https://www.prothomalony.com/
6763
bangladesh
মার্কিন ভিসা নীতি, নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর থেকেই অস্থিরতা বিরাজ করছে রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তাদের মাঝে। এবার গুঞ্জন নিষেধাজ্ঞা আসছে ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের ওপর। সেই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) বাংলাদেশকে দেওয়া শুল্ক সুবিধা পুনর্বিবেচনা করতে পারে। এসব গুঞ্জনে বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা বেশ উদ্বিগ্ন।
এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ত যদি হয় তা কোনোভাবেই ব্যবসায়ীদের জন্য সুখকর হবে না বলে অভিমত বিজিএমইএর নেতৃবৃন্দের। বিশেষত ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার বাধাগ্রস্ত হলে তা দেশের পোশাক খাতের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে বলে জানান বিজিএমইএর সভাপতি।
বিজিএমইএ জানিয়েছে, চলতি বছরের এখন পর্যন্ত তৈরি পোশাক রপ্তানি গত বছরের তুলনায় ২৮ শতাংশ কম হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মতো বড় বাজারে মুদ্রাস্ফীতি বেশি হওয়ায় নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাংক ঋণের ওপর সুদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে দেশগুলো। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি গন্তব্যের দেশগুলো সুদের হার বাড়িয়ে দেওয়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। এর জেরে মানুষ নন ফুড আইটেম, যেমন পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য ক্রয় কমিয়ে দিয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে পোশাক রপ্তানিতে। যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ২০ শতাংশের বেশি। ইউরোপে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ।
ইউরোপের বাজারে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে দেওয়া শুল্কমুক্ত সুবিধা পুনর্মূল্যায়নের যে প্রস্তাব ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে উঠেছে তাতে পোশাক রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান।
সামনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সহিংস হয়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কায় বাংলাদেশে অর্ডার দিতে বায়ারদের মধ্যে দ্বিধা কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ। তাঁরা জানিয়েছেন, ক্রেতাদের শঙ্কা হচ্ছে, পোশাকের ক্রয়াদেশ দিলেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা হলে ঠিকমতো জাহাজীকরণ কঠিন হয়ে যাবে। তাছাড়া বায়ারদের মধ্যে আরও একটি ব্যাপার কাজ করছে, তা হলো বাংলাদেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নিষেধাজ্ঞায় পড়লে তাঁদের ব্যবসাও ঝুঁকিতে পড়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো মুদ্রাস্ফীতি ২ শতাংশে না নামা পর্যন্ত ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমাবে না। ফলে মানুষ শিগগিরই অতিরিক্ত ব্যয়ের দিকে যাচ্ছে না। এই অবস্থায় সামনের দিনগুলোতে পোশাক রপ্তানি আরও হোঁচট খাবে, এমনটাই ধারণা অর্থনীতিবিদদের।
শ্রম আইন সংশোধন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে দিন দিন চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে ইপিজেড এলাকায় যদি শ্রমিকদের শ্রমিক সংগঠন করার অধিকার দেওয়া না হয় তাহলে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি সমস্যায় পড়বে বলে বিজিএমইএকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন চাইলে অনেক বিষয়কে সামনে এনে আমাদের সমস্যায় ফেলতে পারে। এই জন্য সরকারের উচিত তাদের সঙ্গে আলাপ করে বিষয়গুলো সমাধান করা
ইউরোপে জিএসপি সুবিধা পাওয়ার অন্যতম শর্ত হচ্ছে কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা। ইউরোপের বাজারে কোনো দেশ তাদের মোট রপ্তানির সাড়ে ৬ শতাংশের বেশি রপ্তানি করলে জিএসপি সুবিধা পায় না। তবে বাংলাদেশের রপ্তানি ১০ শতাংশ ছাড়ালেও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে এত দিন জিএসপি সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত পণ্য রপ্তানি করে আসছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন সমস্যার কারণে শুল্কমুক্ত পণ্য রপ্তানির সুবিধা যদি উঠিয়ে দেয় তখন তৈরী পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা বিরাট সমস্যার সম্মুখীন হবেন।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন