https://www.prothomalony.com/
17720
new-york
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ ০১:৩৮
দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতা ও হৃদরোগে ভোগার পর অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন এস এম বাহারুল ইসলাম রমিজ। গত শনিবার (১৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মরহুমের নামাজে জানাজা নিউইয়র্কের জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের ইমাম ও খতিব মির্জা বেগ। জানাজায় তার আত্মীয়, বন্ধু-বান্ধব এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিচ্ছিলেন। পরবর্তীতে হৃদ্যন্ত্রে জটিলতা ধরা পড়লে তাঁর শরীরে স্টেন্ট প্রতিস্থাপন করা হয়। সর্বশেষ স্ট্রোকের পর দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। নিউইয়র্কে জানাজা শেষে তার লাশ স্বজনদের কাছে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।
মৃত্যুকালে বাহারুল ইসলাম রমিজ স্ত্রী ও চার সন্তান রেখে গেছেন। তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা বর্তমানে ঢাকার উত্তরায় অবস্থান করছেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানাজায় বাহারুল ইসলাম রমিজের কর্মময় জীবন, মানবিক গুণাবলি এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, ডা. মোহাম্মদ এম রহমান, এসেনসিয়াল হোম কেয়ারের সিইও মোহাম্মদ হোসেন ইশতিয়াক এবং জ্যামাইকা ফ্রেন্ডস সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রাসেল। বক্তারা মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

জানাজায় উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির অসংখ্য মানুষ হৃদয়বিদারক পরিবেশে এস এম বাহারুল ইসলাম রমিজকে শেষ বিদায় জানান। অনেকেই তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানান এবং মহান আল্লাহর কাছে তাঁর সকল গুনাহ মাফ করে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করার জন্য দোয়া করেন।
উল্লেখ্য, বাহারুল ইসলাম রমিজ নিউইয়র্কে আসার পর এসেনশিয়াল হোম কেয়ারে কর্মরত ছিলেন। গুরুতর অসুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানেই কর্মরত ছিলেন তিনি। অসুস্থতার সময় চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে তিনি চরম আর্থিক সংকটেও পড়েছিলেন। দীর্ঘদিন কর্মক্ষম না থাকায় তাঁর নিয়মিত আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসা, বাসাভাড়া ও দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করাও পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তাঁর চিকিৎসার জন্য দেশ-বিদেশে অবস্থানরত আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছিল।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন