https://www.prothomalony.com/

18038

north-america

উত্তর আমেরিকা

রোবট কুকুর ব্যবহার করবে আইস

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ ১২:১৫

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা—আইস—এখন রোবট-কুকুর কিনতে চলেছে। এর জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে প্রায় বিশ লাখ ডলার।

ওয়াশিংটনের একটি সরকারি অর্থায়ন নথি অনুযায়ী, আইস অভিবাসন প্রয়োগ অভিযানে ব্যবহারের জন্য কুকুরসদৃশ রোবট কিনতে বিশ লাখ ডলার পর্যন্ত ব্যয় করার পরিকল্পনা করছে। এই রোবটগুলোতে ক্যামেরা ও রাসায়নিক শনাক্তকারী সেন্সর সংযুক্ত থাকবে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত হবে যেখানে সরাসরি কর্মকর্তাদের যাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে এই ব্যয়-পরিকল্পনা বাস্তবেই এগোচ্ছে।

যে যন্ত্রটির কথা বলা হচ্ছে, তা বস্টন ডাইনামিক্স কোম্পানির তৈরি "স্পট" রোবট। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক অর্থায়ন নথিতে বলা হয়েছে, সংস্থাটি এই রোবট এবং তার সহায়ক সরঞ্জামের জন্য দশ থেকে বিশ লাখ ডলার খরচ করতে পারে। নথিতে ব্যবহৃত ভাষাটি চমৎকার আমলাতান্ত্রিক কাব্যিকতায় ভরা—এই যন্ত্র নাকি "পরিদর্শন, পরিস্থিতিগত সচেতনতা এবং ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য দূর-নিয়ন্ত্রিত রোবোটিক সক্ষমতা" জোগাবে, এমন পরিবেশে যা কর্মীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

স্বস্তির কথা এটুকুই যে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেছেন, এই রোবটগুলো গ্রেপ্তারের কাজে ব্যবহৃত হবে না। রোবটগুলোর চারপাশে তিনশ ষাট ডিগ্রি ক্যামেরা লাগানো, দরজা খুলতে পারে, তবে সাধারণ পুলিশ-কুকুরের মতো আক্রমণ করতে পারে না—যদিও এদের হাত সম্প্রসারণযোগ্য। এই প্রযুক্তি নতুন নয়। লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এটি ইতিমধ্যে ব্যবহার করছে, এমনকি ২০২৪ সালে ট্রাম্পের মার-আ-লাগো বাসভবন পাহারা দিতে সিক্রেট সার্ভিসও এই রোবট-কুকুর ব্যবহার করেছিল।

 এই ঘোষণা একা আসেনি। এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই আইস বিতর্কিতভাবে অভিবাসন অভিযানে ব্যবহারের জন্য কুড়ি লাখ ডলার মূল্যের বৈদ্যুতিক শক-দস্তানা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। রোবট-কুকুর আর শক-দস্তানা—এই দুই প্রযুক্তি পাশাপাশি রাখলে যে চিত্রটি ফুটে ওঠে,যা অভিবাসন প্রয়োগের ভাষাটাই বদলে যাচ্ছে। মানুষের হাত থেকে সরে গিয়ে যন্ত্রের হাতিয়ারে।

বস্টন ডাইনামিক্স অবশ্য নিজেদের নীতিবিবৃতিতে বহু আগেই জানিয়ে রেখেছে যে তারা তাদের রোবট অস্ত্র বা স্বয়ংক্রিয় লক্ষ্যভেদী ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেয় না। কিন্তু প্রযুক্তি যতই "নিরপেক্ষ" ঘোষিত হোক, তার প্রয়োগের প্রেক্ষাপট নির্ধারণ করে তার প্রকৃত অর্থ। একটি রোবট-কুকুর যখন কোনো গৃহে ঢোকার আগে "নিরাপদ কি না" যাচাই করতে পাঠানো হয়, তখন প্রশ্ন ওঠে—কার নিরাপত্তা রক্ষা করা হচ্ছে, আর কার উদ্বেগ উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী সমাজ, বিশেষত যাঁরা প্রতিদিন আইসের অভিযানের ছায়ায় বাস করেন, তাঁদের কাছে খবরটি নিছক প্রযুক্তি-সংবাদ নয়। যন্ত্র যতই "অস্ত্র নয়" বলে ঘোষিত হোক, নজরদারির যন্ত্র হিসেবে তার উপস্থিতিই এক নতুন মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করে।  ইতিহাস সাক্ষী, যা একদিন কেবল "পরিস্থিতিগত সচেতনতার" জন্য কেনা হয়, কাল তা-ই হয়ে ওঠে নিয়মিত অভিযানের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন