https://www.prothomalony.com/
8564
opinion
ভাষার জন্য, দেশের জন্য নারীদের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' দাবির আন্দোলনে সহযোদ্ধা হয়ে পুরুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন নারীরা। ভাষা আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নারীদের ভূমিকা ছিল অনবদ্য। মিছিল, মিটিং থেকে শুরু করে সবখানেই ছিল নারীর সক্রিয় অবস্থান। বিশেষ করে, আন্দোলনের পোস্টার, ব্যানার, কার্টুন লেখায় নারীদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
পাকিস্তান আর্মি ও পুলিশের তাক করা বন্দুকের নলকে উপেক্ষা করে ভাষার দাবির মিছিলগুলোতে নারীরা ছিলেন সামনের কাতারে। বুকের তাজা রক্ত দিয়ে মাতৃভাষা রক্ষার জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন সালাম, জব্বার, রফিক, শফিকসহ অনেকেই। ভাষা আন্দোলনে মেয়েদের দৃশ্যমান ভূমিকাগুলোকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে একে চরম অবহেলা বা অগ্রাহ্য করা হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নারীদের অনবদ্য ভূমিকা ছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা রাতে লুকিয়ে ভাষার দাবির বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত পোস্টার এঁকেছেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে নারীরাই পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙেন। আহতদের চিকিৎসায় বিশেষ ভূমিকা রাখেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রীরা। আহতদের চিকিৎসা সাহায্যের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে মেয়েরা চাঁদা তুলে আনেন। পুলিশের তাড়া খাওয়া ছাত্রদের নিজেদের কাছে লুকিয়ে রাখেন। আন্দোলনের খরচ চালানোর জন্য অনেক গৃহিণী অলঙ্কার খুলে দেন। শুধু তাই নয়, ভাষা আন্দোলনে জড়িত হওয়ায় অনেক নারীকে জেলও খাটতে হয়েছে। কেউ হারিয়েছেন সংসার। কেউ আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে হয়েছেন বহিষ্কৃত। সে সময়য়র ঘটনা নিয়ে আজাদ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ, ভাষাসৈনিকদের স্মৃতিচারণা এবং দলিল ও বইতে এর প্রমাণ রয়েছে।
.jpg)
১৯৪৭-এ করাচিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিক্ষা সম্মেলনের একটি ঘোষণাপত্রে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সুপারিশ করা হয়। তখন থেকে ভাষা আন্দোলনের দানা বাঁধে। বাংলাভাষার দাবিকে জোরদার করতে ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘তমুদ্দিন মজলিস’ নামক একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। অন্দরমহলে অবস্থান করেও আবুল কাসেমের স্ত্রী রাহেলা, বোন রহিমা এবং রাহেলার ভাইয়ের স্ত্রী রোকেয়া ভাষা আন্দোলনের জন্য কাজ করে গেছেন। ১৯৫২ সালের ২৩ জানুয়ারি রাত ৪টার দিকে আবুল কাশেমের বাসা ঘিরে ফেলে পাকিস্তান পুলিশ। ভিতরে আবুল কাশেম ও আব্দুল গফুরসহ অন্যরা ভাষা আন্দোলনের মুখপাত্র ‘সৈনিক’ পত্রিকা প্রকাশের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। পুলিশ দরজায় বারবার আঘাত করলে মিসেস রাহেলা কাশেম গভীর রাতে পারিবারিক বাসায় পুলিশ প্রবেশের চেষ্টার বিরুদ্ধে পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘ তর্কবিতর্ক জড়িয়ে পড়েন। এ সুযোগে আবুল কাশেমসহ অন্যরা পেছনের দেয়াল টপকে পালাতে সক্ষম হন। এরপর পুলিশ ভিতরে ঢুকে কাউকে দেখতে না পেয়ে চলে যায়। ভাষা আন্দোলন শুরুর দিকে অন্দরমহলে নারীর এই অবদান আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচিগুলো এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্তে ছাত্রদের পাশাপাশি ছাত্রীরাও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। রাজপথের সেই মিছিলে সামনের সারিতে অবস্থান ছিল ছাত্রীদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন কলেজের ছাত্রীরা আন্দোলনকে চাঙা করতে অর্থ সংগ্রহ ও রাতভর পোস্টার লেখার কাজ করেন। এদের মধ্যে রওশন আরা বাচ্চু, সুফিয়া আহমদ, হালিমা খাতুন, সারা তৈফুর, শামসুন্নাহার আহসান, শরীফা খাতুন, শামসুন নাহার প্রমুখ অন্যতম। সেই সময়ে পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেলে অনেক ছাত্রী আহত হয়। পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার মূল কাজটা রওশন আরা বাচ্চুসহ আরও কয়েকজন ছাত্রীর দ্বারাই সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে ১৯৫২ সালে সুফিয়া আহমদ তুরস্কে পাকিস্তান সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদলের ছাত্রী সদস্য হিসেবে পূর্ব-পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন। সম্ভবত তিনিই প্রথম নারী, যিনি দুইবার জাতিসংঘে কোনো দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
ঢাকার বাইরে নারীরা ভাষা আন্দোলনে একাত্ম হতে গিয়ে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন নারায়ণগঞ্জের মমতাজ বেগম। নারায়ণগঞ্জের মরগান হাইস্কুলে হেড মিস্ট্রেস মমতাজ বেগম স্থানীয়ভাবে রাষ্ট্রভাষা বাংলার স্বপক্ষে নেতৃত্ব দেন। কারানির্যাতনের একপর্যায়ে সরকারের চাপে স্বামী তাকে তালাক দেন। মমতাজ বেগমের ছাত্রী ইলা বকশী, বেনু ধর ও শাবানীর মতো কিশোরীকেও পুলিশ সেদিন গ্রেপ্তার করে। সিলেটের কুলাউড়ার সালেহা বেগম ময়মনসিংহ মুসলিম গার্লস স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী থাকাকালীন ভাষা শহীদদের স্মরণে স্কুলে কালো পতাকা উত্তোলণ করেন। এই অপরাধে সেখানকার জেলা প্রশাসকের আদেশে স্কুল থেকে তাঁকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। তখন সালেহা বেগমের পক্ষে আর পড়ালেখা করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। চট্টগ্রাম ও সিলেটে ছাত্রীরা আন্দোলনে জোড়ালো ভূমিকা রাখেন। এদের মধ্যে স্কুলের কোমলমতি কিশোরীদের অংশগ্রহণই ছিল সবচেয়ে বেশি।
.png)
ভাষা সৈনিক চেমন আরা বলেছেন ভাষা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে যারা তমদ্দুন মজলিসের সাথে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন আনোয়ারা খাতুন। তিনি ছিলেন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য এবং বায়ান্নর ভাষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সদস্য। গাইবান্ধার বেগম দৌলতুন্নেছা ও অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনিও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন ১৯৫৪ সালে। নাদেরা বেগম ও লিলি হকের নামও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে। হামিদা খাতুন, নুরজাহান মুরশিদ, আফসারী খানম, রানু মুখার্জী প্রমুখ মহিলারাও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংসতার প্রতিবাদে অভয়দাশ লেনে এক সভায় নেতৃত্ব দেন বেগম সুফিয়া কামাল ও নুরজাহান মুরশিদ। ধর্মঘট উপলক্ষে প্রচুর পোস্টার ও ব্যানার লেখার দায়িত্ব পালন করেন ড.শাফিয়া খাতুন ও নাদিরা চৌধুরী। ১৯৪৭ সালে আজাদ পত্রিকায় বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে একটি লেখা প্রকাশ হলে যশোরের হামিদা রহমান একটি নিবন্ধ লেখেন। পরবর্তীতে তিনি রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক হয়েছিলেন। এ সময় সুফিয়া খাতুন, হালিমা খাতুন নামে দুজন মহিলার নাম শোনা যায়। যারা ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমি রেখেছিলেন। সিলেটের মেয়েরাও ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল এবং তৎকালীন মূখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিনের নিকট প্রতিনিধিও পাঠায়। এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সিলেটের মুসলিম লীগের নেত্রী জোবেদা খাতুন চৌধুরী। অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন সাহারা বানু, সৈয়দা লুৎফুন্নেছা, রাবেয়া বেগম প্রমুখ। বিল্পবের দেশ, বিদ্রোহের দেশ চট্টগ্রাম। যে কোনো সময়ে দেশ ও জাতির প্রয়োজনে চট্টগ্রামের ভূমিকা অগ্রগামী। ভাষা আন্দোলনেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। চট্টগ্রামেও বেশ কিছু কলেজছাত্রী এবং সে সময়ের ভদ্র মহিলারাও ভাষা আন্দোলনেও যুক্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম তোহফাতুন্নেছা আজিম, সৈয়দা হালিমা, সুলতানা বেগম, নুরুন্নাহার জহুর, আইনুনু নাহার, আনোয়ারা মাহফুজ, তালেয়া রহমান, প্রতিভা মুৎসুদ্দি। খুলনাতেও কাজ করেছেন তমদ্দুন মজলিসের কর্মী আনোয়ারা বেগম, সাজেদা আলী এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজপড়ুয়া ছাত্রীরা। সাতক্ষীরায় সক্রিয়ভাবে এ আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন গুলআরা বেগম ও সুলতানা চৌধুরী। টাঙ্গাইলে আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন নুরুন্নাহার বেলী, রওশন আরা শরীফ। রংপুরে এই সময় মহিলারা রাষ্ট্র ভাষার দাবিতে মিছিলে গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছিলেন। তাঁরা হচ্ছেন নিলুফা আহমেদ, বেগম মালেকা আশরাফ, আফতাবুন্নেছা প্রমুখ। ভাষা আন্দোলনে রাজশাহীতে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন ড. জাহানারা বেগম বেনু, মনোয়ারা বেগম বেনু, ডা. মহসিনা বেগম, ফিরোজা বেগম ফুনু, হাফিজা বেগম টুকু, হাসিনা বেগম ডলি, রওশন আরা, খুরশিদা বানু খুকু, আখতার বানু প্রমুখ।
২১ ফেব্রুয়ারিতে নারী ভাষা সৈনিকরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙ্গে দেয়ার মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের দমাতে পুলিশের জারি করা ১৪৪ ধারা প্রথমেই ভেঙ্গে দিতে সক্ষম হন। পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার মূল কাজটা রওশন আরা বাচ্চুসহ আরো কয়েকজন ছাত্রীরা দ্বারাই হয়। কারণ ১০ জন করে বের হওয়া প্রথম দুটি দলের অনেকেই গ্রেপ্তার হন। ছাত্ররা ব্যারিকেডের ওপর ও নিচ দিয়ে লাফিয়ে চলে যায়। পরে তৃতীয় দলে বেরিয়ে ব্যারিকেড ধরে টানাটানির কাজ শুরু করেন ছাত্রীরাই। সেদিন পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেলে অনেক ছাত্রী আহত হন। এরমধ্যে রওশন আরা বাচ্চু, সারা তৈফুর, বোরখা শামসুন, সুফিয়া ইব্রাহীম, সুরাইয়া ডলি ও সুরাইয়া হাকিম ছিলেন।
ভাষা আন্দোলনে নারীর অংশগ্রণে সবচেয়ে বড় ক্ষতির দিন হলো ১৯৫৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। সেদিন ১৪৪ ধারা ভাঙ্গা দায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ জন ছাত্রী গ্রেপ্তার হন। তাঁদের মধ্যে লায়লা নূর, প্রতিভা মুৎসুদ্দি, রওশন আরা বেনু, ফরিদা বারি, জহরত আরা, কামরুন নাহার লাইলি, হোসনে আরা, ফরিদা আনোয়ার ও তালেয়া রহমান অন্যতম। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের প্রক্টরের অনুমতি নিয়ে এবং প্রক্টরের সামনে পুরুষের সঙ্গে কথা বলতে হতো। গ্রামের নারীরা তো ছিল পর্দা প্রথার আড়ালে বন্দি। এমন সময় সামাজিক, ধর্মীয়, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় বাধা-বিপত্তি ঠেলে বাংলাভাষার দাবিতে নারীদের রাজপথে নেমে আসা কঠিন ছিলো। তারপরেও আন্দোলনে অংশ নিতে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটাই নিয়েছে নারীরা। ভাষা আন্দোলনে নারীদের ছিল প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ অবদান, যা তাদের সাহসিকতাকে আরও সমৃদ্ধ করে। পরবর্তী সময়ে সেই চেতনা ধারণ করেই তাঁরা এগিয়ে যান, বাংলাদেশের মানচিত্রে লাল-সবুজের পতাকা আঁকতে।
.jpg)
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নকশায় ছিলেন চট্টগ্রামেরই এক সৃজনশীল নারী ভাস্কর নভেরা আহমেদ। তিনি শিল্পী হামিদুর রহমানের সাথে শহীদ মিনারের নকশা তৈরি করতে নিরলস শ্রম দিয়েছেন। অথচ শহীদ মিনারের নকশা নির্মানের কথা বলতে গিয়ে যে ভাবে হামিদুর রহমানের কথা বলা হয় সেভাবে নভেরা আহমেদের কথা বলা হয় না।
ভাষা আন্দোলনে নারীরা সক্রিয়ভাবে মিছিল প্রতিবাদ সভা ও সাংগঠনিক কাজ ছাড়াও তাঁরা তহবিল গঠন, চাঁদা সংগ্রহ এবং পোস্টার তৈরি করে বিক্রি করেছেন। পুরুষের পাশাপাশি বক্তব্য রেখেছেন গণ জমায়েতে, নেতৃত্ব দিয়েছেন মিছিলে-সহ্য করেছেন পুলিশী নির্যাতনের সকল প্রক্রিয়া। কারাবরণ, হুলিয়া ভোগ, সাময়িক আত্মগোপনকারীদের আশ্রয় দিয়ে একাত্ব প্রকাশ করেছেন।
ইতিহাস বলে, প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণের খরচ যোগার করতে অনেক মেয়ে গায়ের অলংকার খুলে দিয়েছেন। কিন্তু নারীর সে সব অবদান ইতিহাসে উঠে আসে না।
বলা প্রাসঙ্গিক, ভাষা আন্দোলনে সুপ্তছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ, আর এ আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী নারীদের পূর্ণ তালিকা পাওয়া যায়নি আজও। নানা রচনায় বা ইতিহাসে নারীরা উপেক্ষিত হয়েছেন বারে বারে। আর এভাবেই ইতিহাসে নারীদের অবদান উপেক্ষিত, বিস্মৃতির আড়ালেই রয়ে গেছে।
ভাষা আন্দোলনে নারীদের অবদান ইতিহাসে যোগ্য স্বীকৃতি পায়নি। ভাষা আন্দোলনে মেয়েদের দৃশ্যমান ভুমিকাগুলোকে বিগত ৭২ বছরেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়া হয়নি, চরম অবহেলা বা অগ্রাহ্য করা হয়েছে। নারী ভাষা সংগ্রামীদের নাম উচ্চারিতই হয় না বললেই চলে। ভাষা সংগ্রামের ইতিহাস সঠিকভাবে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এখনি আমাদের উদ্যোগী হতে হবে নতুবা ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।
নারী ভাষাসৈনিকদের অনেকেরই জীবনাবসান ঘটেছে নীরবে। ভাষা আন্দোলনে নারী সমাজের অবদানের কথা ভুলে থাকা আমাদের ‘আজন্ম পাপ’। দিন গত হয়েছে অনেক, তবু তৈরি হউক প্রায়শ্চিত্তের পথ। কালো কালির অক্ষরে ভরে উঠুক পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা। স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে তৃপ্ত হোক আত্মা।
অভিমত থেকে আরো পড়ুন