https://www.prothomalony.com/
17714
new-york
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ ০৪:৫১
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পেতে আবেদনকারীদের জন্য আবারও কঠোর হচ্ছে ‘জননির্ভরতা’ (পাবলিক চার্জ) সংক্রান্ত বিধিমালা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল অভিবাসীদের গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, নতুন বিধিমালায় আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা আরও বিস্তৃতভাবে মূল্যায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি, স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্য অস্থায়ী আর্থিক সহায়তা, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ভাড়ার সহায়তাসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।
এ ছাড়া আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও গ্রিন কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে বিবেচিত হবে।
নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা জানিয়েছে, নতুন বিধিমালার উদ্দেশ্য হলো স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীরা যেন নিজেদের ভরণপোষণ করতে সক্ষম হন এবং সরকারি সহায়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হন। সংস্থাটির ভাষ্য, এর মাধ্যমে সরকারি সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে এবং করদাতাদের অর্থের ওপর নির্ভরশীলতা নিরুৎসাহিত করা হবে।
নতুন বিধিমালাটি ১৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। ২০ জুলাই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হবে এবং আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রথম ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৮ সালে এই ‘জননির্ভরতা’ বিধিমালা চালু করেছিল। সে সময় অভিবাসী অধিকারকর্মীরা এটিকে ‘সম্পদভিত্তিক পরীক্ষা’ বলে সমালোচনা করেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতির কারণে অনেক অভিবাসী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি সহায়তা নিতে নিরুৎসাহিত হন।
২০২০ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, এই নীতির কারণে অনেক অভিবাসী সরকারি সহায়তা নেওয়া থেকে বিরত থাকলেও, সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অভিবাসীদের মধ্যে এক শতাংশেরও কম মানুষ গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি অযোগ্য হওয়ার ঝুঁকিতে ছিলেন।
পরে বাইডেন প্রশাসন ২০২০ সালে এই বিধিমালা বাতিল করে।
তবে নতুন করে বিধিমালাটি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো। একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে, এই নীতির কারণে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ সরকারি সহায়তা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন। তাদের প্রায় অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, যাদের মধ্যে শিশু এবং মিশ্র অভিবাসী পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন