https://www.prothomalony.com/

15102

new-york

নিউইয়র্ক

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে নতুন লড়াই: নতুন মুখের উত্থান ঘিরে বিতর্ক

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৫:২১

নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশি মহলে এখন আলোচিত বিষয় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি ও তা নিয়ে সৃষ্টি হওয়া তীব্র অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি তালিকায় অনেক নতুন মুখকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা গেছে, যা দলীয় পরিমণ্ডলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অভিজ্ঞ নেতাদের অভিযোগ, অচেনা ও অরাজনৈতিক অনেককে পদে বসানো হয়েছে কোনো যোগ্যতার মূল্যায়ন ছাড়াই। অন্যদিকে তরুণ নেতারা বলছেন, এটি পরিবর্তনেরই প্রতিফলন, যেখানে নতুন প্রজন্ম অবশেষে নেতৃত্বে আসার সুযোগ পাচ্ছে। 

এক তরুণ নেতার ফেসবুক পোস্ট থেকে সূচনা ঘটে এ বিতর্কের। যেখানে তিনি নিজের নিয়োগপত্র প্রকাশ করেন। মুহূর্তেই পোস্টটি ভাইরাল হয়ে দলে শুরু হয় মতবিরোধের ঝড়। কেউ মন্তব্য করেন, “এখন আর ত্যাগ বা অবদান নয়, সম্পর্কই রাজনীতির মাপকাঠি।” প্রবীণ কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শ্রমের স্বীকৃতি না দিয়ে হঠাৎ করে কিছু নামকে পদে বসানো দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। 

দলীয় সূত্র বলছে, ২০২৩ সালের জাতিসংঘ অধিবেশনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের পর কয়েকটি পদ শূন্য থাকায় নতুন নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু কাকে কোথায় দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়েই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। দলের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান অবশ্য অভিযোগগুলো নাকচ করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে তার মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোন প্রকার মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন ছবি আঁকছে। দলীয় সিনিয়র ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে দ্বন্দ্ব এখন প্রায় প্রকাশ্য। কানেকটিকাটের এক নেতা লিখেছেন, “দল এখন এমন অবস্থায়, যেখানে সম্পর্কই যোগ্যতার প্রমাণ।” অপরদিকে এক যুবনেতা বলেন, “বছরের পর বছর একই নেতৃত্বে দল স্থবির হয়ে আছে। সময় এসেছে পরিবর্তনের।” 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দ্বন্দ্ব কেবল নেতৃত্ব নয়, প্রবাসী রাজনীতির আর্থিক ও প্রভাবনির্ভর সংস্কৃতির প্রতিফলনও বটে। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও সংগঠকরা দীর্ঘদিন ধরেই দলীয় কার্যক্রমে অর্থসাহায্য করে আসছেন। এক অর্থনীতিবিদ মন্তব্য করেন, “যখন অর্থদান ও পদবণ্টন পাশাপাশি চলে, তখন রাজনীতিতে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, যা অবশেষে বিভাজনের জন্ম দেয়।” 

অক্টোবরের মাঝামাঝি জ্যাকসন হাইটসে এক বিশেষ সভায় ১৬ জন জ্যেষ্ঠ নেতা বর্তমান কমিটির পদায়ন পুনর্বিবেচনা ও নতুন নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান। তাদের মতে, ব্যক্তিনির্ভর নয়, নীতিনির্ভর নেতৃত্বই দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারে। বিপরীতে তরুণ নেতারা যুক্তি দেন, “অতীতের চিন্তায় আটকে থাকলে কোনো সংগঠন টিকে থাকতে পারে না, পরিবর্তনই সংগঠনের প্রাণ।” 


সবশেষে, দলের ভেতরে এখন দুই পথ স্পষ্ট—সংস্কার ও আত্মসমালোচনার মাধ্যমে ঐক্য ফিরিয়ে আনা, অথবা বিভাজনের রাজনীতিতে ধীরে ধীরে বিশ্বাস হারানো। এক তরুণ নেতা বলেন, “আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী, কিন্তু সেই আদর্শ টিকিয়ে রাখতে হলে নেতৃত্বে যোগ্যতা, নীতি ও স্বচ্ছতাকে সর্বাগ্রে রাখতে হবে।”
 

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন