https://www.prothomalony.com/

7320

bangladesh

বাংলাদেশ

জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলই থাকলো

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৩ ১১:০৬

রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল (লিভ টু আপিল) আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল থাকছে। এর ফলে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকল। 

১৯ নভেম্বর রোববার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে এই রায় দেন। আদালতে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তানিয়া আমীর ও অ্যাডভোকেট আহসানুল করীম। এসময় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে প্রধান আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী ও তার অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। এজে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীনের প্রতিনিধিত্বকারী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান  বলেন, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল বহাল থাকবে।

জামায়াতে ইসলামী ও এর আইনজীবীরা পরবর্তী ব্যবস্থার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান তিনি।

গত ১ আগস্ট দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়া নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন অবৈধ বলে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে পক্ষভুক্তের আবেদন করেন সাবেক সংসদ সদস্য, মুক্তিযোদ্ধাসহ জামায়াতে সমর্থক ৪৭ নাগরিক। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় তাদের পক্ষে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নাল আবেদীন এ আবেদন করেন।

পরে জামায়াতের আইনজীবী প্যানেলের সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ সাংবাদিকদের বলেন, জামায়াতের নিবন্ধনের বিষয়ে আপিল বিভাগে বক্তব্য তুলে ধরতে ৪৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক আবেদন করেছেন। আবেদনকারীদের মধ্যে জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, হামিদুর রহমান আজাদ, হাফেজা আসমা খাতুন, মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. এম উমার আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আব্দুর রব এবং তিন জন বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন।

এদিকে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে নিবন্ধন অবৈধ করার বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক সভা, জনসভা বা মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা আবেদনে পক্ষভুক্ত হতে আবেদন করেন ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তারা শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা, লেখক, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্টজন। এ তথ্য নিশ্চিত করেন মামলার আইনজীবী ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর। ১৯ নভেম্বর রোববার  একই দিনে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদনসহ পৃথক দুটি আবেদনের ওপরেও শুনানি হওয়ার কথা ছিল। শেষ রিট আবেদনটিতে জামায়াতের নাম বা ব্যানার ব্যবহার করে সভা-সমাবেশ, মিছিলসহ যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আপিল বিভাগের আদেশ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। তিনি জানান, যেহেতু জামায়াতের আপিল খারিজ করে দেওয়া হয়েছে তাই আদালত এই ২ আবেদন গ্রহণ করেনি।

এর আগে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট নির্বাচন কমিশনে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আরেকটি রিট দায়ের করা হয়।বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ আরও দুইজন গত ২৬ জুন জামায়াতে ইসলামীর লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দলটিকে বৈধ রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করতে না পারার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন করেন। একই দিন জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমানসহ পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দল হিসেবে জনসভা করায় আদালত অবমাননার আবেদন করেন চাঁদপুরীসহ আরও দুজন।

জামায়াতে ইসলামীকে ঢাকায় কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়ায় কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগও আনা হয়। রোববার শুনানির সময় চাঁদপুরীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তানিয়া আমির ও আহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন