, ফরিদা ইয়াসমীন, সোহানা নাজনীন, কুলসুম আক্তার সুমী, শামসুন ফৌজিয়া এবং এইচ বি রিতা। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। ভাষা শহীদদের স্মরণে তারা প্রথমেই কবিতা পাঠ করেন। সেই সাথে প্রবাসে বাংলা ভাষা ও শিল্পসাহিত্যের চর্চা, বাংলা ভাষার প্রচার প্রসারের গুরুত্ব, ৫২ র ভাষা আন্দোলন, পরবর্তী প্রজন্মকে বাংলা ভাষার চর্চায় উদ্বুদ্ধ করার প্রচেষ্টা সহ বাংলাদেশের শিক্ষানীতির কার্যক্রমে প্রমিত ভাষা এবং উচ্চারণ শিক্ষার গুরুত্ব- ইত্যাদি বিষয়ের উপর আলেকপাত করেন তারা।
ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরু হয় কবিতা পাঠ পর্ব। সুমন শামসুদ্দিন পাঠ করেন কবি, সাংবাদিক এবং ভাষা সৈনিক মাহবুব উল আলম চৌধুরীর একুশের প্রথম কবিতা 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি।' শামসুন ফৌজিয়া পাঠ করেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ এর 'একুশের কবিতা'টি। ফরিদা ইয়াসমীন পাঠ করেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, নাট্যকার, গবেষক ও অধ্যাপক আলাউদ্দিন আল আজাদ এর 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি। সোহানা নাজনীন পাঠ করেন কবি আহসান জামান এর 'একুশ থাকুক' এবং কবি এইচ বি রিতার 'ভাষা রিমিক্স' -দুটো কবিতা। কুলসুম আক্তার সুমী স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন, 'বাংলা আমার স্বপ্নের আধার।'
'পিজ্জা এন্ড পোয়েট্রি'-'ভার্চ্যুয়াল' আলোচনায় শুরুতেই এইচ বি রিতা এই নামকরণ প্রসঙ্গে বলেন, 'পিজ্জা এন্ড পোয়েট্টি'- নামটা অদ্ভুত হলেও এর পেছনে একটা গল্প রয়েছে। গত বছর বেসাইডের এক পিজ্জা রেস্তোরাঁয় বসে আমরা যে আড্ডার সূচনা করেছিলাম, আজ সেটাই ভার্চুয়াল পরিসরে নতুন রূপ নিয়ে ফিরে এসেছে। 'পিজ্জা এন্ড পোয়েট্রি’—শুধু পিজ্জার স্বাদ নয়, আমাদের লেখালেখির আনন্দও ভাগ করে নেওয়ার এক ছোট্ট আয়োজন।'
সুমন শামসুদ্দিন বলেন, 'তিরিশের দশকের থেকে শুরু করে পুরনো ইতিহাস ঘটলে দেখা যায়, অনেক কবি সাহিত্যিকরাই সাহিত্য আড্ডা করতেন। আমার বাবা কবি ছিলেন, মনে আছে ছোটবেলা তারা কায়কোবাদ সাহিত্য মজলিস নামে একটা আড্ডা করতেন। কয়েকজন মিলে ছোট পরিসরের এই সাহিত্য আলোচনা একসময় বড়ো পরিসরে চলে যায়। আমি আশা করি, আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াসও সফল হবে।'
ছোটবেলা শহীদ মিনারে যাবার অভিজ্ঞতা তোলে ধরে শামসুন ফৌজিয়া বলেন, 'ছোটবেলা যখন স্কুলে পড়তাম, আমাদের গ্রামের এলাকায় শহীদ মিনার তখন গড়ে উঠেনি।
কাঠের বাক্স দিয়ে তখন স্যারেরা একটা কালো কাপড়ে ঢেকে তিনটা স্তম্ভের মতো করে সেটাকে শহীদ মিনারের আকৃতি দিতেন। আমরা সেখানে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে প্রভাব ফেরিতে যেতাম।কলেজে উঠার পরও গিয়েছি। প্রাইমারি স্কুলে কর্মজীবন শুরু হওয়ার পর সব শিক্ষকরা মিলে শিক্ষা অফিসে চলে যেতাম, আমাদের স্কুলটা ছিল শিক্ষা অফিসের কাছাকাছি, সেখান থেকে আমরা শহীদ মিনারে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতাম। সে অনুভূতি ছিল অন্যরকম।'
প্রবাসে শত সহস্র বাঙালির শিল্প-সংস্কৃত্যের চর্চা অব্যাহত রাখার কারণ বা উদ্দেশ্য নিয়ে ফরিদা ইয়াসমীন বলেন, 'এক কথায় বলকে গেলে এটি আমাদের প্রাণের টান। আমাদের দেশের প্রতি, বাংলা ভাষার প্রতি যে টান, যে ভাষা আমাদের প্রাণের উৎস, আমাদের জীবনের উৎস, আনন্দের উৎস, সে ভাষার প্রতি প্রাণের টানেই আমরা প্রবাসে শিল্পসাহিত্যকে লালন করে চলেছি। আরো একটা কারণ হল, আমাদের সবার মনেই দেশ ছেড়ে আসার একটা দুঃখবোধ থাকে। মনে হয় যেন অনেক কিছুর থাকার পরও কিছু একটা নাই। তখন মনে হয় যে আমাদের ভাষাটাকে চর্চার মাধ্যমে লালন করে একত্রে সবাই মিলে আমাদের প্রজন্মের কাছে একে জীবন্ত করে রাখি। এছাড়াও কমিউনিটির মানুষগুলোর সাথে দেখা হওয়া, কথা বলা, নিজেদের পরিমন্ডলটাকে আরো সমৃদ্ধ করা, এসব শিল্পসাহিত্য চর্চার মাধ্যমেই আমরা করার সুযোগ পাই।'
প্রবাসে বাংলা ভাষা প্রচার এবং প্রসারে কতটুকু গুরুত্ব রাখতে পারছি-এ প্রসঙ্গে সোহানা নাজনীন বলেন, 'প্রবাসীদের কাছে বাংলা ভাষার যে অকুণ্ঠ আগ্রহ তা একটু ভিন্নভাবে পরিলক্ষিত হয়। কারণ আমরা জন্মভূমি ছেড়ে বাইরে থাকি যেখানে ভিন্ন ভিন্ন ভাষা রয়েছে। প্রবাসে আমরা সব সময় বাংলাদেশের মত একটা পরিবেশ চাই এবং যখন সেটা পেতাম না তখন কষ্ট হতো। যারফলে বাংলা ভাষাকে জ্বালিয়ে রাখার দাযিত্ব আমাদের সবাইকে নিতে হয়েছিল। বিদেশে কাজ বা মূলধারার সঙ্গে মিশতে গিয়ে ইংরেজি ভাষা শেখা প্রয়োজনীয় হলেও, বাংলা ভাষাকে জীবিত রাখা এবং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে এই ভাষাকে সঞ্চালিত করা আমাদেরই দায়িত্ব। বর্তমানে আমাদের ভাষা, শিল্প ও সাহিত্যের চর্চা আগের চেয়ে অনেক বেশি হচ্ছে, যা ২৬ বছর আগে এখানে এসে তেমন দেখতে পাইনি। এখন আমাদের সন্তানরা ১৬ ডিসেম্বর, ২১ ফেব্রুয়ারির মতো বিশেষ দিনগুলো সম্পর্কে জানে; তারা বইমেলা ও প্রভাতফেরি দেখে। আমরা অনেকেই চেষ্টা করছি। ভাষাকে কোনো দিবস হিসাবে সীমাবদ্ধ না করে পারিবারিক ভাবে প্রাত্যহিক জীবনে এটা চালু রাখা দরকার। যদি আমরা বাচ্চাদের সাথে বাংলায় কথা বলি, তাদেরকে বলতে উৎসাহিত করি, সামাজিক আয়োজনে অংশগ্রহণ করাতে পারি, তবে এটা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের ভাষাগত বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অবশ্যয়ই জোর করে চাপিয়ে দিয়ে নয়।'
৫২ র ভাষা ও স্বাধীনতা যুদ্ধে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব নিয়ে সুমন শামসুদ্দিন বলেন, '৪৭-এ দেশ ভাগের সময় পাকিস্তানের অংশ হিসাবে বাংলাদেশকে তারা পূর্ব পাকিস্তান হিসাবে তাদের অংশ করে দিল। তখন পাকিস্তানের প্রশাসন বাংলা ভাষাভাষীদের উপর উর্দুকে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করল। পাকিস্তানের স্কুল কলেজ সামরিক বাহিনী প্রত্যেক অফিস আদালতে যেখানে উর্দু ভাষা আছে, কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানেও চাপিয়ে দেয়া হল, রাষ্ট্রভাষা উর্দু করার চেষ্টা করল। যেখানে সমগ্র পূর্ব পশ্চিম পাকিস্তানের জনসংখ্যার ৫৪ ভাগ ছিল বাংলা ভাষাভাষী, সেখানে উর্দু ভাষা চাপিয়ে দিলে তো জাতিগতভাবে আমাদের কষ্ট হবে। আমরা মেনে নিতে পারবনা। শুরু হল আন্দোলন। এই ঘোষণার পরে তখনকার আমলের তমদ্দুন মজলিস একটা গোষ্ঠী ছিল, তারা আবুল কাশেমের নেতৃত্বে র্যালি করল। এই শুরু হল ভাষার দাবী। ৪৭ সালের ডিসেম্বরের ৮ তারিখে, যখন তারা জোর করে ঘোষণা দিল রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু, পাকিস্তান তখন মুদ্রার নোট, স্ট্যাম্প, ডাকটিকেট থেকে বাংলা মুছে দিল। তখন বাংলাদেশের মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠল। ডিসেম্বরের ৮ তারিখে, সম্ভবত তখন ঢাকা কলেক ইউনিভার্সির ছাত্র ছাত্রীরা মিলে র্যালি বের করল। শুরু হল ভাষা আন্দোলন, সেটাকে টেনে নিয়ে গেল ৫২-তে। ৫২- তে যখন দাবী উঠল পূর্ব পাকিস্তানের নাম বদলে বাংলাদেশ করতে হবে, সেটা তারা মানল না, তখন আন্দোলন চরম আকার ধারণ করল। আপনারা জানেন ৫২-সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে রাজপথে নেমে আসল সবাই। পুলিশের গুলিতে নিহত হল রফিক, বরকত, সালাম জব্বর। এরপর আরো মারা যান, যদিও পরে তাদের শহীদি মর্যাদা দেয়া হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, পরের দিন শফিক মারা গেল, রাজমিস্ত্রি পুত্র শিশু ওহিউল্লাহ, রিকশাচালক আওয়াল-এরা তো ভাষার জন্যই মিছিলে বের হয়েছিল, স্লেগান দেক বা না দেক, কিন্তু ওহিউল্লাহ ও আওয়ালকে শহীদি মর্যাদা দেয়া হয়নি। এ ব্যর্থতা আমাদের। যাইহোক, যখন বাংলাদেশ নাম করার জন্য আন্দোলন হল, তারা মানল না, এই কিন্তু স্বাধীনতার ডাক দিয়ে ফেলল। বিদ্রোহী চেতনা জাগ্রত হল জাতিগতভাবে, চেতনার মধ্যে, মানুষের মধ্যে বিদ্রোহী ভাব প্রকাশ হল। সেখান থেকেই মূলত স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাক এলো। এরপর ৬৯-এর ছয় দফার দাবীতে প্রথম দাবী ছিল বাংলাদেশ নামকরণ করতে হবে। ভাষা আন্দোলনের চেতনাটাই হচ্ছে স্বাধীনতার মূল ভিত্তি। ভাষা আন্দোলম যদি না হতো তবে আমার জানা নেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক আসতো কিনা। স্বাধীনতার উপর বাংলা ভাষার আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম।'
প্রবাসে পরবর্তী প্রজন্মকে বাংলা ভাষার চর্চায় উদ্বুদ্ধ করার বিষয়ে কুলসুম আক্তার সুমী বলেন, 'প্রজন্মকে চর্চার ব্যাপারে তিনভাবে উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে। প্রথমত, বাচ্চারা অনুকরণের মাধ্যমে শিখে। এদেশের ভাষা ভিন্ন, বাচ্চারা বাইরে ইংলিশটাই শুনে। এক্ষেত্রে তারা বাংলা ভাষার জন্য অনুকরণ করতে পারে বাবা-মা'কে। শুদ্ধ উচ্চারণে ঘরে বাচ্চাদের সাথে বাংলায় কথা বললে তারা শিখবে। দ্বিতীয়, বাচ্চাদের রিওয়ার্ড দেয়া যা হতে পারে প্রশংসা বা সুন্দর একটা হাসি দিয়ে বলা, 'তুমি সুন্দর বাংলা বলেছো', কিংবা এর জন্য বাইরে নিয়ে যাওয়া, পছন্দের কিছু কিনে দেয়া। এটা তাদেরকে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতির প্রতি আরো উৎসাহিত করবে। তারা যেভাবেই বলুক, নাচ দেখাক, গান বা ছড়া বলুক, তাদেরকে প্রশংসা করলে বা রিওয়ার্ড দিলে তারা আরো উৎসাহিত হবে। অন্যান্য ভাষার সাথে বাংলা ভাষা শেখা মানে একাধিক ভাষা জানার গুণ যা নিয়ে গর্ব করা যায়। জোর করার চাইতে রিওয়ার্ড বা প্রশংসা এক্ষেত্রে কার্যকরী। তৃতীয়, কোনো ইংরেজি শব্দের বাংলাটা না বলতে পারলে, আমাদের দায়িত্ব শব্দ বাক্যকে ব্যাখ্যা করে বোঝানো যেন বাচ্চারা বুঝতে পারে শব্দটা কি এবং তার যথাযথ অর্থ মস্তিষ্কে ধারণ করতে পারে। এভাবেই বাংলা ভাষাকে আমরা প্রজন্মের মধ্যে প্রসারিত করতে পারি।'
সবশেষে, বাংলাদেশের শিক্ষানীতির কার্যক্রমে প্রমিত ভাষা এবং উচ্চারণ শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে এইচ বি রিতা বলেন, 'প্রমিত ভাষা, বা 'স্ট্যান্ডার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ' এমন একটি ভাষার রূপ যা নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক অঞ্চল বা জনগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত নয়। এটি সাধারণত একটি জাতি বা সমাজের জন্য নির্ধারিত ভাষার মানক রূপ, যা শিক্ষা, সাহিত্য, প্রশাসন এবং যোগাযোগে ব্যবহৃত হয়।
প্রমিত ভাষার মূল উদ্দেশ্য হলো জাতীয় ও সামাজিক পর্যায়ে ভাষিক সেতুবন্ধন তৈরি করা, যাতে সমাজের সব স্তরের মানুষ সহজে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এটি শুধু ভাষাগত একীকরণ নয়, বরং সংস্কৃতি, চিন্তাধারা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াকে সুগম করে। আবার প্রমিত ভাষার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা এটি সাধারণ ভাষার থেকে পৃথক করে: যেমন-নির্দিষ্ট ব্যাকরণ যা নির্ধারিত কাঠামো অনুসরণ করে এবং ভাষার শৃঙ্খলা বজায় রাখে। নির্দিষ্ট বানান ও উচ্চারণ বিধি, এটি প্রমিত ভাষায় বানান এবং উচ্চারণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মানে, যাতে ভাষার বিশুদ্ধতা বজায় থাকে। সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা-এটি সমাজের সর্বস্তরে ব্যবহারের জন্য স্বীকৃত, যা শিক্ষা ও যোগাযোগে সুবিধা তৈরি করে। এবং রক্ষণশীলতা ও স্থায়িত্ব-সময়ের সাথে ভাষার পরিবর্তন স্বাভাবিক হলেও, প্রমিত ভাষার গঠন ও নিয়ম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে, যাতে ভাষার মান বজায় থাকে। ১৯শ শতকের শুরুতে, বাঙালি সাহিত্যের উত্থান এবং সংস্কৃতির বিকাশের সাথে সাথে বাংলা ভাষা প্রমিত রূপ ধারণ করতে শুরু করে। বাংলা ভাষার প্রমিত রূপের বিকাশ প্রাথমিকভাবে সাহিত্য এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমেই হয়েছে।
বাংলা ভাষার প্রমিত রূপের মধ্যে, বানান এবং শব্দচয়ন একটা বিশেষ গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের শিক্ষানীতির অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে কিংবা হওয়া উচিত-শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা উন্নত করা, যাতে তারা সঠিকভাবে চিন্তা প্রকাশ করতে পারে এবং জ্ঞান অর্জনে পারদর্শী হয়। এই প্রসঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় প্রমিত বাংলা ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষাক্ষেত্রে, প্রমিত ভাষার চর্চা শিক্ষার্থীদের ভাব প্রকাশে স্বচ্ছতা আনে। বিশেষ করে একাধিক আঞ্চলিক ভাষাভাষীর মধ্যে সঠিক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে প্রমিত বাংলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি সংস্কৃতি ও পরিচয়ের বাহক। প্রমিত বাংলা চর্চার মাধ্যমে ভাষার বিশুদ্ধতা ও শুদ্ধ উচ্চারণ সংরক্ষণ করা যায়, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভাষার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।
একজন শিক্ষক এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, কারণ শিক্ষার্থীরা তার ভাষাগত ব্যবহার থেকেই- শিখে থাকে। যে বিষয়ই পড়ানো হোক না কেন, শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে প্রমিত বাংলার অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আদর্শ তৈরি করেন। শিক্ষকের ভাষাগত সচেতনতা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ভাষাগত মান গড়ে তোলে, যা শিক্ষার্থীদের শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা, ব্যাকরণগত দক্ষতা অর্জন এবং উচ্চারণ শুদ্ধ করার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখে। সঠিক উচ্চারণ ও প্রমিত ভাষার জ্ঞান একজন শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে।এভাবে শিক্ষার্থীদের মাঝে কাঙ্ক্ষিত ভাষা দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া, শ্রেণিকক্ষে প্রমিত বাংলার চর্চা শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের কার্যকর যোগাযোগের সক্ষমতা ও সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় গড়ে তুলতে সহায়তা করে। তাই একজন শিক্ষককে শুধু পাঠদানে নয়, ভাষার শুদ্ধ ব্যবহারে যত্নশীল থাকতে হয়, যা শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সমাজের প্রত্যাশিত একটি গুণ।'
কবিতা পাঠ ও বাংলা ভাষার গুরুত্ব নিয়ে একাধিক মতামত জানানোর মাধ্যমেই সেদিনের 'পিজ্জা এন্ড পোয়েট্রি' 'ভার্চ্যুয়াল' আলোচনা পর্বটি শেষ হয়।
অনুসন্ধান থেকে আরো পড়ুন