https://www.prothomalony.com/
6748
bangladesh
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৩ ০৬:৪৬
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসা এমন ১০টি দেশের মধ্যে ৭টি দেশ থেকেই আয় আসা কমেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের উৎস বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্র, সেখান থেকে আয় আসা প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। ২০২৩ -২৪ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে আসা রেমিট্যান্স নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য থেকে এই পরিসংখ্যান পাওয়া যায়।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর দেশে দেড় বছর ধরে ডলার-সংকট চলছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়েছে। ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স আসা কমে যাওয়ায় সেই চাপ আরও বাড়ছে। চলতি অর্থবছরে প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৪৯১ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম। এর মধ্যে সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে ১৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, যা প্রায় সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশে রেমিট্যান্সের শীর্ষ ১০ উৎস হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, মালয়েশিয়া, কুয়েত, ইতালি, কাতার ও বাহরাইন। এই ১০টি দেশ থেকে ৮৬ শতাংশ প্রবাসী আয় এসেছে। এর মধ্যে ইউএই, যুক্তরাজ্য, ওমান থেকে প্রবাসী আয় আসা বেড়েছে। বাকি সাতটি দেশ থেকে কমেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে রেমিট্যান্স আসছে ঠিকই, তবে তা ব্যাংকিং মাধ্যমে কম আসছে, হুন্ডির চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণেই এমনটা হচ্ছে। সাধারণত অর্থ পাচার বেড়ে গেলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এদিকে ব্যাংকিং মাধ্যমে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার কারণে রিজার্ভের ওপরও চাপ বেড়েছে। তাই হুন্ডির দুষ্ট চক্র থেকে বের হতে অর্থ পাচার রোধ করতেই হবে।
অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে দেশের মোট জনশক্তি রপ্তানির প্রায় ৫৪ শতাংশই হয়েছে সৌদি আরবে। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬ শতাংশ ওমানে। তৃতীয় স্থানে থাকা ইউএইতে রপ্তানি হয় ৯ শতাংশ জনশক্তি।
মধপ্রাচ্যের মতো যুক্তরাষ্ট্রে জনশক্তি রপ্তানি না হলেও সেখানে স্থায়ীভাবে কয়েক লাখ বাংলাদেশি থাকেন। প্রতিবছর কয়েক হাজার শিক্ষার্থী দেশটিতে যান। মূলত তারাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকেন।
২০১৯-২০ অর্থবছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৪০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স আসে। পরের বছর সেটি ৩৪৬ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। তখন থেকেই রেমিট্যান্সে দ্বিতীয় শীর্ষ উৎস দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যা গত দুই বছরও বজায় ছিল।
চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটি থেকে এসেছিল ৯৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এর মানে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটি থেকে রেমিট্যান্স আসা কমেছে ৪৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। এতে রেমিট্যান্স আয়ে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থান থেকে চতুর্থ অবস্থানে নেমে গেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বিশেষজ্ঞদের মতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের বড় অংশই শিক্ষিত। তাদের আয় না কমলেও দেশে আয় পাঠানো কমিয়ে দিয়েছেন। বৈধ পথের চেয়ে হুন্ডিতে দাম অনেক বেশি, এ জন্য এখন অনেকেই সেই পথ বেছে নিচ্ছেন। এ ছাড়া আয় পাঠানোর আগে অনেকেই দেশের সার্বিক পরিস্থিতিকেও বিবেচনায় নিচ্ছেন।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন