https://www.prothomalony.com/
6732
bangladesh
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৩ ০৯:২৯
৪ অক্টোবর বুধবার নির্বাচন ভবনে ‘অবাধ ভোটাধিকার: প্রার্থী ও পোলিং এজেন্টদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, কাউকে ভোটে নিয়ে আসা আমাদের দায়িত্ব না। তবুও আমরা আমাদের নৈতিক অবস্থান থেকে অনেকবার দাওয়াত করেছি। ডিও লেটার পর্যন্ত লেখেছি। এর বেশি আমরা আর কিছু করতে পারছি না। কর্মশালায় নির্বাচন কমিশনার ও বিশিষ্টজনেরাও অংশ নেন।
সিইসি আরো বলেন, কে এলো কে এলো না- আমরা সেটা নিয়ে মাথা ঘামাবো না। ইফেকটিভ কনটেস্ট হলে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভারসাম্য সৃষ্টি হয়ে যায়।
সিইসি আরও বলেন, ভোট কেন্দ্রে একজন পোলিং এজেন্ট থাকে, তারা যদি শক্তভাবে দায়িত্ব পালন করে তাহলে ভোট ভালো হবে। ভোটে কারচুপি কম হবে।
সিইসি বলেন, আমরা এখনো নির্মোহ সুশীল সমাজ তৈরি করতে পারিনি। তবে আশা করবো নিরপেক্ষ সুশীল সমাজ তৈরি হবে যারা আমাদের গাইড করবেন।
বিদেশিদের বিষয়ে সিইসি বলেন, আমরা আমেরিকা গিয়ে কথা বলতে পারি না। আমাদের দেশে এসে তারা কথা বলেন। এই ক্ষেত্রটা আমরাই তৈরি করে দিয়েছি।
সাবেক ইসি মো. শাহনেওয়াজ বলেন, নির্বাচন কমিশনকে এখনই সারেন্ডার (আত্মসমর্পণ) পরিস্থিতিতে আসলে চলবে না। তাদের সব সময় পজিটিভ ভাবনা থাকতে হবে। মনে করতে হবে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হবে।
কর্মশালায় অংশ নিয়ে বিশিষ্টজনেরাও তাদের মত দেন। তারা বলেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একার পক্ষে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব নয়। এ জন্য রাজনৈতিক দল, ভোটার, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অংশ না নিলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে না।
কর্মশালায় অংশ নিয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের নিশ্চিৎ করা বড় চ্যালেঞ্জ।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন করা শুধু নির্বাচন কমিশনের নয়, জাতির জন্যও চ্যালেঞ্জ। সরকারের জন্য এই নির্বাচন চ্যালেঞ্জ। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব এবার তার প্রমাণ দিতে হবে।
ভালো নির্বাচন হতে কমিশন কোনো সমস্যা নয় মন্তব্য করে আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, সমস্যাটা হলো রাজনৈতিক দলগুলো যখন ভালো নির্বাচনের দায়িত্ব নেয় না বা অংশ গ্রহণ করে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, মানুষ কিন্তু ভয়ে আছে রক্তপাত হয় কি না, ধর্মঘট হয়ে যায় কি না। নির্বাচন অবশ্যই জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হতে হবে।
ইসির দায়িত্ব না হলেও সংলাপের জোর দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এ শামীম রেজা।
এ ছাড়াও কর্মশালায় একুশে টিভির সিইও পীযূশ বন্দোপাধ্যায়, ইসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন