https://www.prothomalony.com/
7228
bangladesh
সরকার পতনের একদফা দাবিতে এখনো রাজপথে চলছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর আন্দোলন। এদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে পুরোদমে চলছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি, গঠন করা হয়ে গেছে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিও। দুই প্রতিপক্ষের পরস্পরবিরোধী এমন অবস্থানের মধ্যেই ভোটগ্রহণের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে প্ল্যাটফর্মে এসে গেছে ইসির নির্বাচনী ট্রেন। ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতিকেও নির্বাচনের পূর্ণ প্রস্তুতির বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে ইসির পক্ষ থেকে।
আগামী সপ্তাহে ঘোষণা হবে তফসিল। নির্বাচনী প্রস্তুতির ধারাবাহিকতায় ১০ নভেম্বর শুক্রবার ছুটির দিনেও চলেছে ইসির কর্মশালা; ৩২ জেলার প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) দেওয়া হয়েছে একগুচ্ছ নির্দেশনা। এখন হুইসেল বাজলেই অর্থাৎ তফসিল ঘোষণা হলেই যাত্রা শুরু হবে ইসির সেই ট্রেনের।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে পুরো দেশ মাতোয়ারা হয়ে আছে। পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিদিন বক্তব্য হচ্ছে। একটা ডাইমেনশনও পেয়ে গেছে। নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের একটা কাজ হচ্ছে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে যতদূর সম্ভব দৃশ্যমান করে তোলা, স্বচ্ছতা সৃষ্টি করা। স্বচ্ছতা সৃষ্টি করলে সম্ভাব্য অপপ্রচার ঢাকা পড়ে যাবে। স্বচ্ছতা মানে সত্যের স্বচ্ছতা, মিথ্যার স্বচ্ছতা। যদি অনাচার হয়, তাও তুলে ধরতে হবে।
আগামী সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণা হবে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, এখনও কমিশন সভা ডাকা হয়নি। যেদিন কমিশন সভা হবে সেদিনই তফসিল ঘোষণা হবে। টেলিভিশন ও রেডিওতে ভাষণের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তফসিল ঘোষণা করবেন।
ডিসি -এসপিদের উদ্দেশে কর্মশালায় সিইসি বলেন, ‘সমন্বয় করে সুন্দরভাবে নির্বাচন তুলে আনার চেষ্টা করবেন। ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বাধীনতা যেন ব্যাহত না হয়। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন। ভেতরে যদি সিল মারা হতে থাকে, কেউ না কেউ হয়তো তুলে (ছবি-ভিডিও) ফেলবে। সেটা যখন প্রচারিত হবে, তখন আমাদের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়তে পারে। কেন এটা হলো? আমাদের ব্যর্থতা অথবা অদক্ষতার বিষয়টি আসতে পারে।’
১০ নভেম্বর শুক্রবার সকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত দ্বিতীয় দফা প্রশিক্ষণে বিভাগীয় কমিশনার ও পুলিশ কমিশনার, উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি), জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, আপনারা এমনভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, যাতে নির্বাচন সত্যিকার অর্থে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হয়। এ চেষ্টা কীভাবে করবেন, সেটা জানি না। কারণ, ওই জ্ঞান আমার নেই, আপনাদের আছে। আমাদের বার্তা হচ্ছে, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ আর সুশৃঙ্খল করবেন।
ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম বলেন, নির্বাচনে কর্মকর্তাদের যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে। যাতে ভোটাররা নিজের ভোট নিজে দিতে পারেন, যাকে খুশি তাকে দিতে পারেন, এটা নিশ্চিত করতে হবে।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন ইটিআইয়ের মহাপরিচালক এসএম আসাদুজ্জামান। ৩২ জেলার ডিসি, এসপি, পুলিশ কমিশনার, বিভাগীয় কমিশনারসহ মাঠ প্রশাসনের ১১৪ জন কর্মকর্তা দুদিনের এ আবাসিক প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। এর আগে প্রথম ধাপের কর্মসূচিতে গত ১৪ ও ১৫ অক্টোবর অন্যান্য জেলার ডিসি, এসপি ও সংশ্লিষ্ট বিভাগে পুলিশ কমিশনার ও বিভাগীয় কমিশনারদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন